ঢাকা ০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

জন্মগতভাবে বিরল রোগে আক্রান্ত দুই বছরের শিশু, চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন ৩ লাখ টাকা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বাজার গোপালপুর গ্রামের সম্রাট হোসেনের দুই বছরের শিশু মাইমুনা জন্মগতভাবে হাইড্রোসেফালাস বা মাথায় অতিরিক্ত পানি জমার এক দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত। শিশুটির মোট ওজন ১৫ কেজি হলেও এর মধ্যে ১২ কেজিই তার মাথার ওজন। এই বিরল রোগ মাইমুনার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করছে এবং সে তীব্র যন্ত্রণায় ছটফট করছে।

মাইমুনার বাবা সম্রাট হোসেন পেশায় একজন সাধারণ সাইকেল মিস্ত্রি। তার সামান্য উপার্জনে সংসার চালানোই কঠিন, সেখানে মাইমুনার ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ জোগানো তার পক্ষে প্রায় অসম্ভব। ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আনসার উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, দ্রুত অপারেশন ও সঠিক চিকিৎসা করালে মাইমুনা সুস্থ হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু এই চিকিৎসার জন্য প্রায় তিন লাখ টাকা প্রয়োজন, যা শিশুটির পরিবারের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়।

দীর্ঘ দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে টাকার অভাবে মাইমুনার চিকিৎসা বন্ধ রয়েছে। চিকিৎসা বন্ধ থাকায় দিন দিন তার মাথার আকার বেড়েই চলেছে, যা তার ছোট্ট শরীরটাকে আরো অবশ ও নিস্তেজ করে দিচ্ছে। মাইমুনার মা রেখা খাতুন কান্নাভেজা কণ্ঠে বলেন, ‘চোখের সামনে নিজের কলিজার টুকরাকে তিল তিল করে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে দেখার চেয়ে বড় শাস্তি পৃথিবীতে কোনো বাবা-মায়ের জন্য হতে পারে না। ওর মাথার ভারও নিজে সইতে পারে না। সারাদিন-রাত শুধু ছটফট করে। আমরা চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করতে পারছি না।’

শিশুটির বাবা-মা সমাজের বিত্তবান, প্রবাসী এবং মানবিক হৃদয়ের মানুষদের কাছে তাদের মেয়ের চিকিৎসার জন্য সহায়তা চেয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দক্ষিণ আফ্রিকায় নোয়াখালীর ব্যবসায়ী সুমনকে গুলি করে হত্যা

জন্মগতভাবে বিরল রোগে আক্রান্ত দুই বছরের শিশু, চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন ৩ লাখ টাকা

আপডেট সময় : ০৫:৪৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বাজার গোপালপুর গ্রামের সম্রাট হোসেনের দুই বছরের শিশু মাইমুনা জন্মগতভাবে হাইড্রোসেফালাস বা মাথায় অতিরিক্ত পানি জমার এক দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত। শিশুটির মোট ওজন ১৫ কেজি হলেও এর মধ্যে ১২ কেজিই তার মাথার ওজন। এই বিরল রোগ মাইমুনার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করছে এবং সে তীব্র যন্ত্রণায় ছটফট করছে।

মাইমুনার বাবা সম্রাট হোসেন পেশায় একজন সাধারণ সাইকেল মিস্ত্রি। তার সামান্য উপার্জনে সংসার চালানোই কঠিন, সেখানে মাইমুনার ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ জোগানো তার পক্ষে প্রায় অসম্ভব। ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আনসার উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, দ্রুত অপারেশন ও সঠিক চিকিৎসা করালে মাইমুনা সুস্থ হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু এই চিকিৎসার জন্য প্রায় তিন লাখ টাকা প্রয়োজন, যা শিশুটির পরিবারের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়।

দীর্ঘ দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে টাকার অভাবে মাইমুনার চিকিৎসা বন্ধ রয়েছে। চিকিৎসা বন্ধ থাকায় দিন দিন তার মাথার আকার বেড়েই চলেছে, যা তার ছোট্ট শরীরটাকে আরো অবশ ও নিস্তেজ করে দিচ্ছে। মাইমুনার মা রেখা খাতুন কান্নাভেজা কণ্ঠে বলেন, ‘চোখের সামনে নিজের কলিজার টুকরাকে তিল তিল করে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে দেখার চেয়ে বড় শাস্তি পৃথিবীতে কোনো বাবা-মায়ের জন্য হতে পারে না। ওর মাথার ভারও নিজে সইতে পারে না। সারাদিন-রাত শুধু ছটফট করে। আমরা চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করতে পারছি না।’

শিশুটির বাবা-মা সমাজের বিত্তবান, প্রবাসী এবং মানবিক হৃদয়ের মানুষদের কাছে তাদের মেয়ের চিকিৎসার জন্য সহায়তা চেয়েছেন।