আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্টিনেজ কেবল একজন প্রথাগত গোলরক্ষক নন, তিনি মাঠের একজন দুর্দান্ত পারফর্মার এবং খাঁটি ম্যাচ-উইনার হিসেবে পরিচিত। ফুটবল ইতিহাসে খুব কম গোলরক্ষকই আছেন যারা একক দক্ষতায় ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের পুরো দলের ওপর মানসিক আধিপত্য বিস্তার করতে পারেন। মার্টিনেজ সেই বিরল ঘরানার একজন খেলোয়াড়, বিশেষ করে নকআউট পর্বের চরম চাপের মুখে এবং পেনাল্টি শুটআউটের সময় প্রতিপক্ষের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করায় তিনি বর্তমান ফুটবল বিশ্বের সেরা মাস্টারমাইন্ড হিসেবে বিবেচিত।
মার্টিনেজের খেলার মূল শক্তি তার অবিশ্বাস্য রিফ্লেক্স, বিশাল শারীরিক উপস্থিতি এবং শূন্যে বল দখলের কৌশলে দুর্দান্ত নিয়ন্ত্রণ। ডি-বক্সের ভেতর নিজের রাজত্ব বজায় রাখতে তিনি দারুণ পটু। অন্য অনেক গোলরক্ষক যেখানে শুধু ট্যাকটিক্যাল পজিশনিংয়ের ওপর নির্ভর করেন, মার্টিনেজ সেখানে নিজের সহজাত প্রবৃত্তির ওপর ভরসা করেন বেশি। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে তার ঐতিহাসিক শেষ মুহূর্তের সেভ এবং ২০২৬ বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনার ডিফেন্সকে নেতৃত্ব দিয়ে যাওয়ার ঘটনা এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
মাঠে মার্টিনেজ চলেন তীব্র আগ্রাসন আর আকাশচুম্বী আত্মবিশ্বাসের জোরে। প্রতিপক্ষ স্ট্রাইকারদের মনস্তাত্ত্বিকভাবে বিপর্যস্ত করতে নানারকম অঙ্গভঙ্গি, কথা বলা ও স্লেজিং ব্যবহার করেন। তার এই আক্রমণাত্মক মনোভাব অনেক সময় ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে বিতর্কের জন্ম দিলেও আর্জেন্টিনার জন্য তা সব সময়ই এক জাদুকরী শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। আলবিসেলেস্তেদের জন্য তিনি একজন অভেদ্য দেয়াল এবং দলের খেলোয়াড়দের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা। চাপের মুখে দমে না গিয়ে বরং আরও বেশি জ্বলে ওঠেন, যা তাকে আধুনিক ফুটবলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও স্মরণীয় গোলরক্ষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
উল্লেখ্য, বিশ্বকাপ শুরুর আগে ডান হাতের অনামিকা আঙুলে চিড় ধরার পর থেকে এখনো প্রতিদিনই ব্যথা অনুভব করেন মার্টিনেজ। তারপরও অস্ত্রোপচার না করিয়ে খেলে যাচ্ছেন এই আর্জেন্টাইন বাজপাখি।
রিপোর্টারের নাম 
























