ঢাকা ০৯:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

জামালপুরে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো: ১৮ বছর ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে ৫০ হাজার মানুষ

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের নাংলা বাধের মাথা এলাকায় যমুনার একটি শাখা নদীর ওপর সেতুর অভাবে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ গত দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। চারটি ইউনিয়নের অন্তত ১৫টি গ্রামের মানুষের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ১০০ মিটার দীর্ঘ একটি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো, যা বছরের পর বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় টিকে আছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ১৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে তারা একটি সেতুর দাবি জানিয়ে এলেও কোনো সুরাহা হয়নি। প্রতিটি নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধিরা সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচনের পর আর কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ে না। ফলে, এই অঞ্চলের মানুষের ভোগান্তি বেড়েই চলেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, স্থানীয়দের উদ্যোগে কয়েক বছর আগে নির্মিত বাঁশের সাঁকোটির কাঠ ও বাঁশের অনেক অংশ পচে গেছে। বিভিন্ন স্থানে পাটাতন ভেঙে ফাঁকা হয়ে যাওয়ায় এটি সব সময়ই দুলতে থাকে, যা পারাপারের সময় মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে। প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সাঁকো ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। বয়স্ক ব্যক্তি, নারী, শিশু, অসুস্থ রোগী এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন।

সেতুর অভাবে অ্যাম্বুলেন্স চলাচল করতে না পারায় জরুরি রোগী এবং গর্ভবতী মায়েদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। কৃষকরাও সময়মতো তাদের কৃষিপণ্য বাজারে নিতে না পারায় ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা তাদের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলছে। স্থানীয় বাসিন্দা জহুরুল হক আক্ষেপ করে বলেন, যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো না থাকায় এই এলাকায় মানুষ আত্মীয় করতে চায় না। তিনি আর কিছু না চেয়ে কেবল একটি সেতুর দাবি জানান। শিক্ষার্থী তাওহীদ আহমেদ জানান, ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো পার হতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী পা পিছলে পানিতে পড়ে বইপত্র নষ্ট করেছে এবং আহত হয়েছে।

বালিজুড়ীর সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল ইসলাম মুসা বলেন, একটি সেতুর অভাবে ১৫ গ্রামের হাজারো মানুষ প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। সেতু নির্মাণ হলে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা, কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম জানান, গাবেরগ্রাম-নাংলা সড়কের নাংলা বাধের মাথা এলাকায় একটি সেতু নির্মাণের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন মিললেই প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘জাতীয় পাহাড়ি কৃষি মিশন’ গঠন ও টেকসই সবুজ অর্থনীতির নতুন স্বপ্ন

জামালপুরে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো: ১৮ বছর ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে ৫০ হাজার মানুষ

আপডেট সময় : ০৫:৫৩:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের নাংলা বাধের মাথা এলাকায় যমুনার একটি শাখা নদীর ওপর সেতুর অভাবে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ গত দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। চারটি ইউনিয়নের অন্তত ১৫টি গ্রামের মানুষের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ১০০ মিটার দীর্ঘ একটি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো, যা বছরের পর বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় টিকে আছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ১৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে তারা একটি সেতুর দাবি জানিয়ে এলেও কোনো সুরাহা হয়নি। প্রতিটি নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধিরা সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচনের পর আর কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ে না। ফলে, এই অঞ্চলের মানুষের ভোগান্তি বেড়েই চলেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, স্থানীয়দের উদ্যোগে কয়েক বছর আগে নির্মিত বাঁশের সাঁকোটির কাঠ ও বাঁশের অনেক অংশ পচে গেছে। বিভিন্ন স্থানে পাটাতন ভেঙে ফাঁকা হয়ে যাওয়ায় এটি সব সময়ই দুলতে থাকে, যা পারাপারের সময় মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে। প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সাঁকো ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। বয়স্ক ব্যক্তি, নারী, শিশু, অসুস্থ রোগী এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন।

সেতুর অভাবে অ্যাম্বুলেন্স চলাচল করতে না পারায় জরুরি রোগী এবং গর্ভবতী মায়েদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। কৃষকরাও সময়মতো তাদের কৃষিপণ্য বাজারে নিতে না পারায় ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা তাদের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলছে। স্থানীয় বাসিন্দা জহুরুল হক আক্ষেপ করে বলেন, যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো না থাকায় এই এলাকায় মানুষ আত্মীয় করতে চায় না। তিনি আর কিছু না চেয়ে কেবল একটি সেতুর দাবি জানান। শিক্ষার্থী তাওহীদ আহমেদ জানান, ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো পার হতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী পা পিছলে পানিতে পড়ে বইপত্র নষ্ট করেছে এবং আহত হয়েছে।

বালিজুড়ীর সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল ইসলাম মুসা বলেন, একটি সেতুর অভাবে ১৫ গ্রামের হাজারো মানুষ প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। সেতু নির্মাণ হলে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা, কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম জানান, গাবেরগ্রাম-নাংলা সড়কের নাংলা বাধের মাথা এলাকায় একটি সেতু নির্মাণের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন মিললেই প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।