ঢাকা ০৭:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

লেবাননের প্রেসিডেন্ট আউন-ট্রাম্প বৈঠক: হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার চাপ

লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হবেন। এই বৈঠককে কেন্দ্র করে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার বিষয়ে বৈরুতের ওপর মার্কিন চাপ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করাকে দেখা হচ্ছে।

এই বৈঠকের একদিন আগে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে যে, লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে আলোচনার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ওয়াশিংটনের উদ্যোগে একটি চুক্তি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় দক্ষিণ লেবাননের কিছু ‘পরীক্ষামূলক এলাকায়’ নিয়ন্ত্রণ নেবে লেবাননের সেনাবাহিনী। এই এলাকাগুলো মূলত হিজবুল্লাহ মার্চ মাসে লেবাননকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলার পর ইসরাইল দখল করেছিল, সেই অঞ্চলগুলোর কাছাকাছি অবস্থিত।

হিজবুল্লাহর যুদ্ধ সিদ্ধান্তের একজন কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত প্রেসিডেন্ট আউন আশা করছেন যে, ট্রাম্প ইসরাইলকে লেবাননের দখল করা ভূখণ্ড থেকে সেনা প্রত্যাহারে আরও বেশি চাপ দেবেন। তবে, ইসরাইল বরাবরই জানিয়ে আসছে যে, হিজবুল্লাহ সশস্ত্র থাকা পর্যন্ত তারা সেনা প্রত্যাহার করবে না। ওয়াশিংটনও ইসরাইলের এই অবস্থানকে সমর্থন করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও রবিবার আউনের সঙ্গে বৈঠকের পর বলেন, ‘এই সমস্যা যতদিন থাকবে, ততদিন পর্যন্ত লেবাননে প্রকৃত শান্তি আসবে না।’ এর আগে এক বিবৃতিতে পম্পেও লেবানন সরকারের ‘সাহসিকতার প্রশংসা’ করে বলেন, দেশটির সরকার ‘লেবাননের সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার, হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা এবং তাদের সশস্ত্র অবকাঠামো ভেঙে দিতে দৃঢ়ভাবে কাজ করছে।’

২০০৯ সালের পর জোসেফ আউনই প্রথম লেবাননের প্রেসিডেন্ট, যাকে ওয়াশিংটন সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কার্নেগি মিডল ইস্ট সেন্টারের পরিচালক মাহা ইয়াহিয়া বলেন, এই বৈঠক ‘লেবাননের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত আগ্রহের প্রমাণ’, তবে এর মাধ্যমে লেবাননের কাছে আরও কী ধরনের পদক্ষেপ প্রত্যাশা করা হবে, তা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে। সাবেক সেনাপ্রধান আউন ২০১৫ সালের শুরুতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার অঙ্গীকার করে আসছেন। পশ্চিমা সমর্থনে তার নির্বাচিত হওয়াকে লেবাননের রাজনীতিতে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন হিসেবে দেখা হয়। তবে, হিজবুল্লাহ বারবার অস্ত্র ত্যাগের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সর্বনিম্ন হজ প্যাকেজ ৫০৫৬৪৮ টাকা, বিমানভাড়া কমল ২৪ হাজার

লেবাননের প্রেসিডেন্ট আউন-ট্রাম্প বৈঠক: হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার চাপ

আপডেট সময় : ০১:৩৩:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হবেন। এই বৈঠককে কেন্দ্র করে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার বিষয়ে বৈরুতের ওপর মার্কিন চাপ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করাকে দেখা হচ্ছে।

এই বৈঠকের একদিন আগে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে যে, লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে আলোচনার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ওয়াশিংটনের উদ্যোগে একটি চুক্তি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় দক্ষিণ লেবাননের কিছু ‘পরীক্ষামূলক এলাকায়’ নিয়ন্ত্রণ নেবে লেবাননের সেনাবাহিনী। এই এলাকাগুলো মূলত হিজবুল্লাহ মার্চ মাসে লেবাননকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলার পর ইসরাইল দখল করেছিল, সেই অঞ্চলগুলোর কাছাকাছি অবস্থিত।

হিজবুল্লাহর যুদ্ধ সিদ্ধান্তের একজন কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত প্রেসিডেন্ট আউন আশা করছেন যে, ট্রাম্প ইসরাইলকে লেবাননের দখল করা ভূখণ্ড থেকে সেনা প্রত্যাহারে আরও বেশি চাপ দেবেন। তবে, ইসরাইল বরাবরই জানিয়ে আসছে যে, হিজবুল্লাহ সশস্ত্র থাকা পর্যন্ত তারা সেনা প্রত্যাহার করবে না। ওয়াশিংটনও ইসরাইলের এই অবস্থানকে সমর্থন করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও রবিবার আউনের সঙ্গে বৈঠকের পর বলেন, ‘এই সমস্যা যতদিন থাকবে, ততদিন পর্যন্ত লেবাননে প্রকৃত শান্তি আসবে না।’ এর আগে এক বিবৃতিতে পম্পেও লেবানন সরকারের ‘সাহসিকতার প্রশংসা’ করে বলেন, দেশটির সরকার ‘লেবাননের সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার, হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা এবং তাদের সশস্ত্র অবকাঠামো ভেঙে দিতে দৃঢ়ভাবে কাজ করছে।’

২০০৯ সালের পর জোসেফ আউনই প্রথম লেবাননের প্রেসিডেন্ট, যাকে ওয়াশিংটন সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কার্নেগি মিডল ইস্ট সেন্টারের পরিচালক মাহা ইয়াহিয়া বলেন, এই বৈঠক ‘লেবাননের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত আগ্রহের প্রমাণ’, তবে এর মাধ্যমে লেবাননের কাছে আরও কী ধরনের পদক্ষেপ প্রত্যাশা করা হবে, তা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে। সাবেক সেনাপ্রধান আউন ২০১৫ সালের শুরুতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার অঙ্গীকার করে আসছেন। পশ্চিমা সমর্থনে তার নির্বাচিত হওয়াকে লেবাননের রাজনীতিতে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন হিসেবে দেখা হয়। তবে, হিজবুল্লাহ বারবার অস্ত্র ত্যাগের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।