বগুড়ার শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামে টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিশ্বরোড সংলগ্ন একটি ড্রেন দিয়ে মির্জাপুর ও শাহবন্দেগী ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রামের বৃষ্টির পানি প্রবল স্রোতে কৃষ্ণপুর গ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় ফসলি জমি, বসতভিটা ও বিদ্যুতের খুঁটি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
ইতোমধ্যে পানির তীব্র স্রোতে কৃষিজমি বিলীন হতে শুরু করেছে। ভাঙনের কবলে পড়েছে দুটি বিদ্যুতের খুঁটিও। যেকোনো দুর্ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিশ্বরোডের ড্রেন দিয়ে প্রবাহিত পানির প্রচণ্ড স্রোতে কৃষ্ণপুর গ্রামের পাশের ফসলি জমির পাড় দ্রুত ধসে পড়ছে। কয়েকটি স্থানে কয়েক ফুট করে জমি ভেঙে পানিতে তলিয়ে গেছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, মদনপুর, কৃষ্ণপুর, যমুনাপাড়া, আন্দীকুমড়া, বাগমারা, হাতিগাড়া, কানাইকান্দর, ফুলতলাসহ মির্জাপুর ও শাহবন্দেগী ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রামের বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ এই ড্রেন। ফলে অতিরিক্ত বৃষ্টির সময় পানির চাপ কয়েকগুণ বেড়ে গিয়ে প্রতি বছরই এ এলাকায় ভাঙনের সৃষ্টি হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক শ্রী খোকন চন্দ্র রায় বলেন, “প্রতি বছরের মতো এবারও ভারী বৃষ্টির পানির চাপে আমার কৃষিজমি ভাঙতে শুরু করেছে। প্রায় ৬ বিঘা ফসলি জমি এখন চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।” আরেক ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম জানান, তার প্রায় ১ বিঘা জমিসহ বসতভিটা ভাঙনের কবলে পড়েছে। এছাড়া কৃষক শাহিন সেখ ও শাহ আলীর জমিতেও ভাঙন শুরু হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দুই ইউনিয়নের পানি একই ড্রেন দিয়ে প্রবাহিত হলেও পানি নিষ্কাশনের জন্য কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রতি বর্ষা মৌসুমে সাময়িক সংস্কার করা হলেও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ না থাকায় কৃষিজমি ও বসতভিটা ক্ষতির মুখে পড়ছে। স্থানীয়রা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ভাঙন আরও বিস্তৃত হয়ে নদীভাঙনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তারা ড্রেন পুনঃখনন ও প্রশস্তকরণ, পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ এবং ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী প্রতিরক্ষা অবকাঠামো নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
মির্জাপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আখতার হোসেন বলেন, “সমস্যাটি দীর্ঘদিনের। স্থায়ী সমাধানের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।”
রিপোর্টারের নাম 
























