কাতার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নাটকীয়ভাবে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার পর রেফারিং এবং বিশ্বকাপের স্বচ্ছতা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন মিশর দলের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হেরে যাওয়ায় তিনি চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচে ৭৯ মিনিট পর্যন্ত মিশর দুই গোলে এগিয়ে ছিল। কিন্তু ম্যাচের শেষ ১৪ মিনিটে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিওনেল মেসি এবং এনজো ফার্নান্দেজের গোলে অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে কোয়ার্টার-ফাইনাল নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে হোসাম হাসান বলেন, “আমরাই ভালো খেলেছি এবং নিজেদের কৌশল প্রতিপক্ষের ওপর চাপিয়ে দিতে পেরেছিলাম। কিন্তু আমাদের সঙ্গে ন্যায়বিচার হয়নি। কেন আমাদের গোল বাতিল করা হলো, আমি জানি না।” মিশর শিবিরের দাবি, দ্বিতীয়ার্ধে তাদের একটি গোল ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) সিদ্ধান্তে বাতিল করা হয়। এছাড়া আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের আগে মোহাম্মদ সালাহকে বক্সের মধ্যে ফাউল করা হলেও পেনাল্টি দেওয়া হয়নি। এই সিদ্ধান্তগুলোই ম্যাচের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করেন হাসান।
এরপরই আরও গুরুতর অভিযোগ তোলেন মিশরের কোচ। তিনি বলেন, “বিশ্বকাপ এখন অনেকটাই বিপণননির্ভর। তারা চেয়েছিল মেসি যতদিন সম্ভব টুর্নামেন্টে থাকুক।”
বিতর্কিত মন্তব্যের পাশাপাশি নিজের দলের প্রশংসাও করেছেন হাসান। তাঁর মতে, এই বিশ্বকাপে মিশর এমন একটি ভিত্তি তৈরি করেছে, যার ওপর দাঁড়িয়ে ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অর্জন সম্ভব। তিনি বলেন, “বিশ্বকাপে আমার দলের পারফরম্যান্সে আমি খুবই সন্তুষ্ট। আমরা আফ্রিকান ও আরব ফুটবলের সম্মান রক্ষা করেছি। আমরা কোনো দলকে ভয় পাই না। এই অর্জনই ভবিষ্যতে আরও বড় লক্ষ্য পূরণের অনুপ্রেরণা হবে।”
খেলোয়াড়দের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “আমার খেলোয়াড়রা প্রমাণ করেছে বিশ্বের সেরা লিগে খেলা ফুটবলারদের সঙ্গেও সমানতালে লড়াই করা সম্ভব। একদিন আমরা বিশ্বের শীর্ষ ফুটবল জাতিগুলোর কাতারে জায়গা করে নেব।”
শেষে সমর্থকদের উদ্দেশে দুঃখ প্রকাশ করেন মিশরের কোচ। তিনি বলেন, “দেশের মানুষের কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আমরা আপনাদের আনন্দ দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু বিষয়টি আমাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল না। আমরা আরও অনেক দূর যেতে চেয়েছিলাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কী ঘটেছে, সবাই দেখেছেন।”
রিপোর্টারের নাম 























