বর্ষাকালে প্রায়শই গ্যাস, অম্বল, বদহজম এবং পেটের নানা সমস্যায় ভুগতে দেখা যায় অনেককে। তবে শুধুমাত্র খাবারের ধরনই নয়, খাবার খাওয়ার সঠিক সময়ও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনিয়মিত সময়ে খাবার খাওয়ার অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে পরিপাকতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যকারিতা ব্যাহত করতে পারে।
মানবদেহ একটি নির্দিষ্ট জৈবিক ছন্দ বা সার্কাডিয়ান রিদম অনুসরণ করে। ঘুম, হরমোন নিঃসরণ, বিপাকক্রিয়া এবং হজম প্রক্রিয়া—এ সবই এই ছন্দের সঙ্গে জড়িত। ফলে প্রতিদিন খাবারের সময় পরিবর্তিত হলে পাকস্থলী ও অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটে, যা গ্যাস, পেট ফাঁপা, অম্বল ও বদহজমের মতো সমস্যার জন্ম দেয়।
নিয়মিত একই সময়ে খাবার খেলে পাকস্থলী ও অন্ত্র হজমের জন্য প্রস্তুত হতে পারে। সময়মতো পাচক রস ও পিত্তরস নিঃসৃত হওয়ায় খাবার সহজে হজম হয় এবং গ্যাস বা অম্বলের ঝুঁকি কমে। দিনের বেলায় শরীরের বিপাকক্রিয়া বেশি সক্রিয় থাকে, তাই সময়মতো সকালের নাস্তা ও দুপুরের খাবার গ্রহণ করলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি ভালোভাবে শোষণ করতে পারে। বিপরীতে, দুপুরের খাবার দেরিতে খাওয়া বা গভীর রাতে ভারী খাবার গ্রহণ করলে হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যেতে পারে।
নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খাওয়ার অভ্যাস রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা বা অনিয়মিতভাবে খাবার খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা ওঠানামা করতে পারে। নিয়মিত সময়ে খাবার গ্রহণ ইনসুলিনের কার্যকারিতা বজায় রাখতে এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।
অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রেও খাবারের সময় গুরুত্বপূর্ণ। দুই বেলার প্রধান খাবারের মাঝে পর্যাপ্ত বিরতি থাকলে অন্ত্রে ‘মাইগ্রেটিং মোটর কমপ্লেক্স (এমএমসি)’ নামক একটি স্বাভাবিক পরিষ্কার প্রক্রিয়া সক্রিয় হয়, যা অন্ত্রে জমে থাকা খাবারের অবশিষ্টাংশ ও ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া অপসারণে সাহায্য করে। সারাক্ষণ অল্প অল্প করে খাওয়ার অভ্যাস এই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। পরিপাকতন্ত্র সুস্থ রাখতে বিশেষজ্ঞরা কিছু অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 

























