ঢাকা ০১:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

হাতিয়ায় টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের তাণ্ডব: ২৫ হাজার হেক্টর ফসলের ব্যাপক ক্ষতি, দিশেহারা ৮০ হাজার কৃষক

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় টানা কয়েক দিনের ভারি বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে সৃষ্ট দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। এতে আউশ ধান, আমনের বীজতলা এবং শীতকালীন শাকসবজিসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৩০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে, যার ফলে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন উপজেলার প্রায় ৮০ হাজার কৃষক।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় ২১ হাজার ৫২০ হেক্টর আউশ ধান, ১ হাজার ৯২০ হেক্টর আমনের বীজতলা এবং ৯৫০ হেক্টর মৌসুমি সবজি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ফলের বাগান, মরিচ ও পানের বরজও রেহাই পায়নি। সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক কৃষক তাদের শেষ সম্বলটুকু দিয়ে তৈরি করা বীজতলা রক্ষার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। পানি নেমে গেলেও চারা পচে যাওয়ায় নতুন করে আবাদের সুযোগ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানিয়েছেন, তারা অনেকেই এনজিও বা বিভিন্ন খাত থেকে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছিলেন। এখন ফসল হারিয়ে তারা নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিটি ইউনিয়নে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্তদের পরামর্শ দিচ্ছেন। ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত প্রতিবেদন ইতোমধ্যে জেলা অফিসে পাঠানো হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য দ্রুত সরকারি সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের চেষ্টা হলে উত্তরা থেকেই হবে প্রথম প্রতিরোধ: নাহিদ ইসলাম

হাতিয়ায় টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের তাণ্ডব: ২৫ হাজার হেক্টর ফসলের ব্যাপক ক্ষতি, দিশেহারা ৮০ হাজার কৃষক

আপডেট সময় : ০২:২৮:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় টানা কয়েক দিনের ভারি বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে সৃষ্ট দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। এতে আউশ ধান, আমনের বীজতলা এবং শীতকালীন শাকসবজিসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৩০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে, যার ফলে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন উপজেলার প্রায় ৮০ হাজার কৃষক।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় ২১ হাজার ৫২০ হেক্টর আউশ ধান, ১ হাজার ৯২০ হেক্টর আমনের বীজতলা এবং ৯৫০ হেক্টর মৌসুমি সবজি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ফলের বাগান, মরিচ ও পানের বরজও রেহাই পায়নি। সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক কৃষক তাদের শেষ সম্বলটুকু দিয়ে তৈরি করা বীজতলা রক্ষার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। পানি নেমে গেলেও চারা পচে যাওয়ায় নতুন করে আবাদের সুযোগ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানিয়েছেন, তারা অনেকেই এনজিও বা বিভিন্ন খাত থেকে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছিলেন। এখন ফসল হারিয়ে তারা নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিটি ইউনিয়নে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্তদের পরামর্শ দিচ্ছেন। ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত প্রতিবেদন ইতোমধ্যে জেলা অফিসে পাঠানো হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য দ্রুত সরকারি সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।