ঢাকা ০৩:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

ডিপফেইক ছবি তৈরি, গ্রক ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে মামলায় এক্সএআই

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানুষের স্পষ্ট সম্মতি ব্যতিরেকে আপত্তিকর ও অনৈতিক ডিপফেইক ছবি ও কনটেন্ট তৈরির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে নিজেদের এক ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছে ইলন মাস্কের মালিকানাধীন শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানি এক্সএআই (xAI)। বিশ্ব ফুটবলের বা প্রযুক্তি বিশ্বের ইতিহাসে কোনো এআই কোম্পানির পক্ষ থেকে তাদের নিজস্ব নিবন্ধিত ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে এই ধরনের কঠোর আইনি পদক্ষেপ বা মামলা করার ঘটনা এটিই প্রথম। অভিযুক্ত ওই ব্যক্তিকে ইতিপূর্বেই শিশু যৌন নিপীড়নের মারাত্মক অভিযোগে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কর্তৃক গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।

প্রযুক্তি সংবাদের জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক সাইট এনগ্যাজেট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা ৬৭ বছর বয়সী টেরি ওয়েন হারউড। তাঁর বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ হলো, তিনি এক্সএআই-এর নিজস্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন চ্যাটবট ‘গ্রক’ (Grok)-এর তৈরি নিরাপত্তামূলক সুরক্ষাবেষ্টনী ও ফিল্টার ভেঙে বিভিন্ন নারী ও শিশুদের স্বাভাবিক ছবিকে আপত্তিকরভাবে বিকৃত করার চেষ্টা চালিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের একটি আদালতে দায়ের করা মামলার আনুষ্ঠানিক বিবরণীতে এক্সএআই উল্লেখ করেছে যে, বিগত ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু করে চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অভিযুক্ত টেরি ওয়েন হারউড তাঁর নিজস্ব দুটি এক্সএআই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে বেশ কয়েকজন প্রাপ্তবয়স্ক এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুর সাধারণ ও স্বাভাবিক ছবি প্ল্যাটফর্মটিতে আপলোড করেন। এরপর তিনি চ্যাটবট গ্রক-কে বিভিন্ন প্রম্পটের মাধ্যমে নির্দেশ দেন যেন আপলোড করা এই ছবিগুলো ডিজিটাল কারসাজির মাধ্যমে পরিবর্তন করে বা সম্পূর্ণ নতুন ছবি ও ভিডিও তৈরি করে ওই প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুদের ‘পর্নোগ্রাফিক উপায়ে বা অন্য কোনোভাবে যৌন উত্তেজক’ রূপে উপস্থাপন করা হয়।

মামলার নথিতে কোম্পানিটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, চ্যাটবট গ্রক ‘বহুবার’ হারউডের দেওয়া এসব অনৈতিক ও নীতিবহির্ভূত নির্দেশ মানতে সরাসরি ও তাৎক্ষণিকভাবে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। কিন্তু গ্রক বারবার তাঁর অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করার পরও অভিযুক্ত ব্যক্তি দমে যাননি। তিনি এআই-এর বিল্ট-ইন নিরাপত্তা বেষ্টনী ও সুরক্ষানীতি ফাঁকি দেওয়ার জন্য অনবরত ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে ও ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে একই ধরনের প্রম্পট বা নির্দেশ পাঠাতে থাকেন।

