ঢাকা ০৯:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, ডিজিটাল প্রযুক্তিকে ভয় না পেয়ে বরং নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও ইতিবাচকভাবে ব্যবহার করে আগামী প্রজন্মকে গড়ে তুলতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রযুক্তির অগ্রগতি অব্যাহত থাকবে, তাই শিশু-কিশোরদের প্রযুক্তি থেকে দূরে না রেখে এর সঠিক ব্যবহার শেখানোর মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করা উচিত।

মঙ্গলবার ঢাকার গুলশানে হোটেল লেকশোরে বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন আয়োজিত ‘ডিজিটাল জেন্ডার নরমস (ডিজিটাল পরিসরে লিঙ্গভিত্তিক সামাজিক মানদণ্ড): জাতীয় শিখন-অভিজ্ঞতা বিনিময়’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে জনগণের কণ্ঠ রোধের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল, যা প্রমাণ করে ডিজিটাল মাধ্যম আজ সমাজ, রাষ্ট্র ও নাগরিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই প্রযুক্তিকে অস্বীকার না করে এর সঠিক ব্যবহারের সক্ষমতা অর্জনই এখন সবচেয়ে জরুরি।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে সমাজের প্রচলিত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের মধ্যে একটি স্পষ্ট অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে। এই ব্যবধান দূরীকরণে শিক্ষা, পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের নিরাপদ ডিজিটাল আচরণ, তথ্য যাচাই এবং অনলাইন নৈতিকতা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ববি হাজ্জাজ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ছবি, ভুয়া ভিডিও, চরিত্রহনন ও ডিজিটাল হয়রানি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যার শিকার হচ্ছেন নারী, কিশোরী এবং নারী রাজনীতিবিদরা। তাই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং শিশু ও নারীদের সুরক্ষায় কার্যকর আইন ও নীতিমালা বাস্তবায়ন করা সময়ের দাবি। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য প্রযুক্তি ব্যবহারে অযৌক্তিক বাধা সৃষ্টি করা নয়, বরং স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা। তবে বর্তমান সামাজিক বাস্তবতায় শিশু ও নারীদের নিরাপত্তার স্বার্থে কিছু ক্ষেত্রে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার প্রাথমিক শিক্ষায় ভ্যালু-বেইজড এডুকেশন, ডিজিটাল সেফটি, লাইফ স্কিল, জেন্ডার সংবেদনশীলতা এবং নাগরিক মূল্যবোধকে নতুন কারিকুলামের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বগুড়ায় খেলতে গিয়ে পুকুরে ডুবে তিন শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু, গুচ্ছগ্রামে শোকের মাতম

প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৪:৩৮:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, ডিজিটাল প্রযুক্তিকে ভয় না পেয়ে বরং নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও ইতিবাচকভাবে ব্যবহার করে আগামী প্রজন্মকে গড়ে তুলতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রযুক্তির অগ্রগতি অব্যাহত থাকবে, তাই শিশু-কিশোরদের প্রযুক্তি থেকে দূরে না রেখে এর সঠিক ব্যবহার শেখানোর মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করা উচিত।

মঙ্গলবার ঢাকার গুলশানে হোটেল লেকশোরে বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন আয়োজিত ‘ডিজিটাল জেন্ডার নরমস (ডিজিটাল পরিসরে লিঙ্গভিত্তিক সামাজিক মানদণ্ড): জাতীয় শিখন-অভিজ্ঞতা বিনিময়’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে জনগণের কণ্ঠ রোধের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল, যা প্রমাণ করে ডিজিটাল মাধ্যম আজ সমাজ, রাষ্ট্র ও নাগরিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই প্রযুক্তিকে অস্বীকার না করে এর সঠিক ব্যবহারের সক্ষমতা অর্জনই এখন সবচেয়ে জরুরি।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে সমাজের প্রচলিত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের মধ্যে একটি স্পষ্ট অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে। এই ব্যবধান দূরীকরণে শিক্ষা, পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের নিরাপদ ডিজিটাল আচরণ, তথ্য যাচাই এবং অনলাইন নৈতিকতা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ববি হাজ্জাজ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ছবি, ভুয়া ভিডিও, চরিত্রহনন ও ডিজিটাল হয়রানি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যার শিকার হচ্ছেন নারী, কিশোরী এবং নারী রাজনীতিবিদরা। তাই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং শিশু ও নারীদের সুরক্ষায় কার্যকর আইন ও নীতিমালা বাস্তবায়ন করা সময়ের দাবি। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য প্রযুক্তি ব্যবহারে অযৌক্তিক বাধা সৃষ্টি করা নয়, বরং স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা। তবে বর্তমান সামাজিক বাস্তবতায় শিশু ও নারীদের নিরাপত্তার স্বার্থে কিছু ক্ষেত্রে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার প্রাথমিক শিক্ষায় ভ্যালু-বেইজড এডুকেশন, ডিজিটাল সেফটি, লাইফ স্কিল, জেন্ডার সংবেদনশীলতা এবং নাগরিক মূল্যবোধকে নতুন কারিকুলামের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করছে।