ঢাকা ০৪:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান: টিলা ধসে বিপন্ন ত্রিপুরাপল্লী, ২৪ পরিবার আতঙ্কে

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৮:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের ভেতরে গড়ে ওঠা ত্রিপুরাপল্লীর ২৪টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। টানা বৃষ্টিপাত, পাহাড়ি ছড়ার প্রবল স্রোত এবং মাটি ধসের কারণে তাদের বসবাসের টিলা ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে চলা এই ভাঙনে ইতোমধ্যে টিলার বড় একটি অংশ ধসে পড়েছে, যা পল্লীবাসীর ঘরবাড়ি, চলাচলের রাস্তা এবং পুরো বসতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ত্রিপুরাপল্লীর চারপাশের মাটি ধসে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। পল্লী থেকে বের হওয়ার একমাত্র ব্রিজটির এক পাশের মাটি সরে গিয়ে সেটিও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এর ফলে স্থানীয়দের বিকল্প ও দুর্গম পথ ব্যবহার করে চলাচল করতে হচ্ছে, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় মারাত্মক ভোগান্তি সৃষ্টি করছে।

পল্লীবাসীরা জানান, বর্ষা মৌসুম এলেই তাদের আতঙ্ক কয়েকগুণ বেড়ে যায়। টানা বৃষ্টিপাত শুরু হলেই টিলার বিভিন্ন অংশ ধসে পড়ে। পাহাড়ি ছড়ায় পানি বাড়লে বাইরের সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, যার ফলে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, অসুস্থ ও বয়স্ক মানুষদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যাওয়াও অনেক সময় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

ত্রিপুরাপল্লীর হেডম্যান চিত্তরঞ্জন দেববর্মা বলেন, “এই পাহাড়ে আমাদের জন্ম, আমাদের জীবন-জীবিকা সবকিছু। জায়গাটি আমাদের কাছে শুধু বসবাসের স্থান নয়, এটি আমাদের অস্তিত্বের অংশ। আমরা কখনো টিলা কাটিনি, বরং রক্ষা করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে টিলা ধসে এখন আমাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।” তিনি আরও জানান, ছোটবেলায় যেসব ছড়া ছোট দেখেছেন, এখন সেগুলো বড় হয়ে ভয়ংকর রূপ নিয়েছে এবং প্রতি বর্ষায় টিলা ধসে নতুন নতুন ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

সন্ধ্যা রাণী দেববর্মা জানান, ২০১৭ সালে প্রথম বড় ধরনের টিলা ধস শুরু হয়। তখন তিনটি পরিবার নিজেদের বসতভিটা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়। পরবর্তী সময়ে আরও দুটি পরিবার স্থানান্তরিত হয়েছে। বর্তমানে পুরো টিলাটিই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আরও পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়বে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন এবং উল্লেখ করেন যে, এই টিলাগুলো শুধু মানুষের বসবাসের জায়গা নয়, জীববৈচিত্র্য রক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। টিলা ধসে গেলে পরিবেশেরও বড় ক্ষতি হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দৌলতখানে মেঘনার অস্বাভাবিক জোয়ারে নিখোঁজ অর্ধশতাধিক মহিষ, খামারিদের উদ্বেগ

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান: টিলা ধসে বিপন্ন ত্রিপুরাপল্লী, ২৪ পরিবার আতঙ্কে

আপডেট সময় : ০৬:৩৮:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের ভেতরে গড়ে ওঠা ত্রিপুরাপল্লীর ২৪টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। টানা বৃষ্টিপাত, পাহাড়ি ছড়ার প্রবল স্রোত এবং মাটি ধসের কারণে তাদের বসবাসের টিলা ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে চলা এই ভাঙনে ইতোমধ্যে টিলার বড় একটি অংশ ধসে পড়েছে, যা পল্লীবাসীর ঘরবাড়ি, চলাচলের রাস্তা এবং পুরো বসতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ত্রিপুরাপল্লীর চারপাশের মাটি ধসে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। পল্লী থেকে বের হওয়ার একমাত্র ব্রিজটির এক পাশের মাটি সরে গিয়ে সেটিও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এর ফলে স্থানীয়দের বিকল্প ও দুর্গম পথ ব্যবহার করে চলাচল করতে হচ্ছে, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় মারাত্মক ভোগান্তি সৃষ্টি করছে।

পল্লীবাসীরা জানান, বর্ষা মৌসুম এলেই তাদের আতঙ্ক কয়েকগুণ বেড়ে যায়। টানা বৃষ্টিপাত শুরু হলেই টিলার বিভিন্ন অংশ ধসে পড়ে। পাহাড়ি ছড়ায় পানি বাড়লে বাইরের সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, যার ফলে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, অসুস্থ ও বয়স্ক মানুষদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যাওয়াও অনেক সময় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

ত্রিপুরাপল্লীর হেডম্যান চিত্তরঞ্জন দেববর্মা বলেন, “এই পাহাড়ে আমাদের জন্ম, আমাদের জীবন-জীবিকা সবকিছু। জায়গাটি আমাদের কাছে শুধু বসবাসের স্থান নয়, এটি আমাদের অস্তিত্বের অংশ। আমরা কখনো টিলা কাটিনি, বরং রক্ষা করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে টিলা ধসে এখন আমাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।” তিনি আরও জানান, ছোটবেলায় যেসব ছড়া ছোট দেখেছেন, এখন সেগুলো বড় হয়ে ভয়ংকর রূপ নিয়েছে এবং প্রতি বর্ষায় টিলা ধসে নতুন নতুন ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

সন্ধ্যা রাণী দেববর্মা জানান, ২০১৭ সালে প্রথম বড় ধরনের টিলা ধস শুরু হয়। তখন তিনটি পরিবার নিজেদের বসতভিটা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়। পরবর্তী সময়ে আরও দুটি পরিবার স্থানান্তরিত হয়েছে। বর্তমানে পুরো টিলাটিই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আরও পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়বে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন এবং উল্লেখ করেন যে, এই টিলাগুলো শুধু মানুষের বসবাসের জায়গা নয়, জীববৈচিত্র্য রক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। টিলা ধসে গেলে পরিবেশেরও বড় ক্ষতি হবে।