ঢাকা ১১:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

বাঁশখালীতে ভারী বর্ষণে ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী, আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়ার উদ্যোগ

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমীন জরুরি সভা ডেকে চেয়ারম্যান ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সার্বিক নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের সতর্ক করতে মাইকিং করা হচ্ছে এবং অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সরাসরি গিয়ে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পানিবন্দী মানুষদের স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং সেখানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বন বিভাগের তথ্যমতে, বাঁশখালীতে প্রায় ৪০ হাজার পরিবার পাহাড়ের পাদদেশে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে। ভারী বৃষ্টিতে এসব পরিবারের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং প্রাণহানির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনিয়ন্ত্রিত বসতি স্থাপন, জীবিকার তাগিদ এবং মাথা গোঁজার ঠাঁই না পাওয়ার কারণে অনেকেই পাহাড় কেটে সেখানে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি তৈরি করেছেন। অতীতে বাঁশখালীর বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।

ঝুঁকি এড়াতে উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সেই অনুযায়ী কাজ শুরু হয়েছে। পূর্বে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি সরাতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও পুনর্বাসনের অভাবে মানুষ আবারও পাহাড়ের ঢালে ফিরে আসে। বর্তমানে শীলকূপ, চাম্বল, পুঁইছড়ী, নাপোড়া, জলদী, পাইরাং, গুনাগরী, কালীপুর, সাধনপুর ও পুকুরিয়া এলাকায় বহু মানুষ পাহাড়ের পাদদেশে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। আগামী ১২ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় টানা ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা থাকায় পাহাড়ধস, পাহাড়ি ঢল এবং ভূমিধসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি আরও বেড়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হুমকি-ধমকি দিয়ে ইরানকে দমানো যাবে না: পার্লামেন্ট স্পিকার গালিবাফ

বাঁশখালীতে ভারী বর্ষণে ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী, আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়ার উদ্যোগ

আপডেট সময় : ১০:০২:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমীন জরুরি সভা ডেকে চেয়ারম্যান ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সার্বিক নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের সতর্ক করতে মাইকিং করা হচ্ছে এবং অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সরাসরি গিয়ে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পানিবন্দী মানুষদের স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং সেখানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বন বিভাগের তথ্যমতে, বাঁশখালীতে প্রায় ৪০ হাজার পরিবার পাহাড়ের পাদদেশে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে। ভারী বৃষ্টিতে এসব পরিবারের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং প্রাণহানির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনিয়ন্ত্রিত বসতি স্থাপন, জীবিকার তাগিদ এবং মাথা গোঁজার ঠাঁই না পাওয়ার কারণে অনেকেই পাহাড় কেটে সেখানে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি তৈরি করেছেন। অতীতে বাঁশখালীর বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।

ঝুঁকি এড়াতে উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সেই অনুযায়ী কাজ শুরু হয়েছে। পূর্বে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি সরাতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও পুনর্বাসনের অভাবে মানুষ আবারও পাহাড়ের ঢালে ফিরে আসে। বর্তমানে শীলকূপ, চাম্বল, পুঁইছড়ী, নাপোড়া, জলদী, পাইরাং, গুনাগরী, কালীপুর, সাধনপুর ও পুকুরিয়া এলাকায় বহু মানুষ পাহাড়ের পাদদেশে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। আগামী ১২ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় টানা ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা থাকায় পাহাড়ধস, পাহাড়ি ঢল এবং ভূমিধসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি আরও বেড়েছে।