ঢাকা ০১:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

সীতাকুণ্ডে ৮ কোটি টাকার কৃষি ফসলের ক্ষতি: জলাবদ্ধতায় দিশেহারা সাড়ে ৩ হাজার কৃষক

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:২৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

টানা বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল এবং উপকূলীয় জোয়ারের পানিতে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বিস্তীর্ণ কৃষিজমি তলিয়ে যাওয়ায় প্রায় ৮ কোটি টাকার কৃষি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত ৩ হাজার ৫০০ কৃষক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি বিভাগ।

উপজেলা কৃষি অফিসের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে সীতাকুণ্ডে ৩ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে রোপা আউশ ধানের আবাদ করা হয়েছিল, যার মধ্যে প্রায় ৫০০ হেক্টর জমির ধান সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একইভাবে, ১ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে আবাদ করা গ্রীষ্মকালীন সবজির মধ্যে অন্তত ১৮০ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে অচল স্লুইসগেট, ভরাট হয়ে যাওয়া খাল এবং দুর্বল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে এই ব্যাপক ক্ষতির জন্য দায়ী করছেন। তাদের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীন স্লুইসগেটগুলো অচল থাকায় অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারেনি এবং অধিকাংশ সংযোগ খাল ভরাট হওয়ায় জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে।

সরেজমিনে বারৈয়ারঢালা, সৈয়দপুর, মুরাদপুর, বাড়বকুণ্ড এবং পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এখনো অনেক কৃষিজমিতে হাঁটুসমান পানি জমে আছে। কোথাও ধানের শীষ পানিতে নুয়ে পড়েছে, আবার কোথাও গাছ পচে হলুদ হয়ে গেছে। সবজিক্ষেতের মাচাগুলোও ডুবে আছে পানির নিচে। কয়েক মাসের শ্রম, উৎপাদন ব্যয় ও ঋণের অর্থ একসঙ্গে হারিয়ে কৃষকেরা এখন চরম দিশেহারা।

সৈয়দপুর ইউনিয়নের কৃষক ফখর, কামাল ও জসিম জানান, তারা এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে আউশ ধান ও টমেটোর চাষ করেছিলেন। ধান কাটার সময় ঘনিয়ে এলেও পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণে তাদের সব ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। এখন একদিকে ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ, অন্যদিকে সংসারের ব্যয় মেটানো তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। ভূঁইয়া পাড়া এলাকার কৃষক সালামত উল্লাহ জানান, চন্দ্রনাথ পাহাড়ের পাদদেশে দুই একর জমিতে চাষ করা তার প্রায় ৫ লাখ টাকার সবজি পাহাড়ি ঢলে নষ্ট হয়ে গেছে।

এই ব্যাপক জলাবদ্ধতার কারণে কৃষকেরা যেমন অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তেমনি তাদের ভবিষ্যৎ আবাদ নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিট অনিয়ম ও কৃষক আন্দোলনে মোদী সরকারের ওপর বাড়তি চাপ

সীতাকুণ্ডে ৮ কোটি টাকার কৃষি ফসলের ক্ষতি: জলাবদ্ধতায় দিশেহারা সাড়ে ৩ হাজার কৃষক

আপডেট সময় : ০১:২৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

টানা বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল এবং উপকূলীয় জোয়ারের পানিতে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বিস্তীর্ণ কৃষিজমি তলিয়ে যাওয়ায় প্রায় ৮ কোটি টাকার কৃষি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত ৩ হাজার ৫০০ কৃষক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি বিভাগ।

উপজেলা কৃষি অফিসের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে সীতাকুণ্ডে ৩ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে রোপা আউশ ধানের আবাদ করা হয়েছিল, যার মধ্যে প্রায় ৫০০ হেক্টর জমির ধান সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একইভাবে, ১ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে আবাদ করা গ্রীষ্মকালীন সবজির মধ্যে অন্তত ১৮০ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে অচল স্লুইসগেট, ভরাট হয়ে যাওয়া খাল এবং দুর্বল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে এই ব্যাপক ক্ষতির জন্য দায়ী করছেন। তাদের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীন স্লুইসগেটগুলো অচল থাকায় অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারেনি এবং অধিকাংশ সংযোগ খাল ভরাট হওয়ায় জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে।

সরেজমিনে বারৈয়ারঢালা, সৈয়দপুর, মুরাদপুর, বাড়বকুণ্ড এবং পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এখনো অনেক কৃষিজমিতে হাঁটুসমান পানি জমে আছে। কোথাও ধানের শীষ পানিতে নুয়ে পড়েছে, আবার কোথাও গাছ পচে হলুদ হয়ে গেছে। সবজিক্ষেতের মাচাগুলোও ডুবে আছে পানির নিচে। কয়েক মাসের শ্রম, উৎপাদন ব্যয় ও ঋণের অর্থ একসঙ্গে হারিয়ে কৃষকেরা এখন চরম দিশেহারা।

সৈয়দপুর ইউনিয়নের কৃষক ফখর, কামাল ও জসিম জানান, তারা এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে আউশ ধান ও টমেটোর চাষ করেছিলেন। ধান কাটার সময় ঘনিয়ে এলেও পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণে তাদের সব ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। এখন একদিকে ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ, অন্যদিকে সংসারের ব্যয় মেটানো তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। ভূঁইয়া পাড়া এলাকার কৃষক সালামত উল্লাহ জানান, চন্দ্রনাথ পাহাড়ের পাদদেশে দুই একর জমিতে চাষ করা তার প্রায় ৫ লাখ টাকার সবজি পাহাড়ি ঢলে নষ্ট হয়ে গেছে।

এই ব্যাপক জলাবদ্ধতার কারণে কৃষকেরা যেমন অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তেমনি তাদের ভবিষ্যৎ আবাদ নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।