ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বারুইপুরে ১১ বছর বয়সি এক মুসলিম ছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে তদন্তের পাশাপাশি পুলিশের বিলম্বিত তৎপরতা ও প্রাথমিক ভূমিকা নিয়ে নিহতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশ্ন তুলেছেন। এ অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন রাজ্য পুলিশের মহাপরিচালক (ডিজি) সিদ্ধনাথ গুপ্ত।
গতকাল মঙ্গলবার বারুইপুরে গিয়ে তদন্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ডিজি। পরে রেললাইনের পাশের সেই পুকুর পরিদর্শন করেন, যেখান থেকে কিশোরীর লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি তদন্তের অগ্রগতি, আলামত এবং গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পাওয়া তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করেন।
এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত আনন্দ সর্দার, প্রভাস মণ্ডল ও দিবাকর সর্দার নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশে বিরত থাকলেও ডিজি বলেন, পুলিশের প্রতিক্রিয়ায় বিলম্বের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, কিশোরীকে একটি ঝুপড়িতে নিয়ে গিয়ে যৌন নির্যাতন করা হয়। পরে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় এবং পা দিয়ে নাবালিকার গলায় চাপ দেওয়া হয়। শেষ নিঃশ্বাস স্তব্ধ না হওয়া পর্যন্ত তার ওপর চলে নির্মম অত্যাচার। কিশোরীর ছোট্ট শরীরজুড়ে ছিল অজস্র ক্ষত। তদন্তকারীদের দাবি, এরপর লাশ গোপনের চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত রেললাইনের পাশের একটি পুকুরে তাকে ফেলে দেওয়া হয়।
ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যৌন নির্যাতনের পাশাপাশি মাথায় আঘাতের চিহ্ন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঁচড় ও কামড়ের দাগ রয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কিশোরীকে পানিতে ফেলে দেওয়ার সময় সে জীবিত ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত ফরেনসিক প্রতিবেদনের পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত হবে।
গত রোববার রাতে জানাজা শেষে সূর্যপুরের কেয়াতলা হাইস্কুলের ক্লাস সিক্সের এই ছাত্রীকে দাফন করা হয়। শোক ও কান্নায় ভেঙে পড়েন তার স্বজনরা। নিহতের মা দ্রুত বিচার দাবি করে বলেন, আমার মেয়ে যেভাবে কষ্ট পেয়েছে, অপরাধীদেরও আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি হোক।
এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় বিক্ষোভ দেখা দেয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন সতর্ক অবস্থান নেয়।
রিপোর্টারের নাম 

