মামলায় একটি নির্দিষ্ট রোমহর্ষক ঘটনার উদাহরণ টেনে এক্সএআই বলেছে, হারউড ১০ থেকে ১১ বছর বয়সী সম্পূর্ণ পোশাক পরিহিত একটি অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের ছবি প্ল্যাটফর্মটিতে আপলোড করেছিলেন। এরপর তিনি গ্রক-কে নির্দেশ দেন, যেন মেয়েটির শরীর থেকে সব পোশাক ডিজিটাল প্রযুক্তির সাহায্যে সরিয়ে তাকে বিছানায় ‘প্লেবয় মডেলের মতো ভঙ্গি’ করতে বাধ্য করা হয়। গ্রক সিস্টেম তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর এই অনৈতিক অনুরোধটি বাতিল ও প্রত্যাখ্যান করলেও হারউড অনবরত প্রম্পট সংশোধন করে নতুন নতুন অনুরোধ পাঠাতে থাকেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, কোনো এআই প্রযুক্তি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাদের নিজেদের গ্রাহক বা ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে এ ধরনের মামলা করার ঘটনা প্রযুক্তি ইতিহাসে সম্পূর্ণ নজিরবিহীন। এই কঠোর আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে এক্সএআই মূলত বিশ্বজুড়ে তাদের কোটি কোটি ব্যবহারকারীর কাছে এই কড়া বার্তা দিতে চাইছে যে, গ্রক বা তাদের তৈরি যেকোনো প্রযুক্তির অপব্যবহার বা অনৈতিক ব্যবহার করা হলে ভবিষ্যতে কাউকেই কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না এবং কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারির শুরুতে প্রযুক্তি বিশ্বে প্রথম এই সংক্রান্ত অভিযোগ উঠতে শুরু করে যে, এক্সএআই-এর তৈরি চ্যাটবট ‘গ্রক’ ব্যবহার করে বাস্তব জীবনের নারী ও শিশুদের ছবি বিকৃত করে আপত্তিকর ও যৌন উত্তেজক ছবি ও কনটেন্ট তৈরি করা যাচ্ছে। এই কেলেঙ্কারিটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশ্যে আসার পরপরই বিভিন্ন দেশের সরকারি ও প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো দ্রুত গ্রক-এর নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করে।

জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এআই প্রযুক্তির এই মারাত্মক অপব্যবহার নিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্তে নামে। ঠিক একই সময়ে বিষয়টি নিয়ে গভীর তদন্ত শুরু করে যুক্তরাজ্যের অন্যতম প্রধান নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘অফকম’ (Ofcom)। এ ছাড়া ইউরোপীয় কমিশন এবং আয়ারল্যান্ডের ডেটা প্রোটেকশন কমিশনও এই স্পর্শকাতর বিষয়ে আলাদা দুটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে।

আন্তর্জাতিক এই তদন্ত ও চাপ শুরু হওয়ার পরপরই এক্সএআই তাদের প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারীদের মাধ্যমে সম্মতিহীন যৌন উত্তেজক ডিপফেইক তৈরি বন্ধ করার লক্ষ্যে বেশ কিছু কঠোর নিরাপত্তামূলক ও ফিল্টারিং ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তবে এই নিরাপত্তা কড়াকড়ির পরও ব্যবহারকারীরা গ্রক ব্যবহার করে পুরুষদের পোশাকবিহীন ছবি তৈরি করার মতো কিছু লুপহোল বা ফাঁকফোকর বের করে ফেলেছিল। অভিযুক্ত হারউডও সিস্টেমের এই কারিগরি ফাঁকফোকর গলে তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে অনবরত ছবি আপলোড করে সেগুলোকে আপত্তিকরভাবে বিকৃত করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

পরবর্তীতে গত ৯ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে হারউডের গ্রেপ্তারের খবর ঘোষণা করা হয়। শিশুদের বিরুদ্ধে ইন্টারনেট অপরাধ দমন সংক্রান্ত বিশেষ টাস্কফোর্সের একটি সফল অভিযানের অংশ হিসেবে তাকে নিজ বাসস্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে হারউডের বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্কদের মার্কিন আইন অনুযায়ী দ্বিতীয় ডিগ্রির যৌন নিপীড়নের তিনটি এবং তৃতীয় ডিগ্রির যৌন নিপীড়নের পাঁচটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হারউড কেবল শিশু যৌন নির্যাতনের এসব আপত্তিকর ও বিকৃত ডিজিটাল কনটেন্ট নিজের কাছেই সংরক্ষণ করে রাখেননি, বরং সেগুলো ইন্টারনেটের বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়েও দিয়েছিলেন।

এই গুরুতর ও অনৈতিক ঘটনার প্রেক্ষিতে এক্সএআই এখন আদালতের কাছে টেরি ওয়েন হারউডের কাছ থেকে অনির্দিষ্ট অঙ্কের বিশাল আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। একই সঙ্গে আদালতের কাছে কোম্পানিটি জোরালো আবেদন জানিয়েছে যে, হারউডের এই বিকৃত কর্মকাণ্ডের শিকার হওয়া কোনো ব্যক্তি বা ভুক্তভোগী পরিবার যদি ভবিষ্যতে এক্সএআই-এর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আইনি পদক্ষেপ বা ক্ষতিপূরণের মামলা দায়ের করেন, তবে সেই মামলার যাবতীয় খরচ ও ক্ষতিপূরণের অর্থ যেন এককভাবে অভিযুক্ত হারউডকেই বহন করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

একীভূত পাঁচ ব্যাংকে প্রশাসক বহাল নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আজ

