ঢাকা ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

তুরস্কের হস্তক্ষেপে ইরানে সম্ভাব্য কুর্দি হামলা পরিকল্পনা বাতিল, দাবি ইসরায়েলি গণমাধ্যমের

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩১:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীর মাধ্যমে ইরানে সম্ভাব্য হামলার একটি পরিকল্পনা তুরস্কের কূটনৈতিক চাপে শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয় বলে দাবি করেছে ইসরাইলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আই২৪ নিউজ। বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে, যা ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তত্ত্বাবধানে কুর্দি যোদ্ধাদের দিয়ে ইরানে হামলার প্রস্তুতি চলছিল। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে একাধিক বৈঠক, অস্ত্র সরবরাহ এবং সামরিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। হামলার নির্ধারিত সময়ের এক সপ্তাহ আগেও তাদের কাছে অস্ত্র পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের জোরালো কূটনৈতিক চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত ওই পরিকল্পনায় ভেটো দেয় এবং হামলা আর বাস্তবায়িত হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ইসরাইলের জ্যেষ্ঠ কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে আই২৪ নিউজ জানায়, পরিকল্পনায় ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো না হলেও তারা বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেনি।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের মাধ্যমে পরিকল্পনার তথ্য তুরস্কের কাছে পৌঁছে যায়। এরপর আঙ্কারা দ্রুত ওয়াশিংটনের ওপর চাপ সৃষ্টি করে সম্ভাব্য অভিযান বন্ধ করতে সক্ষম হয়। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক বা সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করেনি।

এর আগে মার্চ মাসে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছিল, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে ইরানে কুর্দি অভিযানে সমর্থন না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। অন্যদিকে, সিএনএন দাবি করেছিল, ইরানে হামলার আগে কয়েক মাস ধরে ইরান-ইরাক সীমান্তে অবস্থানরত কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সামরিক সহায়তা দিয়েছিল সিআইএ। এছাড়া রয়টার্স-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ শুরুর প্রায় এক বছর আগে থেকেই ইসরাইলি গোয়েন্দারা ওই সীমান্তে অবস্থানরত কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছিল। প্রতিবেদনগুলোতে আরও বলা হয়, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের কথিত ‘শাসন পরিবর্তন’ পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল এই কুর্দি অভিযান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অভিনেত্রী চমকের পরিবেশবান্ধব জন্মদিন: সুন্দরবনে ৩০০ ম্যানগ্রোভ রোপণ

তুরস্কের হস্তক্ষেপে ইরানে সম্ভাব্য কুর্দি হামলা পরিকল্পনা বাতিল, দাবি ইসরায়েলি গণমাধ্যমের

আপডেট সময় : ১১:৩১:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীর মাধ্যমে ইরানে সম্ভাব্য হামলার একটি পরিকল্পনা তুরস্কের কূটনৈতিক চাপে শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয় বলে দাবি করেছে ইসরাইলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আই২৪ নিউজ। বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে, যা ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তত্ত্বাবধানে কুর্দি যোদ্ধাদের দিয়ে ইরানে হামলার প্রস্তুতি চলছিল। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে একাধিক বৈঠক, অস্ত্র সরবরাহ এবং সামরিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। হামলার নির্ধারিত সময়ের এক সপ্তাহ আগেও তাদের কাছে অস্ত্র পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের জোরালো কূটনৈতিক চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত ওই পরিকল্পনায় ভেটো দেয় এবং হামলা আর বাস্তবায়িত হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ইসরাইলের জ্যেষ্ঠ কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে আই২৪ নিউজ জানায়, পরিকল্পনায় ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো না হলেও তারা বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেনি।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের মাধ্যমে পরিকল্পনার তথ্য তুরস্কের কাছে পৌঁছে যায়। এরপর আঙ্কারা দ্রুত ওয়াশিংটনের ওপর চাপ সৃষ্টি করে সম্ভাব্য অভিযান বন্ধ করতে সক্ষম হয়। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক বা সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করেনি।

এর আগে মার্চ মাসে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছিল, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে ইরানে কুর্দি অভিযানে সমর্থন না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। অন্যদিকে, সিএনএন দাবি করেছিল, ইরানে হামলার আগে কয়েক মাস ধরে ইরান-ইরাক সীমান্তে অবস্থানরত কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সামরিক সহায়তা দিয়েছিল সিআইএ। এছাড়া রয়টার্স-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ শুরুর প্রায় এক বছর আগে থেকেই ইসরাইলি গোয়েন্দারা ওই সীমান্তে অবস্থানরত কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছিল। প্রতিবেদনগুলোতে আরও বলা হয়, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের কথিত ‘শাসন পরিবর্তন’ পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল এই কুর্দি অভিযান।