জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) রসায়ন বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী সুমিতা সাজনীন মারুফা যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা অর্জনে এক অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছেন। তিনি দেশটির পাঁচটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষার প্রস্তাব পেয়েছেন, যার মধ্যে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি পূর্ণ অর্থায়নে ডক্টরেট (পিএইচডি) করার সুযোগ পেয়েছেন।
সুমিতা জবির রসায়ন বিভাগের একাদশ ব্যাচের শিক্ষার্থী। তার পাওয়া পূর্ণ অর্থায়নের পিএইচডি সুযোগগুলো হলো হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয়, টেনেসি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলোরাডো স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়াও, তিনি টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় (অস্টিন) এবং ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর কর্মসূচিতে ভর্তির প্রস্তাবও পেয়েছেন।
অধ্যাপক ড. মো. আমিনুল হক এবং অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের তত্ত্বাবধানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েই সুমিতার গবেষণার পথচলা শুরু হয়েছিল। তার প্রাথমিক গবেষণার বিষয় ছিল বিভিন্ন হেটারোসাইক্লিক যৌগের সংশ্লেষণ এবং পরীক্ষাগার ও কম্পিউটারভিত্তিক পদ্ধতিতে সেগুলোর জৈবিক কার্যকারিতা মূল্যায়ন।
গবেষণার ধারাবাহিকতায় সুমিতা আন্তর্জাতিক মানের ১২টি গবেষণা প্রবন্ধ বিভিন্ন রসায়ন ও আণবিক বিজ্ঞানবিষয়ক স্বীকৃত সাময়িকীতে প্রকাশ করেছেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) অধীন গ্লাস এবং সিরামিক গবেষণা ও পরীক্ষণ ইনস্টিটিউটে কাজ করছেন। সেখানে তিনি COFs (Covalent Organic Frameworks)-ভিত্তিক উন্নত কার্যকর উপকরণ নিয়ে গবেষণা করছেন, যার বিষয় কার্বন ডাই-অক্সাইড ধারণ, গ্যাস পৃথকীকরণ এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি উন্নয়ন, যা ভবিষ্যতে টেকসই প্রযুক্তি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সুমিতা বলেন, “উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে শুরু থেকেই পরিকল্পিত প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। স্নাতকোত্তরে ভর্তি হওয়ার জন্য অপেক্ষা না করে স্নাতক শেষ বর্ষ থেকেই উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন সুযোগ সম্পর্কে জানার পাশাপাশি গবেষণায় যুক্ত হওয়া উচিত।” তিনি আরও যোগ করেন, গবেষণার অভিজ্ঞতা, পরীক্ষাগারে কাজের দক্ষতা এবং নতুন কিছু শেখার আগ্রহ একজন শিক্ষার্থীকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রাখে। এমনকি গবেষণাপত্র প্রকাশিত না হলেও গবেষণায় সক্রিয় অংশগ্রহণ ও অর্জিত অভিজ্ঞতা উচ্চশিক্ষার আবেদন প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
রিপোর্টারের নাম 

























