ঢাকা ০৭:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কর্মক্ষমতা হারানো বাদলের চিকিৎসার জন্য সাহায্যের আবেদন

বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়নের বাসিন্দা বাদল হাজারী বিদ্যুতের শর্ট সার্কিটে গুরুতর দগ্ধ হয়ে স্থায়ীভাবে কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন। এতে তার পরিবারের জীবন অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়েছে। সুন্দরবনে মাছ ধরে বৃদ্ধ বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণ করতেন বাদল, কিন্তু এখন চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে না পেরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাদল হাজারী তার বাবা মুনছুর হাজারীর একমাত্র সন্তান। ছোটবেলা থেকেই তিনি সংসারের সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। প্রতিদিন সুন্দরবনে মাছ ধরে যে আয় করতেন, তা দিয়ে পরিবারের সব খরচ চলত। কিন্তু কয়েক মাস আগে বিদ্যুতের শর্ট সার্কিটে দগ্ধ হওয়ার পর তার জীবন সম্পূর্ণ বদলে যায়। চিকিৎসকদের দেওয়া সনদ ও মেডিকেল রিপোর্ট অনুযায়ী, বাদল বর্তমানে স্থায়ীভাবে কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সম্ভাবনাও অত্যন্ত সীমিত।

দীর্ঘদিনের চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে পরিবারের সঞ্চয় শেষ হয়ে গেছে। চিকিৎসার খরচ মেটাতে ধার-দেনা করতে হয়েছে। বর্তমানে ওষুধ কেনার সামর্থ্য না থাকায় পরিবারের সদস্যদের পর্যাপ্ত খাবারও জুটছে না। দুর্ঘটনার আগে বাদলই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তিনি কর্মক্ষমতা হারানোর পর পুরো পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। তারা সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

স্থানীয়দের মতে, দ্রুত সরকারি সহায়তা না পেলে পরিবারটির পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে। তারা বাদল হাজারীকে দ্রুত সরকারি ভাতা ও পুনর্বাসনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে মোংলা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা জানিয়েছেন, বাদল হাজারীর আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত তাকে প্রতিবন্ধী কার্ড ও সরকারি সহায়তার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শাহবাগে পবিত্র কোরআনের তাফসীর গ্রন্থ পোড়ানোর অভিযোগে যুবক কারাগারে

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কর্মক্ষমতা হারানো বাদলের চিকিৎসার জন্য সাহায্যের আবেদন

আপডেট সময় : ০৫:৫০:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়নের বাসিন্দা বাদল হাজারী বিদ্যুতের শর্ট সার্কিটে গুরুতর দগ্ধ হয়ে স্থায়ীভাবে কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন। এতে তার পরিবারের জীবন অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়েছে। সুন্দরবনে মাছ ধরে বৃদ্ধ বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণ করতেন বাদল, কিন্তু এখন চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে না পেরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাদল হাজারী তার বাবা মুনছুর হাজারীর একমাত্র সন্তান। ছোটবেলা থেকেই তিনি সংসারের সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। প্রতিদিন সুন্দরবনে মাছ ধরে যে আয় করতেন, তা দিয়ে পরিবারের সব খরচ চলত। কিন্তু কয়েক মাস আগে বিদ্যুতের শর্ট সার্কিটে দগ্ধ হওয়ার পর তার জীবন সম্পূর্ণ বদলে যায়। চিকিৎসকদের দেওয়া সনদ ও মেডিকেল রিপোর্ট অনুযায়ী, বাদল বর্তমানে স্থায়ীভাবে কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সম্ভাবনাও অত্যন্ত সীমিত।

দীর্ঘদিনের চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে পরিবারের সঞ্চয় শেষ হয়ে গেছে। চিকিৎসার খরচ মেটাতে ধার-দেনা করতে হয়েছে। বর্তমানে ওষুধ কেনার সামর্থ্য না থাকায় পরিবারের সদস্যদের পর্যাপ্ত খাবারও জুটছে না। দুর্ঘটনার আগে বাদলই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তিনি কর্মক্ষমতা হারানোর পর পুরো পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। তারা সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

স্থানীয়দের মতে, দ্রুত সরকারি সহায়তা না পেলে পরিবারটির পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে। তারা বাদল হাজারীকে দ্রুত সরকারি ভাতা ও পুনর্বাসনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে মোংলা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা জানিয়েছেন, বাদল হাজারীর আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত তাকে প্রতিবন্ধী কার্ড ও সরকারি সহায়তার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।