ঢাকা ০৪:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা বড় চ্যালেঞ্জ: নবায়নযোগ্য শক্তির ওপর জোর মন্ত্রীর

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে এগিয়ে যাওয়া অপরিহার্য বলে তিনি মন্তব্য করেন। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও)গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

সোমবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘ভয়েস অব ডেভেলপমেন্ট: ব্রিজিং ডায়ালগস, পলিসিজ অ্যান্ড পার্টনারশিপস ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ন্যাশনাল ডেভেলপ প্রোগ্রাম (এনডিপি) নামক একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এই কর্মশালার আয়োজন করে।

জ্বালানিমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমানে জ্বালানি নিরাপত্তা একটি বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের পর জ্বালানির বৈশ্বিক বাজার কোন দিকে মোড় নেবে, তা বলা কঠিন। বাংলাদেশের সামনে নবায়নযোগ্য জ্বালানিই অন্যতম সম্ভাবনাময় খাত। যদিও বর্ষাকালে দেশে পর্যাপ্ত সূর্যের আলো পাওয়া যায় না, তারপরও বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

গ্রামীণ বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এনজিওগুলোর বড় ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, তারা যদি এক্ষেত্রে গ্রামের বাড়িগুলোর ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন করে এবং মাস শেষে নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুতের মূল্য আদায় করে, তাহলে গ্রামাঞ্চলে সৌরবিদ্যুতের কভারেজ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। একই সঙ্গে এটি এনজিওগুলোর জন্যও একটি লাভজনক উদ্যোগ হবে।

বর্তমানে জীবাশ্ম জ্বালানি কেনা কঠিন হয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র দুই মাসে জ্বালানি আমদানিতে সরকারের প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হয়েছে। এটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করেছে। এই চাপ কমাতে হলে গ্রামাঞ্চলে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে হবে। এ ক্ষেত্রে এনজিওগুলো এগিয়ে এলে গ্রামীণ উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে।

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, দেশে গ্যাসের সংকট দিন দিন বাড়ছে এবং গ্যাসলাইনগুলোতে চাপ প্রতিনিয়ত কমছে। গ্যাসের ঘাটতি মেটাতে বাংলাদেশ এখন এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু বিশ্ববাজারে এলএনজির দামও ক্রমবর্ধমান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বৃষ্টি ও পৃথিবীর এক কাব্যিক সম্পর্ক

বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা বড় চ্যালেঞ্জ: নবায়নযোগ্য শক্তির ওপর জোর মন্ত্রীর

আপডেট সময় : ০৯:৩৫:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে এগিয়ে যাওয়া অপরিহার্য বলে তিনি মন্তব্য করেন। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও)গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

সোমবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘ভয়েস অব ডেভেলপমেন্ট: ব্রিজিং ডায়ালগস, পলিসিজ অ্যান্ড পার্টনারশিপস ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ন্যাশনাল ডেভেলপ প্রোগ্রাম (এনডিপি) নামক একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এই কর্মশালার আয়োজন করে।

জ্বালানিমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমানে জ্বালানি নিরাপত্তা একটি বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের পর জ্বালানির বৈশ্বিক বাজার কোন দিকে মোড় নেবে, তা বলা কঠিন। বাংলাদেশের সামনে নবায়নযোগ্য জ্বালানিই অন্যতম সম্ভাবনাময় খাত। যদিও বর্ষাকালে দেশে পর্যাপ্ত সূর্যের আলো পাওয়া যায় না, তারপরও বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

গ্রামীণ বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এনজিওগুলোর বড় ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, তারা যদি এক্ষেত্রে গ্রামের বাড়িগুলোর ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন করে এবং মাস শেষে নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুতের মূল্য আদায় করে, তাহলে গ্রামাঞ্চলে সৌরবিদ্যুতের কভারেজ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। একই সঙ্গে এটি এনজিওগুলোর জন্যও একটি লাভজনক উদ্যোগ হবে।

বর্তমানে জীবাশ্ম জ্বালানি কেনা কঠিন হয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র দুই মাসে জ্বালানি আমদানিতে সরকারের প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হয়েছে। এটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করেছে। এই চাপ কমাতে হলে গ্রামাঞ্চলে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে হবে। এ ক্ষেত্রে এনজিওগুলো এগিয়ে এলে গ্রামীণ উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে।

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, দেশে গ্যাসের সংকট দিন দিন বাড়ছে এবং গ্যাসলাইনগুলোতে চাপ প্রতিনিয়ত কমছে। গ্যাসের ঘাটতি মেটাতে বাংলাদেশ এখন এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু বিশ্ববাজারে এলএনজির দামও ক্রমবর্ধমান।