ঢাকা ০৭:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

জুলাই বিপ্লবের শহীদ ডা. সজিব: ‘জালেমকে ধ্বংস করুন’ প্রার্থনার মধ্য দিয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ

জুলাই বিপ্লবের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি সফল করতে নরসিংদীর নিজ বাসা থেকে রাজধানী ঢাকার উত্তরার আন্দোলনে যোগ দিতে এসেছিলেন তরুণ চিকিৎসক সজিব সরকার। ব্রহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজের প্রভাষক সজিব (৩০) উত্তরার সড়কে তখন রণক্ষেত্রের চিত্র দেখতে পান। আন্দোলন চলাকালে অ্যাপ্রোন পরিহিত কয়েকজনের একটি ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিমের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি গুলিবিদ্ধ আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতাকে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দিয়ে হাসপাতালে পাঠাতে শুরু করেন।

ধীরে ধীরে উত্তরা আজমপুর ওভার ব্রিজের নিচে পৌঁছে যান তিনি। এ সময় তিনি আওয়ামী সন্ত্রাসী ও পুলিশ বাহিনীর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন। দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থাতেই গুলিবিদ্ধ হন চিকিৎসক সজিব। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই জুলাই বিপ্লবের একমাত্র শহীদ এই চিকিৎসক শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সজিবের পিতা মোহাম্মদ হালিম সরকার ও ছোট বোন সুমাইয়া সরকার স্বর্ণা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা এবং নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের গুলি করে হত্যার ঘটনাগুলো চিকিৎসক সজিবের হৃদয়ে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছিল, যা তীব্র ক্ষোভে রূপ নেয়। ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তিনি তার শহীদ হওয়ার দিন, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহান রবের নিকট প্রার্থনা করে লেখেন, ‘হে আল্লাহ আপনি সহায় হোন, আমিন। জালেমকে ধ্বংস করুন, জালেমের ধ্বংসকে ত্বরান্বিত করুন, আমিন’। এরপর তিনি ওইদিন দেশব্যাপী ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

ওইদিন সকালে ফজরের নামাজ আদায় করে বাসায় অসুস্থ মা ঝর্ণা বেগমের সঙ্গে নাস্তা করেন সজিব সরকার। এরপর প্রস্তুত হয়ে বের হওয়ার সময় মায়ের হাতে চার হাজার টাকা দিয়ে প্রয়োজনে খরচ করতে বলে কপালে চুমু দিয়ে বের হন তিনি। কোথায় যাচ্ছেন জানতে চাইলে আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি মাকে জানাননি, বরং বলেছিলেন- মাদরাসা পড়ুয়া ছোট ভাই আব্দুল্লাহ সরকারকে নিতে যাচ্ছেন। দরজার সামনে গিয়ে মেজো ভাইয়ের স্ত্রীকে ডেকে মাকে দেখে রাখতে বলেন। এরপর চলে যাওয়ার সময় তিনবার মাকে ডেকে বিদায় জানিয়েছিলেন সজিব।

সেদিন উত্তরার আন্দোলনে চিকিৎসক সজিবের ছোট বোন সুমাইয়া সরকার স্বর্ণাও উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, আমি উত্তরা আজমপুর-বিএনএস সেন্টারের মধ্যবর্তী স্থানে থাকা পাম্পের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ পেছন থেকে ভাইয়ার কণ্ঠে শুনতে পাই ‘এত ছোট লা’…।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদারীপুরে একাধিক মামলার আসামি যুবলীগ নেতা নাঈম খান গ্রেপ্তার

জুলাই বিপ্লবের শহীদ ডা. সজিব: ‘জালেমকে ধ্বংস করুন’ প্রার্থনার মধ্য দিয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ

আপডেট সময় : ১২:২৬:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

জুলাই বিপ্লবের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি সফল করতে নরসিংদীর নিজ বাসা থেকে রাজধানী ঢাকার উত্তরার আন্দোলনে যোগ দিতে এসেছিলেন তরুণ চিকিৎসক সজিব সরকার। ব্রহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজের প্রভাষক সজিব (৩০) উত্তরার সড়কে তখন রণক্ষেত্রের চিত্র দেখতে পান। আন্দোলন চলাকালে অ্যাপ্রোন পরিহিত কয়েকজনের একটি ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিমের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি গুলিবিদ্ধ আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতাকে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দিয়ে হাসপাতালে পাঠাতে শুরু করেন।

ধীরে ধীরে উত্তরা আজমপুর ওভার ব্রিজের নিচে পৌঁছে যান তিনি। এ সময় তিনি আওয়ামী সন্ত্রাসী ও পুলিশ বাহিনীর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন। দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থাতেই গুলিবিদ্ধ হন চিকিৎসক সজিব। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই জুলাই বিপ্লবের একমাত্র শহীদ এই চিকিৎসক শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সজিবের পিতা মোহাম্মদ হালিম সরকার ও ছোট বোন সুমাইয়া সরকার স্বর্ণা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা এবং নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের গুলি করে হত্যার ঘটনাগুলো চিকিৎসক সজিবের হৃদয়ে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছিল, যা তীব্র ক্ষোভে রূপ নেয়। ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তিনি তার শহীদ হওয়ার দিন, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহান রবের নিকট প্রার্থনা করে লেখেন, ‘হে আল্লাহ আপনি সহায় হোন, আমিন। জালেমকে ধ্বংস করুন, জালেমের ধ্বংসকে ত্বরান্বিত করুন, আমিন’। এরপর তিনি ওইদিন দেশব্যাপী ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

ওইদিন সকালে ফজরের নামাজ আদায় করে বাসায় অসুস্থ মা ঝর্ণা বেগমের সঙ্গে নাস্তা করেন সজিব সরকার। এরপর প্রস্তুত হয়ে বের হওয়ার সময় মায়ের হাতে চার হাজার টাকা দিয়ে প্রয়োজনে খরচ করতে বলে কপালে চুমু দিয়ে বের হন তিনি। কোথায় যাচ্ছেন জানতে চাইলে আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি মাকে জানাননি, বরং বলেছিলেন- মাদরাসা পড়ুয়া ছোট ভাই আব্দুল্লাহ সরকারকে নিতে যাচ্ছেন। দরজার সামনে গিয়ে মেজো ভাইয়ের স্ত্রীকে ডেকে মাকে দেখে রাখতে বলেন। এরপর চলে যাওয়ার সময় তিনবার মাকে ডেকে বিদায় জানিয়েছিলেন সজিব।

সেদিন উত্তরার আন্দোলনে চিকিৎসক সজিবের ছোট বোন সুমাইয়া সরকার স্বর্ণাও উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, আমি উত্তরা আজমপুর-বিএনএস সেন্টারের মধ্যবর্তী স্থানে থাকা পাম্পের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ পেছন থেকে ভাইয়ার কণ্ঠে শুনতে পাই ‘এত ছোট লা’…।