ঢাকা ০৬:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

ঢাবিতে অধ্যাপক নিয়োগে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ উপেক্ষা: বিভাগীয় চেয়ারম্যানকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে অধ্যাপক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ঘিরে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অস্বচ্ছতা, বিধি লঙ্ঘন এবং এক প্রার্থীর বিরুদ্ধে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ উপেক্ষা করার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, বিভাগের কো-অর্ডিনেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিঅ্যান্ডডি) কমিটির সভা থেকে বিভাগীয় চেয়ারম্যানকে বের করে দিয়ে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগে অভিযুক্ত প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়েছে, যা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

জানা যায়, অভিযুক্ত প্রার্থীর বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ, বিভাগে পাঠানো লিখিত আপত্তি এবং সিলগালা নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও সেগুলো সিঅ্যান্ডডি কমিটির আলোচনায় আনা হয়নি। এ ঘটনায় বিভাগীয় চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মুমিত আল রশিদ ঢাবি প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করে এর প্রতিকার চেয়েছেন। তবে রেজিস্ট্রার দপ্তর জানিয়েছে, চেয়ারম্যানকে ছাড়া অনুষ্ঠিত সভায় কোনো বিধি লঙ্ঘন হয়নি এবং নিয়োগসংক্রান্ত রেজল্যুশন যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিজ্ঞাপিত অধ্যাপক পদে প্রার্থীদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার উদ্দেশ্যে গত ৩০ মার্চ সিঅ্যান্ডডি কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিভাগীয় চেয়ারম্যান ড. রশিদ নিজেও ওই পদের একজন আবেদনকারী হওয়ায় নিজের বিষয় আলোচনার সময় সভা থেকে বিরত থাকেন। তবে অন্যান্য প্রার্থীর বিষয়ে তিনি চেয়ারম্যান হিসেবে সভা পরিচালনা করেন এবং মতামত দেন।

সভায় আরেক প্রার্থী ড. আবু মুসা মো. আরিফ বিল্লাহর আবেদন যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে নিষ্পত্তি না হওয়ায় রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠানো হয়। পরে রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে মৌখিকভাবে তাকে আবেদন করার যোগ্য বলে জানানো হয়। এরপর ১২ মে একই বিষয়ে পুনরায় সভা ডাকা হলেও তা স্থগিত হয়। পরবর্তীতে ১৪ মে নতুন করে সিঅ্যান্ডডি কমিটির সভা হয়। এই সভায় কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার বিভাগীয় চেয়ারম্যানকে সভাকক্ষ ত্যাগের নির্দেশ দেন। চেয়ারম্যান বের হতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে কক্ষের বাইরে পুরো সময় বসিয়ে রাখা হয় এবং তার উপস্থিতিকে ‘বিধিবহির্ভূত’ উল্লেখ করা হয়। এরপর সভায় সভাপতিত্ব করেন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক ড. কে এম সাইফুল ইসলাম খান।

ঘটনার তিনদিন পর ১৭ মে বিভাগীয় চেয়ারম্যান রেজিস্ট্রারের কাছে চিঠি দিয়ে জানতে চান—চেয়ারম্যানকে ছাড়া অনুষ্ঠিত সভার বৈধতা কতটুকু। এই ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশ ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সীমান্তে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা ব্যর্থ, সতর্ক অবস্থানে বিজিবি

ঢাবিতে অধ্যাপক নিয়োগে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ উপেক্ষা: বিভাগীয় চেয়ারম্যানকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ

আপডেট সময় : ১২:০৪:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে অধ্যাপক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ঘিরে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অস্বচ্ছতা, বিধি লঙ্ঘন এবং এক প্রার্থীর বিরুদ্ধে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ উপেক্ষা করার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, বিভাগের কো-অর্ডিনেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিঅ্যান্ডডি) কমিটির সভা থেকে বিভাগীয় চেয়ারম্যানকে বের করে দিয়ে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগে অভিযুক্ত প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়েছে, যা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

জানা যায়, অভিযুক্ত প্রার্থীর বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ, বিভাগে পাঠানো লিখিত আপত্তি এবং সিলগালা নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও সেগুলো সিঅ্যান্ডডি কমিটির আলোচনায় আনা হয়নি। এ ঘটনায় বিভাগীয় চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মুমিত আল রশিদ ঢাবি প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করে এর প্রতিকার চেয়েছেন। তবে রেজিস্ট্রার দপ্তর জানিয়েছে, চেয়ারম্যানকে ছাড়া অনুষ্ঠিত সভায় কোনো বিধি লঙ্ঘন হয়নি এবং নিয়োগসংক্রান্ত রেজল্যুশন যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিজ্ঞাপিত অধ্যাপক পদে প্রার্থীদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার উদ্দেশ্যে গত ৩০ মার্চ সিঅ্যান্ডডি কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিভাগীয় চেয়ারম্যান ড. রশিদ নিজেও ওই পদের একজন আবেদনকারী হওয়ায় নিজের বিষয় আলোচনার সময় সভা থেকে বিরত থাকেন। তবে অন্যান্য প্রার্থীর বিষয়ে তিনি চেয়ারম্যান হিসেবে সভা পরিচালনা করেন এবং মতামত দেন।

সভায় আরেক প্রার্থী ড. আবু মুসা মো. আরিফ বিল্লাহর আবেদন যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে নিষ্পত্তি না হওয়ায় রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠানো হয়। পরে রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে মৌখিকভাবে তাকে আবেদন করার যোগ্য বলে জানানো হয়। এরপর ১২ মে একই বিষয়ে পুনরায় সভা ডাকা হলেও তা স্থগিত হয়। পরবর্তীতে ১৪ মে নতুন করে সিঅ্যান্ডডি কমিটির সভা হয়। এই সভায় কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার বিভাগীয় চেয়ারম্যানকে সভাকক্ষ ত্যাগের নির্দেশ দেন। চেয়ারম্যান বের হতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে কক্ষের বাইরে পুরো সময় বসিয়ে রাখা হয় এবং তার উপস্থিতিকে ‘বিধিবহির্ভূত’ উল্লেখ করা হয়। এরপর সভায় সভাপতিত্ব করেন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক ড. কে এম সাইফুল ইসলাম খান।

ঘটনার তিনদিন পর ১৭ মে বিভাগীয় চেয়ারম্যান রেজিস্ট্রারের কাছে চিঠি দিয়ে জানতে চান—চেয়ারম্যানকে ছাড়া অনুষ্ঠিত সভার বৈধতা কতটুকু। এই ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশ ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।