আন্দোলন-সংগ্রামে সহযাত্রী এবং নির্বাচনে ‘ভোটসঙ্গী’ হিসেবে থাকা রাজনৈতিক মিত্ররা যথাযথ মূল্যায়নের দাবি করছেন। বিএনপির একসময়ের জোটসঙ্গী ও যুগপৎ আন্দোলনের শরিক এসব নেতা কখনো অভিমান করছেন, আবার কখনো কৌশলে চাপ সৃষ্টি করছেন। এর মধ্যেই কেউ কেউ পুরস্কৃত হয়েছেন এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদেও অধিষ্ঠিত হয়েছেন। তবে যারা এখনো মূল্যায়িত হননি, তাদের কেউ হতাশ হলেও অনেকে এখনো আশা ছাড়েননি।
এমন পরিস্থিতিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অসন্তুষ্ট মিত্রদের মান ভাঙানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি তাদের নিয়ে এক নৈশভোজে মিলিত হন। এর আগে নিজ দল ছেড়ে ‘ভোটসঙ্গী’ হওয়া রাশেদ খানকে ‘বিশেষ সহকারী’ হিসেবে নিয়োগ দিয়ে তিনি অন্যদের প্রতি ধৈর্য ধরে থাকার বার্তা দিয়েছেন।
দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে স্বৈরাচার হাসিনাবিরোধী আন্দোলনে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎভাবে অংশ নিয়েও অনেক রাজনৈতিক দল এখনো সরকারে কোনো পদ-পদবি না পাওয়ায় তাদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। কেউ কেউ সেই অসন্তোষ প্রকাশ্যেও এনেছেন। ইসলামপন্থি দুয়েকটি দল বিএনপির জোটে না থাকলেও সরকারের পদ পেতে আগ্রহ প্রকাশ করে বক্তব্য-বিবৃতি দিয়েছে। এসব দলের অনুযোগ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তারা কম জুলুম-নির্যাতনের শিকার হননি, কিন্তু দুয়েকটি দল ক্ষমতার অংশীদার হলেও অধিকাংশই বঞ্চিত রয়ে গেছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার বিপ্লবের মাধ্যমে শেখ হাসিনার পতন ও পলায়নের পর নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। সেই সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করে ক্ষমতা হস্তান্তর করে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সেই নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। এতে বিএনপি ও এর জোট, সমমনা এবং যুগপৎ আন্দোলনের শরিকরা মোট ২১৪ আসনে বিজয়ী হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপি ২১১টি এবং শরিকরা ৩টি আসনে জয়লাভ করে। গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 























