যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর মধ্যস্থতা চলছে—এমন খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমেছে। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩৫ সেন্ট বা ০.৪ শতাংশ কমে ৮৮.৮৭ ডলারে নেমেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) সেপ্টেম্বরের চুক্তির দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৮২.৪৭ ডলার, যা প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। এর আগের দিন আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম চলতি মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি পেয়ে ৯০ ডলার ছাড়িয়েছিল।
এদিকে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতিরা সোমবার সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরবের সরবরাহ ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার জানান, হুতিদের এই হুমকির কারণে সৌদির তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তেহরান মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব পেয়েছে। গত ১৭ জুনের অন্তর্বর্তী চুক্তি কার্যকর রেখে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এই চেষ্টা চলছে। কূটনৈতিক এই তৎপরতার মধ্যেই সোমবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রে ইরানের বিভিন্ন শহরে নতুন করে হামলা চালিয়েছে। জবাবে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা চালায়। পরে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, তারা ইরানের বিরুদ্ধে আরও এক দফা হামলা শুরু করেছে।
আইজি মার্কেটের বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, তেলের দাম ইতোমধ্যে অনেক বেড়েছে এবং ভবিষ্যতে তা আরও বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। আপাতত যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার খবরে দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এই আলোচনা শেষ পর্যন্ত বাস্তবে রূপ নেবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। অন্যদিকে রয়টার্সের এক প্রাথমিক জরিপে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল ও পেট্রলের মজুত কমতে পারে। তবে ডিজেল ও অন্যান্য পরিশোধিত জ্বালানির মজুত কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























