ফেনীর রাজনীতিতে দীর্ঘ এক দশক ধরে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারকারী সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর বিরুদ্ধে জমি দখল ও সাধারণ মানুষের সম্পত্তি নামমাত্র মূল্যে লিখে নেওয়ার অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারগুলো অভিযোগ করেছেন যে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাদের পৈত্রিক ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও ভুক্তভোগীরা আজও তাদের হারানো সম্পদ ফিরে পাওয়ার আশায় প্রহর গুনছেন।
ফেনী শহরের মাস্টারপাড়ায় নিজাম হাজারী গড়ে তুলেছিলেন এক বিশাল ও বিলাসবহুল বাগানবাড়ি। স্থানীয়দের দাবি, এই বাড়ির জমির একটি বড় অংশই জোরপূর্বক দখল করা। বাড়ির ভেতরে হেলিপ্যাড, টেনিস কোর্ট, সুইমিংপুল এবং অত্যাধুনিক থিয়েটারসহ ছিল নানা আয়োজন। ইতালি থেকে আনা মার্বেল পাথর আর সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়ার দামী আসবাবপত্রে সাজানো এই অট্টালিকাটি ছিল ক্ষমতার দম্ভের প্রতীক। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিক্ষুব্ধ জনতা এই বাড়িতে আগুন দেয়, যা দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় জমায়।
অভিযোগ রয়েছে, নিজাম হাজারী তার আত্মীয়-স্বজন এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের জমিও রেহাই দেননি। এই বাগানবাড়িটি একসময় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল। ওবায়দুল কাদেরসহ দলের শীর্ষ নেতারা ফেনী সফরে এলে এখানেই অবস্থান করতেন। ক্ষমতার অপব্যবহার করে গড়ে তোলা এই জৌলুসপূর্ণ প্রাসাদের আড়ালে বহু পরিবারের হাহাকার লুকিয়ে আছে বলে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
রিপোর্টারের নাম 




















