ঢাকা ১১:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

চার বিভাগে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা: চট্টগ্রামে ৪৩ বছরের রেকর্ড বৃষ্টিপাত

দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চার বিভাগে আগামী কয়েক দিনে স্বল্পমেয়াদি ও আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। আবহাওয়া সংস্থা এবং বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় নদী-সংলগ্ন নিচু এলাকা এবং নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মূলত দেশের অভ্যন্তরে ও ভারতের উজানে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণেই এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে।

গতকাল মঙ্গলবার বন্দরনগরী চট্টগ্রামে রেকর্ড পরিমাণ ৩৯৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক জানান, গত ৪৩ বছরের ইতিহাসে গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে এটি সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত।

আবহাওয়া দপ্তরের গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় দেওয়া আগের ২৪ ঘণ্টার তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, সারা দেশেই কমবেশি বৃষ্টি হলেও চট্টগ্রাম বিভাগেই সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। চট্টগ্রাম ছাড়াও বান্দরবানে ১৭৬, পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায় ১০৬, সীতাকুণ্ডে ১৭০, নোয়াখালীর হাতিয়ায় ১৪৩, কক্সবাজারের টেকনাফে ৯৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এদিন রাজধানীতে ৪৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়।

এদিকে, আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আরও দুদিন এই ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। পাহাড়ধসের ঝুঁকির কারণে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য জেলা প্রশাসন মাইকিং করছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি সামগ্রিকভাবে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও, অভ্যন্তরীণ ও উজানের বৃষ্টিপাত পরিস্থিতিকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। গত একদিনে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে দেশের সর্বোচ্চ ২৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা অতি ভারী বর্ষণের রূপ নিয়েছে। এছাড়া সিলেট ও বরিশাল বিভাগ এবং ভারতের মেঘালয় ও ত্রিপুরা প্রদেশেও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হয়েছে।

ভারতের ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড এলাকায় অবস্থানরত মৌসুমি নিম্নচাপটি দুর্বল হয়ে বর্তমানে সুস্পষ্ট লঘুচাপ আকারে পূর্ব মধ্যপ্রদেশে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে আগামী চারদিন দেশের উল্লিখিত চার বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, আসাম ও মেঘালয় প্রদেশে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী তিন থেকে চার দিন ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় দেশের নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হুমকি-ধমকি দিয়ে ইরানকে দমানো যাবে না: পার্লামেন্ট স্পিকার গালিবাফ

চার বিভাগে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা: চট্টগ্রামে ৪৩ বছরের রেকর্ড বৃষ্টিপাত

আপডেট সময় : ০৯:৫০:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চার বিভাগে আগামী কয়েক দিনে স্বল্পমেয়াদি ও আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। আবহাওয়া সংস্থা এবং বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় নদী-সংলগ্ন নিচু এলাকা এবং নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মূলত দেশের অভ্যন্তরে ও ভারতের উজানে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণেই এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে।

গতকাল মঙ্গলবার বন্দরনগরী চট্টগ্রামে রেকর্ড পরিমাণ ৩৯৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক জানান, গত ৪৩ বছরের ইতিহাসে গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে এটি সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত।

আবহাওয়া দপ্তরের গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় দেওয়া আগের ২৪ ঘণ্টার তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, সারা দেশেই কমবেশি বৃষ্টি হলেও চট্টগ্রাম বিভাগেই সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। চট্টগ্রাম ছাড়াও বান্দরবানে ১৭৬, পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায় ১০৬, সীতাকুণ্ডে ১৭০, নোয়াখালীর হাতিয়ায় ১৪৩, কক্সবাজারের টেকনাফে ৯৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এদিন রাজধানীতে ৪৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়।

এদিকে, আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আরও দুদিন এই ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। পাহাড়ধসের ঝুঁকির কারণে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য জেলা প্রশাসন মাইকিং করছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি সামগ্রিকভাবে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও, অভ্যন্তরীণ ও উজানের বৃষ্টিপাত পরিস্থিতিকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। গত একদিনে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে দেশের সর্বোচ্চ ২৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা অতি ভারী বর্ষণের রূপ নিয়েছে। এছাড়া সিলেট ও বরিশাল বিভাগ এবং ভারতের মেঘালয় ও ত্রিপুরা প্রদেশেও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হয়েছে।

ভারতের ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড এলাকায় অবস্থানরত মৌসুমি নিম্নচাপটি দুর্বল হয়ে বর্তমানে সুস্পষ্ট লঘুচাপ আকারে পূর্ব মধ্যপ্রদেশে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে আগামী চারদিন দেশের উল্লিখিত চার বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, আসাম ও মেঘালয় প্রদেশে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী তিন থেকে চার দিন ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় দেশের নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে।