ঢাকা ০১:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

লোহাগাড়ায় বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি: ক্ষতিগ্রস্ত ২৩ হাজার পরিবার, ৪৩ কোটি টাকার ক্ষতি

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্যমতে, বন্যায় প্রায় ২৩ হাজার ৭৫০টি পরিবার সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়ক, সেতু, কৃষি ও মৎস্যসহ বিভিন্ন খাতে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর এলাকায় ধ্বংসযজ্ঞের প্রকৃত চিত্র ফুটে উঠছে।

প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় ৮৩ কিলোমিটার পাকা ও কাঁচা রাস্তা, ৪টি সেতু এবং ২০টি কালভার্ট আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ১৮৪ হেক্টর শস্যক্ষেত ও ১৩৫ হেক্টর বীজতলা তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। মৎস্য খাতেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, যেখানে ১ হাজার ৬৫০টি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয় এবং বিদ্যুৎ লাইনেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

চুনতি ইউনিয়নের দুর্গম এলাকার বাসিন্দারা জানান, ঘরবাড়ি ভেঙে যাওয়ায় তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেক এলাকায় এখনো সুপেয় পানি ও খাদ্যের সংকট রয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, টংকাবতী খালের তীব্র স্রোতে পাড় ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় অনেক মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় ত্রাণ পৌঁছাতেও বেগ পেতে হচ্ছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, এ পর্যন্ত বন্যার্তদের মাঝে শুকনো খাবার ও চাল বিতরণ করা হয়েছে। আরও ত্রাণ সহায়তা এবং ঘরবাড়ি মেরামতের জন্য টিনের চাহিদা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও ব্যক্তি উদ্যোগেও দুর্গত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের চেষ্টা হলে উত্তরা থেকেই হবে প্রথম প্রতিরোধ: নাহিদ ইসলাম

লোহাগাড়ায় বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি: ক্ষতিগ্রস্ত ২৩ হাজার পরিবার, ৪৩ কোটি টাকার ক্ষতি

আপডেট সময় : ০১:২০:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্যমতে, বন্যায় প্রায় ২৩ হাজার ৭৫০টি পরিবার সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়ক, সেতু, কৃষি ও মৎস্যসহ বিভিন্ন খাতে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর এলাকায় ধ্বংসযজ্ঞের প্রকৃত চিত্র ফুটে উঠছে।

প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় ৮৩ কিলোমিটার পাকা ও কাঁচা রাস্তা, ৪টি সেতু এবং ২০টি কালভার্ট আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ১৮৪ হেক্টর শস্যক্ষেত ও ১৩৫ হেক্টর বীজতলা তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। মৎস্য খাতেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, যেখানে ১ হাজার ৬৫০টি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয় এবং বিদ্যুৎ লাইনেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

চুনতি ইউনিয়নের দুর্গম এলাকার বাসিন্দারা জানান, ঘরবাড়ি ভেঙে যাওয়ায় তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেক এলাকায় এখনো সুপেয় পানি ও খাদ্যের সংকট রয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, টংকাবতী খালের তীব্র স্রোতে পাড় ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় অনেক মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় ত্রাণ পৌঁছাতেও বেগ পেতে হচ্ছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, এ পর্যন্ত বন্যার্তদের মাঝে শুকনো খাবার ও চাল বিতরণ করা হয়েছে। আরও ত্রাণ সহায়তা এবং ঘরবাড়ি মেরামতের জন্য টিনের চাহিদা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও ব্যক্তি উদ্যোগেও দুর্গত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।