ঢাকা ০৮:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কঠোরতা: বিশ্বজুড়ে আইন প্রণয়নে আগ্রহী দেশগুলো

বিশ্বজুড়ে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের প্রবণতা বাড়ছে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের ডিজিটাল সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশ নতুন আইন প্রণয়ন করছে বা বিদ্যমান আইনকে আরও শক্তিশালী করছে। ফ্রান্সের পার্লামেন্টে সম্প্রতি ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যা এই বৈশ্বিক প্রচেষ্টারই অংশ।

বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ২০টি দেশ ইতোমধ্যে এ ধরনের আইন প্রস্তাব করেছে অথবা কার্যকর করেছে। এর মধ্যে অন্তত পাঁচটি দেশে বিধিনিষেধগুলো ইতোমধ্যেই বলবৎ আছে। এই দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, যেখানে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ব্রাজিলে মার্চ মাসে পাস হওয়া আইন অনুযায়ী, ১৬ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট তাদের অভিভাবকের অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত রাখা এবং বয়স যাচাই করা প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক।

ইন্টারনেটের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণের জন্য পরিচিত চীনে, ২০১৯ সাল থেকে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে ধাপে ধাপে বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে অনলাইন গেমসের জন্য সময়সীমা ও কারফিউ চালু হলেও, ২০২৩ সালে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মেও সম্প্রসারিত হয়। ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়াও একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে; মার্চ মাস থেকে ইন্দোনেশিয়ায় এবং জুন থেকে মালয়েশিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ।

তুরস্কও এই তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছে। গত এপ্রিল মাসে ১৫ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করে একটি আইন পাস হয়েছে, যা ২০২৬ সালের শেষ দিকে কার্যকর হবে। সংযুক্ত আরব আমিরাতও গত মাসে ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে, যা প্রায় এক বছর পর কার্যকর হবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ২৭ সদস্য রাষ্ট্রও এ বিষয়ে সক্রিয়। চলতি বছরের শেষ দিকে ইউরোপীয় কমিশন ১৩ বছরের কম বয়সীদের জন্য সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা এবং ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের জন্য ধাপে ধাপে প্রবেশাধিকার চালুর প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে। ইইউ সদস্য গ্রিস সরকার গত এপ্রিলের শুরুতে ঘোষণা করেছে যে, তারা ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে চায়। বিশ্বব্যাপী শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ধরনের আইন প্রণয়নের উদ্যোগ গুরুত্ব পাচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সর্বনিম্ন হজ প্যাকেজ ৫০৫৬৪৮ টাকা, বিমানভাড়া কমল ২৪ হাজার

শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কঠোরতা: বিশ্বজুড়ে আইন প্রণয়নে আগ্রহী দেশগুলো

আপডেট সময় : ০২:২৩:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

বিশ্বজুড়ে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের প্রবণতা বাড়ছে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের ডিজিটাল সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশ নতুন আইন প্রণয়ন করছে বা বিদ্যমান আইনকে আরও শক্তিশালী করছে। ফ্রান্সের পার্লামেন্টে সম্প্রতি ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যা এই বৈশ্বিক প্রচেষ্টারই অংশ।

বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ২০টি দেশ ইতোমধ্যে এ ধরনের আইন প্রস্তাব করেছে অথবা কার্যকর করেছে। এর মধ্যে অন্তত পাঁচটি দেশে বিধিনিষেধগুলো ইতোমধ্যেই বলবৎ আছে। এই দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, যেখানে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ব্রাজিলে মার্চ মাসে পাস হওয়া আইন অনুযায়ী, ১৬ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট তাদের অভিভাবকের অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত রাখা এবং বয়স যাচাই করা প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক।

ইন্টারনেটের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণের জন্য পরিচিত চীনে, ২০১৯ সাল থেকে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে ধাপে ধাপে বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে অনলাইন গেমসের জন্য সময়সীমা ও কারফিউ চালু হলেও, ২০২৩ সালে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মেও সম্প্রসারিত হয়। ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়াও একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে; মার্চ মাস থেকে ইন্দোনেশিয়ায় এবং জুন থেকে মালয়েশিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ।

তুরস্কও এই তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছে। গত এপ্রিল মাসে ১৫ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করে একটি আইন পাস হয়েছে, যা ২০২৬ সালের শেষ দিকে কার্যকর হবে। সংযুক্ত আরব আমিরাতও গত মাসে ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে, যা প্রায় এক বছর পর কার্যকর হবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ২৭ সদস্য রাষ্ট্রও এ বিষয়ে সক্রিয়। চলতি বছরের শেষ দিকে ইউরোপীয় কমিশন ১৩ বছরের কম বয়সীদের জন্য সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা এবং ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের জন্য ধাপে ধাপে প্রবেশাধিকার চালুর প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে। ইইউ সদস্য গ্রিস সরকার গত এপ্রিলের শুরুতে ঘোষণা করেছে যে, তারা ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে চায়। বিশ্বব্যাপী শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ধরনের আইন প্রণয়নের উদ্যোগ গুরুত্ব পাচ্ছে।