ডিপফেইক ছবি তৈরি, গ্রক ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে মামলায় এক্সএআই

আপডেট সময় : ০৪:৩৩:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানুষের স্পষ্ট সম্মতি ব্যতিরেকে আপত্তিকর ও অনৈতিক ডিপফেইক ছবি ও কনটেন্ট তৈরির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে নিজেদের এক ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছে ইলন মাস্কের মালিকানাধীন শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানি এক্সএআই (xAI)। বিশ্ব ফুটবলের বা প্রযুক্তি বিশ্বের ইতিহাসে কোনো এআই কোম্পানির পক্ষ থেকে তাদের নিজস্ব নিবন্ধিত ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে এই ধরনের কঠোর আইনি পদক্ষেপ বা মামলা করার ঘটনা এটিই প্রথম। অভিযুক্ত ওই ব্যক্তিকে ইতিপূর্বেই শিশু যৌন নিপীড়নের মারাত্মক অভিযোগে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কর্তৃক গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।

প্রযুক্তি সংবাদের জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক সাইট এনগ্যাজেট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা ৬৭ বছর বয়সী টেরি ওয়েন হারউড। তাঁর বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ হলো, তিনি এক্সএআই-এর নিজস্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন চ্যাটবট ‘গ্রক’ (Grok)-এর তৈরি নিরাপত্তামূলক সুরক্ষাবেষ্টনী ও ফিল্টার ভেঙে বিভিন্ন নারী ও শিশুদের স্বাভাবিক ছবিকে আপত্তিকরভাবে বিকৃত করার চেষ্টা চালিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের একটি আদালতে দায়ের করা মামলার আনুষ্ঠানিক বিবরণীতে এক্সএআই উল্লেখ করেছে যে, বিগত ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু করে চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অভিযুক্ত টেরি ওয়েন হারউড তাঁর নিজস্ব দুটি এক্সএআই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে বেশ কয়েকজন প্রাপ্তবয়স্ক এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুর সাধারণ ও স্বাভাবিক ছবি প্ল্যাটফর্মটিতে আপলোড করেন। এরপর তিনি চ্যাটবট গ্রক-কে বিভিন্ন প্রম্পটের মাধ্যমে নির্দেশ দেন যেন আপলোড করা এই ছবিগুলো ডিজিটাল কারসাজির মাধ্যমে পরিবর্তন করে বা সম্পূর্ণ নতুন ছবি ও ভিডিও তৈরি করে ওই প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুদের ‘পর্নোগ্রাফিক উপায়ে বা অন্য কোনোভাবে যৌন উত্তেজক’ রূপে উপস্থাপন করা হয়।

মামলার নথিতে কোম্পানিটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, চ্যাটবট গ্রক ‘বহুবার’ হারউডের দেওয়া এসব অনৈতিক ও নীতিবহির্ভূত নির্দেশ মানতে সরাসরি ও তাৎক্ষণিকভাবে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। কিন্তু গ্রক বারবার তাঁর অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করার পরও অভিযুক্ত ব্যক্তি দমে যাননি। তিনি এআই-এর বিল্ট-ইন নিরাপত্তা বেষ্টনী ও সুরক্ষানীতি ফাঁকি দেওয়ার জন্য অনবরত ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে ও ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে একই ধরনের প্রম্পট বা নির্দেশ পাঠাতে থাকেন।

