কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে বজ্রপাতে নিহত সৌদি প্রবাসী রাসেল মিয়ার পরিবার চরম মানবেতর জীবন যাপন করছে। স্ত্রী ও চার সন্তান নিয়ে বসবাস করা এই পরিবারটি সরকারি সহায়তার আশ্বাস পেলেও এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো সহযোগিতা পায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম ধুলজুরী গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে রাসেল মিয়া গত ১০ মার্চ ২০২৬ তারিখে সৌদি আরবে কর্মস্থলে মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে নিহত হন। তার মৃত্যুর পর পরিবারটি এখন চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, রাসেলের স্ত্রী শাহানাজ চার সন্তানকে নিয়ে একটি ভাঙাচোরা ঘরে কোনোমতে দিন কাটাচ্ছেন। পরিবারের কোনো স্থায়ী আয়ের উৎস না থাকায় এবং স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুতে তারা দিশেহারা। এর উপর, স্বামীর মৃত্যুর মাত্র ১৬ দিনের মাথায় মারা যান তার মা, ফলে একমাত্র আশ্রয়টুকুও হারান শাহানাজ।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যরা অনেক দিন তিন বেলার পরিবর্তে একবেলা খাবার খেয়েই দিন পার করছেন। সন্তানদের লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটানো তো দূরের কথা, ঠিকমতো খাবারের সংস্থান করাও এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, সংসারের অভাব দূর করার জন্যই ধারদেনা করে রাসেল সৌদি আরবে গিয়েছিলেন, কিন্তু তার মৃত্যুতে সেই স্বপ্ন ভেঙে যায়। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তারা এখন চরম অনিশ্চয়তায় দিন গুনছেন।
রাসেলের মৃত্যুর কয়েক দিন পর উপজেলা প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা তার বাড়িতে গিয়ে ঈদ উপলক্ষে কিছু কাপড়, খাদ্যসামগ্রী ও সামান্য নগদ অর্থ বিতরণ করেছিলেন। সে সময় সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং বিভিন্ন সরকারি অনুদানের ব্যবস্থা করার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও পরিবারটি উল্লেখযোগ্য কোনো সরকারি সহায়তা এখনো পায়নি। ফলে দিন দিন তারা আরও অসহায় হয়ে পড়ছে।
প্রতিবেশী আবু রায়হান জানান, রাসেল মিয়ার পরিবার এখন চরম মানবিক সংকটের মধ্যে রয়েছে। তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন, সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও মানবিক সংগঠনগুলোর প্রতি দ্রুত এই পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। এলাকাবাসীর দাবি, সাময়িক সহায়তার পাশাপাশি পরিবারটির স্থায়ী পুনর্বাসন, বিধবা ভাতা, শিশুদের শিক্ষা সহায়তা এবং নিয়মিত সরকারি সহযোগিতার ব্যবস্থা করা জরুরি। দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা একজন প্রবাসীর মৃত্যুর পর তার পরিবার কেন এমন অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকবে, এই প্রশ্নই এখন সকলের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 
























