জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্যভাণ্ডার থেকে কোটি কোটি নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য চুরির ঘটনায় তদন্ত জোরদার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এই জালিয়াতির রহস্য উদ্ঘাটনে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) এবং নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে নথিপত্র চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, দেশের ১২ কোটির বেশি নাগরিকের মধ্যে প্রায় ১১ কোটির ব্যক্তিগত তথ্য পাচার করা হয়েছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।
সূত্রমতে, ২০২২ সালে নাগরিকদের তথ্য সুরক্ষায় নির্বাচন কমিশন ও বিসিসি’র মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী কোনো তথ্য তৃতীয় পক্ষের কাছে হস্তান্তর বা বিক্রি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু সেই শর্ত লঙ্ঘন করে ‘ডিজিকন গ্লোবাল সার্ভিস লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান নাগরিকদের ৪৬ ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য দেশি-বিদেশি ১৮২টি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে দেয়। এই অবৈধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এই তথ্য চুরির ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে গত অক্টোবর মাসে রাজধানীর কাফরুল থানায় মামলা করা হয়। দুদক এখন এই মামলার সূত্র ধরে অবৈধ তথ্য বিক্রির নেপথ্যে থাকা কুশীলবদের শনাক্ত করতে মাঠে নেমেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এনআইডি সেবা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়ার যে বিতর্কিত পরিকল্পনা ছিল, তার পেছনেও কোনো গভীর ষড়যন্ত্র ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থাটি।
রিপোর্টারের নাম 





















