ইসলামী আন্দোলনের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন, দেশে ফ্যাসিবাদের পতন হলেও তরুণ প্রজন্ম যে লক্ষ্য নিয়ে চব্বিশের আন্দোলন করেছিল, তা এখনও পূরণ হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানসহ অতীতের প্রতিটি অভ্যুত্থান ও সংগ্রামের পরেই দেশ এমন শক্তির হাতে গিয়েছে, যাদের কাছে ইসলাম, দেশ ও মানবতা কোনোটিই নিরাপদ নয়।
তিনি আরও বলেন, “শেয়ালের কাছে মুরগি বর্গা দেওয়ার মতো ভুল বারবার করার কারণেই জাতির ভাগ্যে এমন হতাশা নেমে আসে।” তাই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তনের লক্ষ্যে ইসলামকে ক্ষমতায় আনতে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। চরমোনাই পীর মনে করেন, ইসলামী শরীয়াহ-র শাসনই প্রকৃত আদর্শ শাসন।
রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ আয়োজিত ‘স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবসে চেতনায় জুলাই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চরমোনাই পীর তার বক্তৃতায় চব্বিশের উত্তাল দিনগুলোর কথা স্মরণ করে বলেন, “আমরা আমাদের রাজনৈতিক অস্তিত্বকে হুমকির মুখে রেখেও রাজপথে অবস্থান নিয়েছি। চব্বিশের এই দিনেও বাইতুল মোকাররমে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের সমাবেশ ও মিছিলে আমি ও আমার যুবকর্মীরা ছিলাম। আমাদের ওপরেও নির্বিচারে গুলি চালিয়েছিল স্বৈরাচারের পেটোয়া বাহিনী।” তিনি সেদিনই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে, যত শক্তিশালীই হোক, ফ্যাসিবাদের পতন হবেই। তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, “ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে।”
ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদের সভাপতিত্বে এবং জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল মুফতী রহমাতুল্লাহ বিন হাবিব ও অ্যাসিস্টান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা ইলিয়াস হাসানের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যক্ষ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মাদ নেছার উদ্দীন, সহকারী মহাসচিব কে এম আতিকুর রহমান, ইসলামী যুব অন্দোলনের সেক্রেটারি জেনারেল মুফতি মানসুর আহমদ সাকী এবং যুব অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি নাদিম হাসান। এছাড়াও সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ওবায়দুল্লাহ আল মামুন, যুব আন্দোলনের দফতর সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক মুহাম্মাদ আবু বকর সিদ্দীক, আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক অ্যাডভোকেট বায়েজীদ হোসাইন, নগর উত্তরের সভাপতি হাম্মাদ বিন মোশাররফ, নগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
রিপোর্টারের নাম 