মামলায় একটি নির্দিষ্ট রোমহর্ষক ঘটনার উদাহরণ টেনে এক্সএআই বলেছে, হারউড ১০ থেকে ১১ বছর বয়সী সম্পূর্ণ পোশাক পরিহিত একটি অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের ছবি প্ল্যাটফর্মটিতে আপলোড করেছিলেন। এরপর তিনি গ্রক-কে নির্দেশ দেন, যেন মেয়েটির শরীর থেকে সব পোশাক ডিজিটাল প্রযুক্তির সাহায্যে সরিয়ে তাকে বিছানায় ‘প্লেবয় মডেলের মতো ভঙ্গি’ করতে বাধ্য করা হয়। গ্রক সিস্টেম তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর এই অনৈতিক অনুরোধটি বাতিল ও প্রত্যাখ্যান করলেও হারউড অনবরত প্রম্পট সংশোধন করে নতুন নতুন অনুরোধ পাঠাতে থাকেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, কোনো এআই প্রযুক্তি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাদের নিজেদের গ্রাহক বা ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে এ ধরনের মামলা করার ঘটনা প্রযুক্তি ইতিহাসে সম্পূর্ণ নজিরবিহীন। এই কঠোর আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে এক্সএআই মূলত বিশ্বজুড়ে তাদের কোটি কোটি ব্যবহারকারীর কাছে এই কড়া বার্তা দিতে চাইছে যে, গ্রক বা তাদের তৈরি যেকোনো প্রযুক্তির অপব্যবহার বা অনৈতিক ব্যবহার করা হলে ভবিষ্যতে কাউকেই কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না এবং কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারির শুরুতে প্রযুক্তি বিশ্বে প্রথম এই সংক্রান্ত অভিযোগ উঠতে শুরু করে যে, এক্সএআই-এর তৈরি চ্যাটবট ‘গ্রক’ ব্যবহার করে বাস্তব জীবনের নারী ও শিশুদের ছবি বিকৃত করে আপত্তিকর ও যৌন উত্তেজক ছবি ও কনটেন্ট তৈরি করা যাচ্ছে। এই কেলেঙ্কারিটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশ্যে আসার পরপরই বিভিন্ন দেশের সরকারি ও প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো দ্রুত গ্রক-এর নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করে।

জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এআই প্রযুক্তির এই মারাত্মক অপব্যবহার নিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্তে নামে। ঠিক একই সময়ে বিষয়টি নিয়ে গভীর তদন্ত শুরু করে যুক্তরাজ্যের অন্যতম প্রধান নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘অফকম’ (Ofcom)। এ ছাড়া ইউরোপীয় কমিশন এবং আয়ারল্যান্ডের ডেটা প্রোটেকশন কমিশনও এই স্পর্শকাতর বিষয়ে আলাদা দুটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে।

আন্তর্জাতিক এই তদন্ত ও চাপ শুরু হওয়ার পরপরই এক্সএআই তাদের প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারীদের মাধ্যমে সম্মতিহীন যৌন উত্তেজক ডিপফেইক তৈরি বন্ধ করার লক্ষ্যে বেশ কিছু কঠোর নিরাপত্তামূলক ও ফিল্টারিং ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তবে এই নিরাপত্তা কড়াকড়ির পরও ব্যবহারকারীরা গ্রক ব্যবহার করে পুরুষদের পোশাকবিহীন ছবি তৈরি করার মতো কিছু লুপহোল বা ফাঁকফোকর বের করে ফেলেছিল। অভিযুক্ত হারউডও সিস্টেমের এই কারিগরি ফাঁকফোকর গলে তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে অনবরত ছবি আপলোড করে সেগুলোকে আপত্তিকরভাবে বিকৃত করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

পরবর্তীতে গত ৯ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে হারউডের গ্রেপ্তারের খবর ঘোষণা করা হয়। শিশুদের বিরুদ্ধে ইন্টারনেট অপরাধ দমন সংক্রান্ত বিশেষ টাস্কফোর্সের একটি সফল অভিযানের অংশ হিসেবে তাকে নিজ বাসস্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে হারউডের বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্কদের মার্কিন আইন অনুযায়ী দ্বিতীয় ডিগ্রির যৌন নিপীড়নের তিনটি এবং তৃতীয় ডিগ্রির যৌন নিপীড়নের পাঁচটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হারউড কেবল শিশু যৌন নির্যাতনের এসব আপত্তিকর ও বিকৃত ডিজিটাল কনটেন্ট নিজের কাছেই সংরক্ষণ করে রাখেননি, বরং সেগুলো ইন্টারনেটের বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়েও দিয়েছিলেন।

এই গুরুতর ও অনৈতিক ঘটনার প্রেক্ষিতে এক্সএআই এখন আদালতের কাছে টেরি ওয়েন হারউডের কাছ থেকে অনির্দিষ্ট অঙ্কের বিশাল আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। একই সঙ্গে আদালতের কাছে কোম্পানিটি জোরালো আবেদন জানিয়েছে যে, হারউডের এই বিকৃত কর্মকাণ্ডের শিকার হওয়া কোনো ব্যক্তি বা ভুক্তভোগী পরিবার যদি ভবিষ্যতে এক্সএআই-এর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আইনি পদক্ষেপ বা ক্ষতিপূরণের মামলা দায়ের করেন, তবে সেই মামলার যাবতীয় খরচ ও ক্ষতিপূরণের অর্থ যেন এককভাবে অভিযুক্ত হারউডকেই বহন করার নির্দেশ দেওয়া হয়।