ঢাকা ০৫:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

কেশবপুরে অবৈধ কেমিক্যাল কারখানার বর্জ্যে জনস্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্য চরম ঝুঁকিতে

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৫:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

যশোরের কেশবপুরে একটি অবৈধ কেমিক্যাল কারখানার রাসায়নিক বর্জ্য মারাত্মক পরিবেশ দূষণ ঘটাচ্ছে, যা ফসলের ক্ষেত, গবাদিপশু, পাখি, গাছপালা, জনস্বাস্থ্য এবং স্থানীয় জীববৈচিত্র্যকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। অ্যাসিড ও রাসায়নিক মিশ্রিত বর্জ্যের কারণে এলাকার পানি ও মাটির রঙ লাল হয়ে গেছে। পরিবেশ দূষণের তীব্র দুর্গন্ধে নারী-পুরুষ ও শিশুরা চর্মরোগ ও শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

এ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে দুটি গ্রামের ৬০টি পরিবার কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত আবেদন করেছে। তারা অবৈধ কারখানাটি বন্ধ করে এর মালিক রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

অভিযোগে জানা গেছে, মনিরামপুর উপজেলার শ্যামকুড় গ্রামের রুহুল আমিন অধিক মুনাফার লোভে প্রায় তিন বছর আগে কেশবপুর সদর ইউনিয়নের খতিয়াখালী গ্রামে কেশবপুর-ভরতভায়না সড়ক-সংলগ্ন এলাকায় একটি কারখানা স্থাপন করেন। এই কারখানায় তিনি লোহার ফ্লাটবার, স্কয়ারবার, প্লেন শিট ও অ্যাঙ্গেলসহ বিভিন্ন লোহার সামগ্রী অ্যাসিড ও কেমিক্যাল দিয়ে রঙ করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতি বা পরিবেশের ছাড়পত্র ছাড়াই এই কারখানা চালাচ্ছেন এবং যত্রতত্র অ্যাসিড ও ভারতীয় রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করছেন।

কারখানার চারপাশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদসহ একাধিক বসতবাড়ি থাকলেও এর মালিক বর্জ্য শোধনাগার স্থাপন করেননি। ফলে অ্যাসিড ও রাসায়নিক মিশ্রিত বর্জ্য সরাসরি খোলা পরিবেশে প্রবেশ করছে। প্রতি ঘণ্টায় হাজার হাজার লিটার রাসায়নিকযুক্ত পানি প্রতিবেশীদের উঠানে এবং কৃষকের ফসলের ক্ষেতে ফেলা হচ্ছে। এর বিষাক্ত প্রভাবে আমগাছ, নারকেলগাছ, সুপারি, কলা ক্ষেতের পাতা পুড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

বর্ষাকালে এই দূষণের মাত্রা আরও বেড়ে যায়, যখন প্রায় ২০ একর জমি রাসায়নিক পানিতে প্লাবিত হয়। এসব ফসলের ক্ষেতে নামলে কৃষকের পায়ের চামড়া পুড়ে যাচ্ছে এবং কারখানার শব্দ দূষণে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠছে।

অতিরিক্ত মুনাফার লোভে রুহুল আমিন তার কারখানায় প্রকাশ্যে কালো ফ্লাটবার ও অ্যাঙ্গেল ৮৫ টাকা কেজিতে কিনে এনে চোরাইপথে আনা বিভিন্ন ভারতীয় রাসায়নিক দ্রব্য দিয়ে সেগুলোকে ‘জিআই’ (সাদা) রঙ করে প্রতি কেজিতে ৩০-৩৫ টাকা বেশি দামে বিক্রি করছেন। এই প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে তিনি দ্রুত অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন এবং বর্তমানে কেশবপুর ও মনিরামপুরে তিনটি কারখানা স্থাপন করেছেন। তার কেশবপুর পৌর শহরে একটি চারতলা আলিশান বাড়ি এবং কোটি কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতারণার মামলায় জামিন পেলেন তৌহিদ আফ্রিদি

