চট্টগ্রাম নগরের ২৫টি এলাকা প্রতি বছর বর্ষাকালে জলাবদ্ধতার শিকার হয়। চকবাজার থানাধীন কাতালগঞ্জের বাসিন্দা আকরামুল ইসলাম জানান, জীবনের প্রায় ৫৫ বছর ধরে তিনি তার এলাকায় বর্ষাকালে পানি জমতে দেখছেন, কিন্তু পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি।
প্রতি বছরের মতো এবারও আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক কেন্দ্র ও অফিসপাড়া হিসেবে পরিচিত এলাকাটি সবচেয়ে বেশি আলোচিত। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সামনের সড়কসহ বিস্তীর্ণ অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়াও, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, চকবাজার, বাকলিয়া, হালিশহর, চান্দগাঁও, ষোলশহর ও পাহাড়তলীসহ নিচু ও খালঘেঁষা এলাকাগুলো প্রায় প্রতি বর্ষাতেই জলাবদ্ধতার শিকার হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে এসব এলাকার পানি দ্রুত নিষ্কাশিত হতে পারে না।
গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রামে প্রায় ৮৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই ভারী বর্ষণের সঙ্গে পাহাড়ি ঢল ও কর্ণফুলী নদীর জোয়ার যুক্ত হওয়ায় নগরের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে যায়। কোথাও কোথাও হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যায়। গত বুধবার পাহাড়ধসে দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে, যা জলাবদ্ধতার ভয়াবহতাকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞদের মতে, চট্টগ্রামের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য, নিচু এলাকা এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ—এই তিনটি কারণ একসঙ্গে কাজ করলেই অতিবৃষ্টির সময় পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। পরিবেশবিদ ও গবেষকরা মনে করেন, জলাবদ্ধতার জন্য কেবল অতিবৃষ্টিকে দায়ী করলে চলবে না। দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত নগরায়ন, পাহাড় কাটা, নির্বিচারে গাছ নিধন, খাল-নালা ভরাট এবং প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশনের পথ সংকুচিত হওয়ার কারণে অল্প সময়ের ভারী বৃষ্টিতেও পানি আটকে যাচ্ছে এবং দ্রুত নামতে পারছে না। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্বল্প সময়ে অতিবৃষ্টির প্রবণতা বেড়েছে, যা এই সমস্যাকে আরও তীব্র করে তুলছে।
রিপোর্টারের নাম 


















