মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় চারটি রেলস্টেশনের কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এই স্টেশনগুলোতে ট্রেন থামানো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এলাকার হাজার হাজার মানুষ যাতায়াতে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। একই সাথে, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে রেলওয়ের মূল্যবান সম্পদ বেহাত হচ্ছে এবং কিছু স্টেশন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই স্টেশনগুলো একসময় যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত, কিন্তু বর্তমানে তা কেবলই স্মৃতি।
জানা গেছে, কুলাউড়ার ভাটেরা বাজার, টিলাগাঁও, মনু ও ছকাপন রেল স্টেশনগুলো ব্রিটিশ আমলে তৈরি হয়েছিল। একসময় এসব স্টেশনে একাধিক ট্রেন থামত এবং প্রতিদিন অসংখ্য যাত্রী দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করতেন। এছাড়াও, রাবার, চা, ধান, চাল, শাকসবজি ও কাঁচামাল পরিবহনের জন্য এই স্টেশনগুলো ব্যবহৃত হতো। কিন্তু পরবর্তীতে লোকাল, আন্তঃনগর ও মালবাহী ট্রেনের যাত্রা বিরতি বন্ধ হয়ে যায়। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে স্টেশনগুলো অচল হয়ে পড়েছে। যাত্রীদের যাতায়াত এবং মালামাল বুকিং এখন কেবলই স্বপ্ন। স্টেশনগুলো এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে, যেখানে দরজা, জানালা ও টিনের চাল ভেঙে গেছে এবং চারপাশ আগাছায় ঢেকে গেছে। অভিযোগ রয়েছে, রেলওয়ের কিছু জায়গা ও রেলঘরের আসবাবপত্রও বেহাত হয়ে গেছে। পরিত্যক্ত ঘরগুলোতে কেউ কেউ গরু-ছাগলও পালন করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ভাটেরা বাজার ইউনিয়ন চা, রাবার ও কাঠের জন্য বিখ্যাত। এখানে বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনসহ স্কুল, কলেজ ও মাদরাসা রয়েছে। এছাড়াও, এখানকার অনেক প্রবাসী বিদেশে বসবাস করেন। এত গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও, বারবার আবেদন নিবেদন করার পরও ভাটেরা বাজার রেল স্টেশনটি চালু হচ্ছে না। টিলাগাঁও, ছকাপন ও মনু রেল স্টেশন এলাকার বাসিন্দারাও একই ধরনের দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন। তারা দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে স্টেশনগুলোর কার্যক্রম বন্ধ থাকার কারণে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
রিপোর্টারের নাম 


















