ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিতর্কিত মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ‘নিট’ (NEET)–এর প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং নানা দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলা ধারাবাহিক প্রতিবাদের মধ্যেই নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়ে আন্দোলন করার বড় ঘোষণা দিয়েছেন পাঞ্জাবের কৃষক সমাজ। এই কৃষক আন্দোলনের ঘোষণার ফলে দেশটির বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ও অস্থিরতা চরম আকার ধারণ করছে।
আজ মঙ্গলবার ‘দেশ বাঁচাও মোর্চা’ ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ভারতের পাঞ্জাবের বিভিন্ন জেলা ও গ্রামীণ অঞ্চল থেকে হাজার হাজার কৃষক তাঁদের নিজস্ব ট্র্যাক্টর মিছিল নিয়ে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হওয়ার ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। কৃষকদের ব্যবহৃত শত শত ট্র্যাক্টরে ভারতের জাতীয় পতাকার পাশাপাশি তাঁদের বিভিন্ন দাবি-সংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুন শক্তভাবে টাঙানো হচ্ছে। গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে আন্দোলনকারী কৃষকেরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে তাঁদের মূল দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা কোনোভাবেই নিজেদের ঘরে ফিরে যাবেন না।
আন্দোলনরত কৃষকদের প্রধান অভিযোগ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরকারের একটি কথিত ‘গোপন’ বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর হতে চলেছে, যা সার্বিকভাবে ভারতের স্থানীয় কৃষকদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। পাঞ্জাবের কৃষকদের তীব্র আশঙ্কা, এই চুক্তি চূড়ান্ত রূপ পেলে সস্তা মূল্যের আমেরিকান কৃষিপণ্য খুব সহজেই ভারতের স্থানীয় বাজারে অবাধে প্রবেশ করবে। এর সরাসরি পরিণতি হিসেবে দেশীয় কৃষকেরা অসম ও মারাত্মক প্রতিযোগিতার মুখে পড়বেন এবং আর্থিক ধ্বংসের মুখোমুখি হবেন।
অন্যদিকে, গত সোমবারেই ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বিতর্কিত ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-এর পক্ষ থেকে ডাকা ‘সংসদ চলো’ অভিযান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকা জুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দলটির প্রায় ২০ হাজার উত্তেজিত সমর্থক ও কর্মী ব্যানার নিয়ে একযোগে সংসদ ভবনের দিকে দ্রুত অগ্রসর হতে থাকলে সেখানে দায়িত্বরত দিল্লি পুলিশ ও অতিরিক্ত র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) তাঁদের সামনে এসে শক্ত বাধা প্রদান করে। সে সময় উদ্ভূত অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ও বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী টিয়ারগ্যাস বা কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে এবং সজোরে লাঠিচার্জ চালায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই কড়া পদক্ষেপে রাজধানীর কয়েকটি নির্দিষ্ট এলাকায় বিক্ষোভকারী নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে দফায় দফায় তীব্র ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের মতো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।
উল্লেখ্য, সমগ্র ভারতজুড়ে বহুল আলোচিত নিট (NEET) পরীক্ষার নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানাতে এবং একই সাথে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের দ্রুত পদত্যাগের দাবিতেই মূলত এই উত্তপ্ত বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল। দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিট পরীক্ষা নিয়ে চলমান ছাত্র ও সাধারণ বিক্ষোভের একেবারে মধ্যিখানে পাঞ্জাবের কৃষকদের এই নতুন ও বিশালাকার আন্দোলন মোদী সরকারের ওপর বিশাল মানসিক ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যা সার্বিকভাবে পুরো ভারতের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও অনেক বেশি জটিল ও নিয়ন্ত্রণহীন করে তুলতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 
























