ঢাকা ০১:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

সীতাকুণ্ডে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা: ৮ কোটি টাকার ফসল নষ্ট, দিশেহারা সাড়ে ৩ হাজার কৃষক

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৫০:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

টানা বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল এবং উপকূলীয় জোয়ারের পানিতে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বিস্তীর্ণ কৃষিজমি তলিয়ে যাওয়ায় কৃষি খাতে প্রায় ৮ কোটি টাকার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় অন্তত সাড়ে তিন হাজার কৃষক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রোপা আউশ ধান ও মৌসুমি সবজির ব্যাপক ক্ষতির জন্য কৃষকেরা যেমন প্রাকৃতিক দুর্যোগকে দায়ী করছেন, তেমনি দীর্ঘদিন ধরে অচল স্লুইসগেট, ভরাট হয়ে যাওয়া খাল এবং দুর্বল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাকেও দায়ী করছেন। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে সীতাকুণ্ডে ৩ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে রোপা আউশ ধানের আবাদ করা হয়েছিল, যার মধ্যে প্রায় ৫০০ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একইভাবে ১ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে আবাদ করা গ্রীষ্মকালীন সবজির মধ্যে অন্তত ১৮০ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।

সরেজমিনে বারৈয়ারঢালা, সৈয়দপুর, মুরাদপুর, বাড়বকুণ্ড এবং পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এখনো অনেক কৃষিজমিতে হাঁটুসমান পানি জমে আছে। কোথাও ধানের শীষ পানিতে নুয়ে পড়েছে, আবার কোথাও গাছ পচে হলুদ হয়ে গেছে। সবজিক্ষেতের মাচাগুলো ডুবে আছে পানির নিচে। কয়েক মাসের শ্রম, উৎপাদন ব্যয় ও ঋণের অর্থ একসঙ্গে হারিয়ে কৃষকেরা এখন দিশেহারা।

সৈয়দপুর ইউনিয়নের কৃষক ফখর, কামাল ও জসিম জানান, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তারা আউশ ধান ও টমেটোর চাষ করেছিলেন। ধান কাটার সময় ঘনিয়ে এলেও পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণে সব ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। এখন একদিকে ঋণের কিস্তি, অন্যদিকে সংসারের ব্যয়, দুই দিক সামলানোই তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। তাদের দাবি, পশ্চিম সৈয়দপুর বেড়িবাঁধসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় কয়েকশ একর জমির সবজি পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

সীতাকুণ্ড পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভূঁইয়া পাড়া এলাকার কৃষক সালামত উল্লাহ বলেন, চন্দ্রনাথ পাহাড়ের পাদদেশে দুই একর জমিতে তিনি বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেছিলেন। পাহাড়ি ঢলে তার প্রায় ৫ লাখ টাকার সবজি নষ্ট হয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীন স্লুইসগেটগুলো দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকায় অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন সম্ভব হয়নি। এছাড়াও অধিকাংশ সংযোগ খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে এবং শত শত হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিট অনিয়ম ও কৃষক আন্দোলনে মোদী সরকারের ওপর বাড়তি চাপ

সীতাকুণ্ডে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা: ৮ কোটি টাকার ফসল নষ্ট, দিশেহারা সাড়ে ৩ হাজার কৃষক

আপডেট সময় : ০১:৫০:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

টানা বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল এবং উপকূলীয় জোয়ারের পানিতে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বিস্তীর্ণ কৃষিজমি তলিয়ে যাওয়ায় কৃষি খাতে প্রায় ৮ কোটি টাকার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় অন্তত সাড়ে তিন হাজার কৃষক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রোপা আউশ ধান ও মৌসুমি সবজির ব্যাপক ক্ষতির জন্য কৃষকেরা যেমন প্রাকৃতিক দুর্যোগকে দায়ী করছেন, তেমনি দীর্ঘদিন ধরে অচল স্লুইসগেট, ভরাট হয়ে যাওয়া খাল এবং দুর্বল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাকেও দায়ী করছেন। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে সীতাকুণ্ডে ৩ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে রোপা আউশ ধানের আবাদ করা হয়েছিল, যার মধ্যে প্রায় ৫০০ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একইভাবে ১ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে আবাদ করা গ্রীষ্মকালীন সবজির মধ্যে অন্তত ১৮০ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।

সরেজমিনে বারৈয়ারঢালা, সৈয়দপুর, মুরাদপুর, বাড়বকুণ্ড এবং পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এখনো অনেক কৃষিজমিতে হাঁটুসমান পানি জমে আছে। কোথাও ধানের শীষ পানিতে নুয়ে পড়েছে, আবার কোথাও গাছ পচে হলুদ হয়ে গেছে। সবজিক্ষেতের মাচাগুলো ডুবে আছে পানির নিচে। কয়েক মাসের শ্রম, উৎপাদন ব্যয় ও ঋণের অর্থ একসঙ্গে হারিয়ে কৃষকেরা এখন দিশেহারা।

সৈয়দপুর ইউনিয়নের কৃষক ফখর, কামাল ও জসিম জানান, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তারা আউশ ধান ও টমেটোর চাষ করেছিলেন। ধান কাটার সময় ঘনিয়ে এলেও পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণে সব ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। এখন একদিকে ঋণের কিস্তি, অন্যদিকে সংসারের ব্যয়, দুই দিক সামলানোই তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। তাদের দাবি, পশ্চিম সৈয়দপুর বেড়িবাঁধসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় কয়েকশ একর জমির সবজি পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

সীতাকুণ্ড পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভূঁইয়া পাড়া এলাকার কৃষক সালামত উল্লাহ বলেন, চন্দ্রনাথ পাহাড়ের পাদদেশে দুই একর জমিতে তিনি বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেছিলেন। পাহাড়ি ঢলে তার প্রায় ৫ লাখ টাকার সবজি নষ্ট হয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীন স্লুইসগেটগুলো দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকায় অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন সম্ভব হয়নি। এছাড়াও অধিকাংশ সংযোগ খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে এবং শত শত হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে।