লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছেন। এই বৈঠককে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে বৈরুতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বৃদ্ধির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারের জন্য ইসরায়েল হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণকে অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে বিবেচনা করছে, যা এই আলোচনার মূল বিষয়বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের একদিন আগে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় ওয়াশিংটনের উদ্যোগে একটি চুক্তি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় দক্ষিণ লেবাননের কিছু ‘পরীক্ষামূলক এলাকায়’ লেবাননের সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করবে। এসব এলাকা মূলত দক্ষিণ লেবাননের সেই সব অঞ্চলের কাছাকাছি, যা মার্চ মাসে হিজবুল্লাহর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার পর ইসরায়েল দখল করেছিল।
প্রেসিডেন্ট আউন, যিনি হিজবুল্লাহর যুদ্ধের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচক, আশা করছেন যে ট্রাম্প ইসরায়েলকে লেবাননের দখল করা ভূখণ্ড থেকে সেনা প্রত্যাহারে আরও চাপ দেবেন। তবে ইসরায়েল বারবার তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে যে, হিজবুল্লাহ সশস্ত্র থাকা পর্যন্ত তারা সেনা প্রত্যাহার করবে না। ওয়াশিংটনও ইসরায়েলের এই অবস্থানকে সমর্থন করছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও রোববার আউনের সঙ্গে বৈঠকের পর বলেন, ‘এই সমস্যা যতদিন থাকবে, ততদিন পর্যন্ত লেবাননে প্রকৃত শান্তি আসবে না।’
এর আগে, এক বিবৃতিতে রুবিও লেবানন সরকারের ‘সাহসিকতার প্রশংসা’ করে বলেন, দেশটি ‘লেবাননের সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার, হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা ও তাদের সশস্ত্র অবকাঠামো ভেঙে দিতে দৃঢ়ভাবে কাজ করছে।’ ২০০৯ সালের পর আউনই প্রথম লেবাননের প্রেসিডেন্ট, যাকে ওয়াশিংটন সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কার্নেগি মিডল ইস্ট সেন্টারের পরিচালক মাহা ইয়াহিয়া এই বৈঠককে ‘লেবাননের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত আগ্রহের প্রমাণ’ হিসেবে দেখলেও, এর মাধ্যমে লেবাননের কাছে আরও কী ধরনের পদক্ষেপ প্রত্যাশা করা হবে, তা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।
সাবেক সেনাপ্রধান আউন ২০২৫ সালের শুরুতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণের অঙ্গীকার করে আসছেন। পশ্চিমা সমর্থনে তার নির্বাচিত হওয়াকে লেবাননের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন হিসেবে দেখা হয়। তবে হিজবুল্লাহ বারবার অস্ত্র ত্যাগের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে, যা এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলছে।
রিপোর্টারের নাম 

























