ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে শেরপুরের ঝিনাইগাতি ও নালিতাবাড়ী উপজেলার নিম্নাঞ্চল ভয়াবহ বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল থেকে পানি বৃদ্ধির ফলে নালিতাবাড়ী উপজেলার চেল্লাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ৩২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এছাড়া, ভোগাই ও মহারশী নদীর পানিও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই আকস্মিক পানি বৃদ্ধির ফলে নালিতাবাড়ী উপজেলার কলসপাড় ও যোগানীয়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের দুই শতাধিক পরিবারের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে, যা তাদের জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।
চেল্লাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় শেরপুর-গাজিরখামার-নালিতাবাড়ী সড়কের বালুঘাটা গোল্লারপাড় এলাকায় পাকা সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে যানবাহনগুলো ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে, যা দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, পানি বৃদ্ধির ফলে ঝিনাইগাতি সদর বাজারের ব্যবসায়ীরাও ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সাধারণ মানুষ পানি ভেঙে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন। বন্যার তীব্র স্রোতে ভেসে গেছে কয়েকটি মাছের ঘের এবং তলিয়ে গেছে গ্রীষ্মকালীন সবজি ক্ষেত ও সদ্য রোপণকৃত আমন বীজতলা, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের ক্ষতি ডেকে এনেছে।
শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন জানান, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে বন্যার্ত পরিবারের জন্য চালসহ শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং সেগুলো বিতরণের প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে আরও সহায়তা প্রদানের জন্য প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 






















