ঢাকা ১২:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

ব্রাজিলের হেক্সা স্বপ্ন ভঙ্গ: টানা ছয় বিশ্বকাপে ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধান

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি ব্রাজিল আবারও স্বপ্নভঙ্গ নিয়ে বিশ্বকাপ শেষ করেছে। ‘হেক্সা’ অর্থাৎ ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের মিশনে আসা দলটি নকআউট পর্বের কোনো এক ম্যাচে প্রতিপক্ষের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে। ২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮ এবং সবশেষে ২০২২ সালের মতো এবারও স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে ব্রাজিলের। তবে এই ব্যর্থতার সঙ্গে যোগ হয়েছে এক নতুন রেকর্ড – টানা ছয়টি বিশ্বকাপে শিরোপা জিততে না পারার হতাশা।

ব্রাজিলের এই নিয়মিত ব্যর্থতার পেছনে বেশ কিছু কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। কোচের কৌশলগত পরিকল্পনা, বিশেষ করে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার ক্ষেত্রে ঘাটতি একটি বড় সমস্যা। কোচ আনচেলত্তির দ্রুত ট্রানজিশনে ফিরে এসে প্রতিপক্ষের খেলা নষ্ট করার পরিকল্পনা থাকলেও, তা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ‘মস্তিষ্ক’ বা সৃজনশীলতার অভাব ছিল। লুকাস পাকেতার অনুপস্থিতিতে মাঝমাঠ এবং আক্রমণের মধ্যে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তা ভিনিসিয়াস, মার্তিনেল্লি বা কুনহার মতো খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য দিয়ে পূরণ করা সম্ভব হয়নি। আধুনিক ফুটবলে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা ব্রাজিল টুর্নামেন্টে প্রায়শই হারায়।

আরেকটি বড় সংকট হলো একজন প্রকৃত গোলমেশিনের অভাব। শেষ ছয়টি বিশ্বকাপে রিচার্লিসন, কুনহা বা অন্য কোনো স্ট্রাইকার প্রত্যাশিত গোল করতে পারেননি। প্রতিপক্ষের রক্ষণে চিড় ধরাতে এবং গোল করতে না পারাটা ব্রাজিলের হারের অন্যতম প্রধান কারণ। এই সবকিছুর সম্মিলিত ফলস্বরূপ, পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে আবারও চার বছরের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে তাদের হেক্সা স্বপ্ন পূরণের জন্য।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সামান্য বৃষ্টিতেই জলমগ্ন নলছিটি পৌর শহর, ড্রেনেজ অব্যবস্থাপনায় চরম ভোগান্তি

ব্রাজিলের হেক্সা স্বপ্ন ভঙ্গ: টানা ছয় বিশ্বকাপে ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধান

আপডেট সময় : ১১:০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি ব্রাজিল আবারও স্বপ্নভঙ্গ নিয়ে বিশ্বকাপ শেষ করেছে। ‘হেক্সা’ অর্থাৎ ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের মিশনে আসা দলটি নকআউট পর্বের কোনো এক ম্যাচে প্রতিপক্ষের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে। ২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮ এবং সবশেষে ২০২২ সালের মতো এবারও স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে ব্রাজিলের। তবে এই ব্যর্থতার সঙ্গে যোগ হয়েছে এক নতুন রেকর্ড – টানা ছয়টি বিশ্বকাপে শিরোপা জিততে না পারার হতাশা।

ব্রাজিলের এই নিয়মিত ব্যর্থতার পেছনে বেশ কিছু কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। কোচের কৌশলগত পরিকল্পনা, বিশেষ করে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার ক্ষেত্রে ঘাটতি একটি বড় সমস্যা। কোচ আনচেলত্তির দ্রুত ট্রানজিশনে ফিরে এসে প্রতিপক্ষের খেলা নষ্ট করার পরিকল্পনা থাকলেও, তা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ‘মস্তিষ্ক’ বা সৃজনশীলতার অভাব ছিল। লুকাস পাকেতার অনুপস্থিতিতে মাঝমাঠ এবং আক্রমণের মধ্যে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তা ভিনিসিয়াস, মার্তিনেল্লি বা কুনহার মতো খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য দিয়ে পূরণ করা সম্ভব হয়নি। আধুনিক ফুটবলে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা ব্রাজিল টুর্নামেন্টে প্রায়শই হারায়।

আরেকটি বড় সংকট হলো একজন প্রকৃত গোলমেশিনের অভাব। শেষ ছয়টি বিশ্বকাপে রিচার্লিসন, কুনহা বা অন্য কোনো স্ট্রাইকার প্রত্যাশিত গোল করতে পারেননি। প্রতিপক্ষের রক্ষণে চিড় ধরাতে এবং গোল করতে না পারাটা ব্রাজিলের হারের অন্যতম প্রধান কারণ। এই সবকিছুর সম্মিলিত ফলস্বরূপ, পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে আবারও চার বছরের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে তাদের হেক্সা স্বপ্ন পূরণের জন্য।