ঢাকা ০৭:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা: কৌশল ও কারণ বিশ্লেষণ

যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে ইরান সরাসরি মার্কিন নৌবহর বা ইসরাইলে আঘাত না করে উপসাগরীয় দেশগুলোর সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা বৃদ্ধি করেছে। কুয়েত, বাহরাইন এবং জর্ডানের মতো দেশগুলোর ওপর এ আক্রমণ চালানো হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত না করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করাই তেহরানের এই কৌশলের মূল উদ্দেশ্য। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের রেলপথ, বিদ্যুৎকেন্দ্র, টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পানীয় জলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর প্রতিশোধ হিসেবে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) কুয়েত ও বাহরাইনের বিমানবন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং পানি শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে।

লেবাননের সাবেক সামরিক কর্মকর্তা ও বিশ্লেষক ইলিয়াস হান্না আলজাজিরাকে জানিয়েছেন, মার্কিন নৌবহরে সরাসরি হামলা চালানো সামরিকভাবে অত্যন্ত কঠিন, কারণ সেগুলো অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা সুরক্ষিত। তাছাড়া, মার্কিন জাহাজে হামলা চালালে ওয়াশিংটন থেকে যে ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া আসতে পারে, তা এড়াতে ইরান এই বিকল্প পথ বেছে নিয়েছে।

অন্যদিকে, তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক আতিফে তাঘিয়ানি দাবি করেছেন, মার্কিন বাহিনী উপসাগরীয় দেশগুলোর ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালাচ্ছে। তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ইরান সেসব ভূমিতে পাল্টা হামলা চালানোর অধিকার রাখে।

তবে কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আবদুল্লাহ আল-শায়জি এই দাবিকে ইরানের ‘প্রচারণা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, সব হামলা পরিচালিত হচ্ছে উপকূল থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরে থাকা মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ‘জর্জেস ডব্লিউ বুশ’ এবং ‘আব্রাহাম লিংকন’ থেকে। উপসাগরীয় কোনো দেশ তাদের ভূখণ্ড হামলার জন্য ব্যবহার করতে দেয়নি এবং এ বিষয়ে তারা তেহরানকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। আল-শায়জির মতে, ইরান কড়া গরমে কুয়েতের প্রধান ভরসা পানি শোধনাগারে হামলা চালিয়ে সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন করছে। তিনি মনে করেন, উপসাগরীয় দেশগুলোকে নিশানা বানিয়ে ট্রাম্পকে যুদ্ধ বন্ধে রাজি করানোর তেহরানের প্রচেষ্টা একটি ব্যর্থ কৌশল।

কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহকারী অধ্যাপক আবদুল্লাহ বান্দার আল-ওতাইবি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান কেউই পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ চায় না। তাই উভয় পক্ষই অত্যন্ত সতর্কতার সাথে লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন করছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদারীপুরে একাধিক মামলার আসামি যুবলীগ নেতা নাঈম খান গ্রেপ্তার

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা: কৌশল ও কারণ বিশ্লেষণ

আপডেট সময় : ০১:১৪:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে ইরান সরাসরি মার্কিন নৌবহর বা ইসরাইলে আঘাত না করে উপসাগরীয় দেশগুলোর সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা বৃদ্ধি করেছে। কুয়েত, বাহরাইন এবং জর্ডানের মতো দেশগুলোর ওপর এ আক্রমণ চালানো হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত না করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করাই তেহরানের এই কৌশলের মূল উদ্দেশ্য। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের রেলপথ, বিদ্যুৎকেন্দ্র, টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পানীয় জলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর প্রতিশোধ হিসেবে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) কুয়েত ও বাহরাইনের বিমানবন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং পানি শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে।

লেবাননের সাবেক সামরিক কর্মকর্তা ও বিশ্লেষক ইলিয়াস হান্না আলজাজিরাকে জানিয়েছেন, মার্কিন নৌবহরে সরাসরি হামলা চালানো সামরিকভাবে অত্যন্ত কঠিন, কারণ সেগুলো অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা সুরক্ষিত। তাছাড়া, মার্কিন জাহাজে হামলা চালালে ওয়াশিংটন থেকে যে ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া আসতে পারে, তা এড়াতে ইরান এই বিকল্প পথ বেছে নিয়েছে।

অন্যদিকে, তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক আতিফে তাঘিয়ানি দাবি করেছেন, মার্কিন বাহিনী উপসাগরীয় দেশগুলোর ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালাচ্ছে। তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ইরান সেসব ভূমিতে পাল্টা হামলা চালানোর অধিকার রাখে।

তবে কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আবদুল্লাহ আল-শায়জি এই দাবিকে ইরানের ‘প্রচারণা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, সব হামলা পরিচালিত হচ্ছে উপকূল থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরে থাকা মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ‘জর্জেস ডব্লিউ বুশ’ এবং ‘আব্রাহাম লিংকন’ থেকে। উপসাগরীয় কোনো দেশ তাদের ভূখণ্ড হামলার জন্য ব্যবহার করতে দেয়নি এবং এ বিষয়ে তারা তেহরানকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। আল-শায়জির মতে, ইরান কড়া গরমে কুয়েতের প্রধান ভরসা পানি শোধনাগারে হামলা চালিয়ে সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন করছে। তিনি মনে করেন, উপসাগরীয় দেশগুলোকে নিশানা বানিয়ে ট্রাম্পকে যুদ্ধ বন্ধে রাজি করানোর তেহরানের প্রচেষ্টা একটি ব্যর্থ কৌশল।

কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহকারী অধ্যাপক আবদুল্লাহ বান্দার আল-ওতাইবি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান কেউই পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ চায় না। তাই উভয় পক্ষই অত্যন্ত সতর্কতার সাথে লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন করছে।