ঢাকা ০১:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নীতি: ইরান দ্বন্দ্বে কৌশলগত সংকটে ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে চলমান দ্বন্দ্বে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক জটিল ও গোলকধাঁধাময় পরিস্থিতিতে পড়েছেন। তার নিজের নেওয়া কিছু সিদ্ধান্তই এই অবস্থার জন্য দায়ী বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তিনি এমন একটি যুদ্ধ শুরু করেছিলেন যার কোনো নিশ্চিত সমাপ্তি ছিল না এবং এমন একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) করেছিলেন যা মূল সংকট সমাধানে ব্যর্থ হয়েছে।

সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার জেরে মার্কিন বাহিনী ইরানে নতুন করে বিমান হামলা চালায়। এই হামলার পর ট্রাম্পের সামনে এখন দুটি বড় প্রশ্ন: তিনি কি যুদ্ধ আরও বাড়াবেন, যার মানবিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মূল্য হতে পারে বিশাল; নাকি ইরানের সঙ্গে একটি ত্রুটিপূর্ণ যুদ্ধবিরতি চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করবেন, যেখানে আলোচনার টেবিলে বসতেই ইরানকে কোটি কোটি ডলার দিতে হতে পারে?

মাত্র তিন সপ্তাহ আগে ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছিলেন এবং এটিকে নিজের একটি বড় সাফল্য হিসেবে দাবি করেছিলেন। কিন্তু নতুন করে শুরু হওয়া এই হামলা-পাল্টা হামলা যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ প্রমাণ করেছে। ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার প্রস্তুত করা এই সমঝোতা স্মারকটি এতটাই অস্পষ্ট এবং এতে কোনো কঠোর নিয়ম না থাকায় এটি ইতোমধ্যেই অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

তুরস্কের ন্যাটো সম্মেলনে যাওয়ার পথে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকটি এখন ‘শেষ’। তিনি ইরানকে ‘পাগল’ বলেও আখ্যা দেন। তবে তার প্রতিনিধিরা চাইলে আলোচনা চালিয়ে যেতে পারেন বলে তিনি জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের চুক্তির অধীনে তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। তবে চুক্তি হবে কি-না তা আমি জানি না। চুক্তি ছাড়াও আমরা এটি করতে পারি, কারণ সেটিই সহজ।’

ট্রাম্প যদি যুদ্ধ বড় আকারে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন, তবে তার হাতে বিকল্প খুবই সীমিত। ইরানে সরাসরি সেনা অভিযান অসম্ভব হলেও, তিনি দেশটির বেসামরিক অবকাঠামো, বিদ্যুৎ কেন্দ্র বা হরমুজ প্রণালির উপকূলীয় এলাকায় হামলা চালাতে পারেন। এছাড়া ইরানের খার্গ দ্বীপের তেল কেন্দ্রটি দখল করার পরিকল্পনাও করতে পারেন। কিন্তু এই ধরনের পদক্ষেপের খরচ হবে বিপুল। খার্গ দ্বীপে হামলা চালাতে গেলে বহু মার্কিন সেনা হতাহতের ঝুঁকিতে পড়বে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কোটা সংস্কার আন্দোলনে অচল দেশ, বিচ্ছিন্ন রাজধানী; আপিল বিভাগের স্থিতাবস্থা আদেশ

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নীতি: ইরান দ্বন্দ্বে কৌশলগত সংকটে ট্রাম্প

আপডেট সময় : ১২:২২:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

ইরানের সঙ্গে চলমান দ্বন্দ্বে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক জটিল ও গোলকধাঁধাময় পরিস্থিতিতে পড়েছেন। তার নিজের নেওয়া কিছু সিদ্ধান্তই এই অবস্থার জন্য দায়ী বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তিনি এমন একটি যুদ্ধ শুরু করেছিলেন যার কোনো নিশ্চিত সমাপ্তি ছিল না এবং এমন একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) করেছিলেন যা মূল সংকট সমাধানে ব্যর্থ হয়েছে।

সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার জেরে মার্কিন বাহিনী ইরানে নতুন করে বিমান হামলা চালায়। এই হামলার পর ট্রাম্পের সামনে এখন দুটি বড় প্রশ্ন: তিনি কি যুদ্ধ আরও বাড়াবেন, যার মানবিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মূল্য হতে পারে বিশাল; নাকি ইরানের সঙ্গে একটি ত্রুটিপূর্ণ যুদ্ধবিরতি চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করবেন, যেখানে আলোচনার টেবিলে বসতেই ইরানকে কোটি কোটি ডলার দিতে হতে পারে?

মাত্র তিন সপ্তাহ আগে ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছিলেন এবং এটিকে নিজের একটি বড় সাফল্য হিসেবে দাবি করেছিলেন। কিন্তু নতুন করে শুরু হওয়া এই হামলা-পাল্টা হামলা যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ প্রমাণ করেছে। ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার প্রস্তুত করা এই সমঝোতা স্মারকটি এতটাই অস্পষ্ট এবং এতে কোনো কঠোর নিয়ম না থাকায় এটি ইতোমধ্যেই অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

তুরস্কের ন্যাটো সম্মেলনে যাওয়ার পথে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকটি এখন ‘শেষ’। তিনি ইরানকে ‘পাগল’ বলেও আখ্যা দেন। তবে তার প্রতিনিধিরা চাইলে আলোচনা চালিয়ে যেতে পারেন বলে তিনি জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের চুক্তির অধীনে তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। তবে চুক্তি হবে কি-না তা আমি জানি না। চুক্তি ছাড়াও আমরা এটি করতে পারি, কারণ সেটিই সহজ।’

ট্রাম্প যদি যুদ্ধ বড় আকারে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন, তবে তার হাতে বিকল্প খুবই সীমিত। ইরানে সরাসরি সেনা অভিযান অসম্ভব হলেও, তিনি দেশটির বেসামরিক অবকাঠামো, বিদ্যুৎ কেন্দ্র বা হরমুজ প্রণালির উপকূলীয় এলাকায় হামলা চালাতে পারেন। এছাড়া ইরানের খার্গ দ্বীপের তেল কেন্দ্রটি দখল করার পরিকল্পনাও করতে পারেন। কিন্তু এই ধরনের পদক্ষেপের খরচ হবে বিপুল। খার্গ দ্বীপে হামলা চালাতে গেলে বহু মার্কিন সেনা হতাহতের ঝুঁকিতে পড়বে।