ঢাকা ০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

প্রবল বর্ষণে বান্দরবান ও কক্সবাজারে পাহাড়ধস, প্রাণহানি বেড়ে ২৯

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪৩:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

অবিরাম বর্ষণের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ পাহাড়ধসে বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলায় নতুন করে সাতজনের প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে বান্দরবানের লামায় ঘুমন্ত অবস্থায় একটি শিশুসহ পাঁচজন এবং কক্সবাজারের চকরিয়ায় দুই ভাই-বোনের মৃত্যু হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনাগুলো বৃহস্পতিবার সংঘটিত হয়েছে। এই নিয়ে গত চারদিনে মোট ২৯ জনের মৃত্যু হলো।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে লামার আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়ায় টানা বর্ষণের কারণে হঠাৎ পাহাড় ধসে মো. ইউনুছ ও জুয়েলের বসতঘরের ওপর আছড়ে পড়ে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা। স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। দুর্ভাগ্যবশত, ততক্ষণে দুই পরিবারের মোট পাঁচজন সদস্য, যাদের মধ্যে চার বছরের একটি শিশুও ছিল, প্রাণ হারান। নিহতরা হলেন- মো. ইউনুছ (২৮), তার স্ত্রী রানু আক্তার (২২) ও তাদের চার বছরের ছেলে মো. সোলেমান, মো. জুয়েল (২৭) এবং তার স্ত্রী কুলসুমা আক্তার (২৩)। এর কিছুক্ষণ আগে, রাত দেড়টার দিকে উত্তরপাড়ায় আজিজনগর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য রেহানা বেগমের বাড়িতেও পাহাড় ধসে পড়ে, এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

ফাইতং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক জানিয়েছেন, তার ইউনিয়নের প্রায় ৫০টি ঘরবাড়ি পাহাড়ধসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লামা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বলেন, পাহাড়ধসে ৫০টি এবং ঢলের পানিতে আরও ১০০টি ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। এর ফলে প্রায় এক হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

এছাড়াও, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে উপজেলা শহরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রায় এক হাজার ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে এবং পাহাড় ধসে দুই শতাধিক বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। লামা-আলীকদম সড়কের কেয়ারারঝিরি, রেপারপাড়া আবাসিক এবং লাইনঝিরি এলাকা ঢলের পানিতে ডুবে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। সড়কের ওপর পাহাড় ধসে পড়া এবং ঢলের পানিতে প্লাবিত হওয়ার কারণে লামা-আলীকদম সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

প্রবল বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসে প্রাণহানির আশঙ্কা বাড়তে থাকায়, উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদগুলো বিভিন্ন মাধ্যমে মাইকিং করে পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বেসরকারি সংস্থা আশিকাও দুর্যোগ আগাম বার্তা প্রদান ও আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুতকরণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। প্রশাসন দুর্যোগকবলিতদের জন্য ৫৫টি বিদ্যালয়কে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে খুলে দিয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, টানা ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে ভয়াবহ বন্যা ও আরও পাহাড়ধসের মতো মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রবল বর্ষণে বান্দরবান ও কক্সবাজারে পাহাড়ধস, প্রাণহানি বেড়ে ২৯

প্রবল বর্ষণে বান্দরবান ও কক্সবাজারে পাহাড়ধস, প্রাণহানি বেড়ে ২৯

আপডেট সময় : ০২:৪৩:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

অবিরাম বর্ষণের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ পাহাড়ধসে বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলায় নতুন করে সাতজনের প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে বান্দরবানের লামায় ঘুমন্ত অবস্থায় একটি শিশুসহ পাঁচজন এবং কক্সবাজারের চকরিয়ায় দুই ভাই-বোনের মৃত্যু হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনাগুলো বৃহস্পতিবার সংঘটিত হয়েছে। এই নিয়ে গত চারদিনে মোট ২৯ জনের মৃত্যু হলো।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে লামার আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়ায় টানা বর্ষণের কারণে হঠাৎ পাহাড় ধসে মো. ইউনুছ ও জুয়েলের বসতঘরের ওপর আছড়ে পড়ে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা। স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। দুর্ভাগ্যবশত, ততক্ষণে দুই পরিবারের মোট পাঁচজন সদস্য, যাদের মধ্যে চার বছরের একটি শিশুও ছিল, প্রাণ হারান। নিহতরা হলেন- মো. ইউনুছ (২৮), তার স্ত্রী রানু আক্তার (২২) ও তাদের চার বছরের ছেলে মো. সোলেমান, মো. জুয়েল (২৭) এবং তার স্ত্রী কুলসুমা আক্তার (২৩)। এর কিছুক্ষণ আগে, রাত দেড়টার দিকে উত্তরপাড়ায় আজিজনগর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য রেহানা বেগমের বাড়িতেও পাহাড় ধসে পড়ে, এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

ফাইতং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক জানিয়েছেন, তার ইউনিয়নের প্রায় ৫০টি ঘরবাড়ি পাহাড়ধসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লামা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বলেন, পাহাড়ধসে ৫০টি এবং ঢলের পানিতে আরও ১০০টি ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। এর ফলে প্রায় এক হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

এছাড়াও, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে উপজেলা শহরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রায় এক হাজার ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে এবং পাহাড় ধসে দুই শতাধিক বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। লামা-আলীকদম সড়কের কেয়ারারঝিরি, রেপারপাড়া আবাসিক এবং লাইনঝিরি এলাকা ঢলের পানিতে ডুবে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। সড়কের ওপর পাহাড় ধসে পড়া এবং ঢলের পানিতে প্লাবিত হওয়ার কারণে লামা-আলীকদম সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

প্রবল বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসে প্রাণহানির আশঙ্কা বাড়তে থাকায়, উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদগুলো বিভিন্ন মাধ্যমে মাইকিং করে পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বেসরকারি সংস্থা আশিকাও দুর্যোগ আগাম বার্তা প্রদান ও আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুতকরণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। প্রশাসন দুর্যোগকবলিতদের জন্য ৫৫টি বিদ্যালয়কে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে খুলে দিয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, টানা ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে ভয়াবহ বন্যা ও আরও পাহাড়ধসের মতো মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।