কেশবপুরে অবৈধ কেমিক্যাল কারখানার বর্জ্যে জনস্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্য চরম ঝুঁকিতে

আপডেট সময় : ০৯:৪৫:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

যশোরের কেশবপুরে একটি অবৈধ কেমিক্যাল কারখানার রাসায়নিক বর্জ্য মারাত্মক পরিবেশ দূষণ ঘটাচ্ছে, যা ফসলের ক্ষেত, গবাদিপশু, পাখি, গাছপালা, জনস্বাস্থ্য এবং স্থানীয় জীববৈচিত্র্যকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। অ্যাসিড ও রাসায়নিক মিশ্রিত বর্জ্যের কারণে এলাকার পানি ও মাটির রঙ লাল হয়ে গেছে। পরিবেশ দূষণের তীব্র দুর্গন্ধে নারী-পুরুষ ও শিশুরা চর্মরোগ ও শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

এ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে দুটি গ্রামের ৬০টি পরিবার কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত আবেদন করেছে। তারা অবৈধ কারখানাটি বন্ধ করে এর মালিক রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

অভিযোগে জানা গেছে, মনিরামপুর উপজেলার শ্যামকুড় গ্রামের রুহুল আমিন অধিক মুনাফার লোভে প্রায় তিন বছর আগে কেশবপুর সদর ইউনিয়নের খতিয়াখালী গ্রামে কেশবপুর-ভরতভায়না সড়ক-সংলগ্ন এলাকায় একটি কারখানা স্থাপন করেন। এই কারখানায় তিনি লোহার ফ্লাটবার, স্কয়ারবার, প্লেন শিট ও অ্যাঙ্গেলসহ বিভিন্ন লোহার সামগ্রী অ্যাসিড ও কেমিক্যাল দিয়ে রঙ করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতি বা পরিবেশের ছাড়পত্র ছাড়াই এই কারখানা চালাচ্ছেন এবং যত্রতত্র অ্যাসিড ও ভারতীয় রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করছেন।

কারখানার চারপাশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদসহ একাধিক বসতবাড়ি থাকলেও এর মালিক বর্জ্য শোধনাগার স্থাপন করেননি। ফলে অ্যাসিড ও রাসায়নিক মিশ্রিত বর্জ্য সরাসরি খোলা পরিবেশে প্রবেশ করছে। প্রতি ঘণ্টায় হাজার হাজার লিটার রাসায়নিকযুক্ত পানি প্রতিবেশীদের উঠানে এবং কৃষকের ফসলের ক্ষেতে ফেলা হচ্ছে। এর বিষাক্ত প্রভাবে আমগাছ, নারকেলগাছ, সুপারি, কলা ক্ষেতের পাতা পুড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

বর্ষাকালে এই দূষণের মাত্রা আরও বেড়ে যায়, যখন প্রায় ২০ একর জমি রাসায়নিক পানিতে প্লাবিত হয়। এসব ফসলের ক্ষেতে নামলে কৃষকের পায়ের চামড়া পুড়ে যাচ্ছে এবং কারখানার শব্দ দূষণে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠছে।

অতিরিক্ত মুনাফার লোভে রুহুল আমিন তার কারখানায় প্রকাশ্যে কালো ফ্লাটবার ও অ্যাঙ্গেল ৮৫ টাকা কেজিতে কিনে এনে চোরাইপথে আনা বিভিন্ন ভারতীয় রাসায়নিক দ্রব্য দিয়ে সেগুলোকে ‘জিআই’ (সাদা) রঙ করে প্রতি কেজিতে ৩০-৩৫ টাকা বেশি দামে বিক্রি করছেন। এই প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে তিনি দ্রুত অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন এবং বর্তমানে কেশবপুর ও মনিরামপুরে তিনটি কারখানা স্থাপন করেছেন। তার কেশবপুর পৌর শহরে একটি চারতলা আলিশান বাড়ি এবং কোটি কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে।