ঢাকা ০১:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

জুলাইয়ের লড়াই শেষ হয়নি, ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধে গণমাধ্যমের ভূমিকা জরুরি: মাহমুদুর রহমান

জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আমার দেশ সম্পাদক ও ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান বলেছেন, জুলাই মাসে আমাদের যে লড়াই শুরু হয়েছে, সেটা এখনো শেষ হয়নি। এই সংগ্রাম চলমান এবং বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, এ লড়াই ততদিন চলবে।

রবিবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে জীবন উৎসর্গকারী শহীদ সাংবাদিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং ‘ফ্যাসিবাদী শাসনে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনইসি) ‘জুলাই শহীদ সাংবাদিক সম্মাননা’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মাহমুদুর রহমান বলেন, সংবাদমাধ্যমের কাজ হচ্ছে প্রশ্ন করা। আমাদের সাংবাদিকদের অধিকার হচ্ছে ‘টু আস্ক কোশ্চেনস’। আমরা এই অধিকার থেকে বেরিয়ে আসব না, ইনশাল্লাহ। এ সময় শহীদ পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আমার দেশ সম্পাদক বলেন, ‘আমি শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং তাদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। এই শহীদরা অল্প বয়সে জীবন না দিলে আমরা স্বাধীনতা ফিরে পেতাম না, আমি আমার নির্বাসনজীবন থেকে ফিরে আসতে পারতাম না, আমি আবার আমার দেশ চালু করতে পারতাম না। কাজেই এদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।’

এ সময় এনইসি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য তুলে ধরে মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘এর মাধ্যমে আমরা সারা দেশের সব পত্রিকার সম্পাদকদের ঐক্যবদ্ধ করতে চেয়েছি। আমরা এলিটবাদ থেকে বের হতে চেয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এর আগে এডিটরদের নামে একটা এলিট ক্লাসের নিয়ন্ত্রণ দেখেছি। আমরা সেখান থেকে ঢাকার বাইরের সম্পাদকদের যুক্ত করতে চেয়েছি। আর দ্বিতীয় আরেকটা উদ্দেশ্য হচ্ছে, আবার যেন কোনো ফ্যাসিবাদ গড়ে উঠতে না পারে, সে জন্য জাতিকে সার্বক্ষণিকভাবে সজাগ রাখা। এটা আমাদের ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের লক্ষ্য।’

মাহমুদুর রহমান আরও বলেন, ফ্যাসিবাদের যে উত্থান হয়েছিল, তার পেছনে মিডিয়ারও ভূমিকা ছিল। মিডিয়ার তোষামোদের কারণে ফ্যাসিবাদ এতটা ভয়ংকর হয়ে উঠতে পেরেছিল। আমার দেশ সম্পাদক বলেন, ‘একটি সমস্যা আমার মনে হয়, আমরা জাতি হিসেবে তোষামোদ ও তোষামোদি পছন্দ করি। অদ্ভুত আমাদের জাতীয় চরিত্র।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের চেষ্টা হলে উত্তরা থেকেই হবে প্রথম প্রতিরোধ: নাহিদ ইসলাম

জুলাইয়ের লড়াই শেষ হয়নি, ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধে গণমাধ্যমের ভূমিকা জরুরি: মাহমুদুর রহমান

আপডেট সময় : ০৩:১৯:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আমার দেশ সম্পাদক ও ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান বলেছেন, জুলাই মাসে আমাদের যে লড়াই শুরু হয়েছে, সেটা এখনো শেষ হয়নি। এই সংগ্রাম চলমান এবং বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, এ লড়াই ততদিন চলবে।

রবিবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে জীবন উৎসর্গকারী শহীদ সাংবাদিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং ‘ফ্যাসিবাদী শাসনে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনইসি) ‘জুলাই শহীদ সাংবাদিক সম্মাননা’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মাহমুদুর রহমান বলেন, সংবাদমাধ্যমের কাজ হচ্ছে প্রশ্ন করা। আমাদের সাংবাদিকদের অধিকার হচ্ছে ‘টু আস্ক কোশ্চেনস’। আমরা এই অধিকার থেকে বেরিয়ে আসব না, ইনশাল্লাহ। এ সময় শহীদ পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আমার দেশ সম্পাদক বলেন, ‘আমি শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং তাদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। এই শহীদরা অল্প বয়সে জীবন না দিলে আমরা স্বাধীনতা ফিরে পেতাম না, আমি আমার নির্বাসনজীবন থেকে ফিরে আসতে পারতাম না, আমি আবার আমার দেশ চালু করতে পারতাম না। কাজেই এদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।’

এ সময় এনইসি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য তুলে ধরে মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘এর মাধ্যমে আমরা সারা দেশের সব পত্রিকার সম্পাদকদের ঐক্যবদ্ধ করতে চেয়েছি। আমরা এলিটবাদ থেকে বের হতে চেয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এর আগে এডিটরদের নামে একটা এলিট ক্লাসের নিয়ন্ত্রণ দেখেছি। আমরা সেখান থেকে ঢাকার বাইরের সম্পাদকদের যুক্ত করতে চেয়েছি। আর দ্বিতীয় আরেকটা উদ্দেশ্য হচ্ছে, আবার যেন কোনো ফ্যাসিবাদ গড়ে উঠতে না পারে, সে জন্য জাতিকে সার্বক্ষণিকভাবে সজাগ রাখা। এটা আমাদের ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের লক্ষ্য।’

মাহমুদুর রহমান আরও বলেন, ফ্যাসিবাদের যে উত্থান হয়েছিল, তার পেছনে মিডিয়ারও ভূমিকা ছিল। মিডিয়ার তোষামোদের কারণে ফ্যাসিবাদ এতটা ভয়ংকর হয়ে উঠতে পেরেছিল। আমার দেশ সম্পাদক বলেন, ‘একটি সমস্যা আমার মনে হয়, আমরা জাতি হিসেবে তোষামোদ ও তোষামোদি পছন্দ করি। অদ্ভুত আমাদের জাতীয় চরিত্র।’