কক্সবাজারের রামুতে টানা ১০ দিনের ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে এক কৃষকের ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলা পেঁপে ও কুলের বাগান। ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের কৃষক জয়নাল আবেদীনের ৬ একর জমির এই সুবিশাল কৃষি প্রকল্প এখন শুধুই এক ধ্বংসস্তূপ। প্রকৃতির এমন নির্মম আঘাতে তার পরিবারের ভাগ্য বদলের স্বপ্ন এখন দীর্ঘশ্বাসে পরিণত হয়েছে।
৪২ বছর বয়সী জয়নাল আবেদীন তার এই স্বপ্ন পূরণের জন্য স্ত্রীর গয়না বিক্রি, ব্যাংক ঋণ এবং মানুষের কাছ থেকে ধার করে প্রায় ২০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। আট মাস আগে ৬ একর জমি লিজ নিয়ে তিনি প্রায় ২ হাজার পেঁপে ও ৫০০ বরই গাছ রোপণ করেছিলেন। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে দিনরাত পরিশ্রম করে তিনি এই বাগান গড়ে তুলেছিলেন। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে পুরো বাগান দীর্ঘদিন পানিতে ডুবে থাকায় অধিকাংশ পেঁপেগাছ মরে গেছে, যা তার চোখের সামনে একটি করে স্বপ্নের মৃত্যু ঘটিয়েছে।
বর্তমানে জয়নাল আবেদীন ১৫ লাখ টাকারও বেশি ঋণের বোঝায় জর্জরিত। অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে তিনি জানান, ‘অনেক স্বপ্ন নিয়ে বাগান করেছিলাম। প্রতিটি পেঁপের চারা ৫০ টাকা করে কিনেছি। আট মাস ধরে দিন-রাত পরিশ্রম করেছি। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে পুরো বাগান পানির নিচে চলে গেছে। আমার সব শেষ হয়ে গেছে। এখন কীভাবে ব্যাংকের ঋণ শোধ করব বুঝতে পারছি না। সরকার যদি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়, তাহলে আবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে পারব।’
শুধু জয়নালই নন, তার বাগানে কাজ করা শ্রমিকরাও এখন কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। প্রতিদিন ৭০০ টাকা মজুরিতে কাজ করা নারী শ্রমিক কুলসুমা বেগম জানান, ‘আমরা কয়েক মাস ধরে এই বাগানে কাজ করেছি। এখন সব গাছ নষ্ট হয়ে গেছে। মালিক যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তেমনি আমরাও কাজ হারিয়ে বিপদে পড়েছি।’ রামুর এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে জয়নাল আবেদীনসহ অন্তত ২০ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছেন তিনি।
রিপোর্টারের নাম 

























