ঢাকা ০২:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি: নেতানিয়াহুর দাবি প্রত্যাখ্যান ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় দাবি করেছিল যে, গত বছরের যুদ্ধের পর ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে ইসরায়েলের নিজস্ব গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই দাবিকে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

ইসরায়েলি পত্রিকা ‘ইয়েদিওথ আহরোনথ’-এর এক প্রতিবেদনে গতকাল শনিবার এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর কার্যালয় যুদ্ধের পরপরই ইরানের পরমাণু খাত ধ্বংস হওয়ার পক্ষে গোয়েন্দাদের স্বাক্ষর চেয়েছিল। কিন্তু পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এই চাপ প্রত্যাখ্যান করেন।

ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরপরই এই ঘটনা ঘটে। সেই সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের পরমাণু স্থাপনা ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ হয়ে গেছে। নেতানিয়াহুর সরকার ট্রাম্পের এই দাবিকে সমর্থন করতে চেয়েছিল। কিন্তু ইসরায়েলি গোয়েন্দারা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ইরানের পরমাণু স্থাপনার মারাত্মক ক্ষতি হলেও তা পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি।

পত্রিকাটি উল্লেখ করেছে, ‘ওই দাবির পেছনে একটি ছোট সমস্যা ছিল। সেটি হলো, তথ্যটি সত্য ছিল না।’ স্যাটেলাইট ও ড্রোনের ছবি এবং গোপন তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ইরানের পরমাণু স্থাপনা পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি। তা সত্ত্বেও নেতানিয়াহুর কার্যালয় গোয়েন্দা সংস্থা ও সামরিক কর্মকর্তাদের ওপর চাপ অব্যাহত রাখে।

সেসময় একজন জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা কর্মকর্তা নথিতে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তার ঊর্ধ্বতনকে বলেন, ‘আমি এই নথিতে স্বাক্ষর করতে পারব না।’ তিনি যুক্তি দেন যে, ক্ষয়ক্ষতির পুরো তথ্য তাদের কাছে নেই এবং প্রমাণ ছাড়া এই দাবিতে স্বাক্ষর করলে তাদের নির্ভরযোগ্যতা নষ্ট হবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের পরমাণু শক্তি কমিশনের বিজ্ঞানীরাও এই দাবির বিরোধিতা করেন। কমিশনের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোশে এদ্রি জ্যেষ্ঠ পরমাণু বিজ্ঞানীদের কাছে খসড়াটি পাঠালে তারা এটিকে ‘গুরুতর বিকৃত’ খসড়া বলে প্রত্যাখ্যান করেন।

বিজ্ঞানীরা ফোরদো সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রটি চিরতরে অকেজো হয়ে যাওয়া এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বহু বছর পিছিয়ে যাওয়ার দাবিগুলো মানতে চাননি। পরবর্তীতে আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতা নথি তৈরি করা হয়। সেখানে বলা হয়, মার্কিন হামলায় ফোরদোর বড় ক্ষতি হয়েছে এবং পরমাণু কর্মসূচি পিছিয়ে গেছে। তবে কর্মসূচি পুরোপুরি শেষ হওয়ার কোনো দাবি করা হয়নি। চূড়ান্ত নথিতে বলা হয়, ইরান যেন তাদের হাতে থাকা সমৃদ্ধ পরমাণু উপাদান ব্যবহার করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফিলিস্তিনি মুক্তি আন্দোলনের অগ্রসেনানী মাহের ইউনুসের জীবনাবসান

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি: নেতানিয়াহুর দাবি প্রত্যাখ্যান ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের

আপডেট সময় : ০১:০৬:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় দাবি করেছিল যে, গত বছরের যুদ্ধের পর ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে ইসরায়েলের নিজস্ব গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই দাবিকে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

ইসরায়েলি পত্রিকা ‘ইয়েদিওথ আহরোনথ’-এর এক প্রতিবেদনে গতকাল শনিবার এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর কার্যালয় যুদ্ধের পরপরই ইরানের পরমাণু খাত ধ্বংস হওয়ার পক্ষে গোয়েন্দাদের স্বাক্ষর চেয়েছিল। কিন্তু পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এই চাপ প্রত্যাখ্যান করেন।

ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরপরই এই ঘটনা ঘটে। সেই সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের পরমাণু স্থাপনা ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ হয়ে গেছে। নেতানিয়াহুর সরকার ট্রাম্পের এই দাবিকে সমর্থন করতে চেয়েছিল। কিন্তু ইসরায়েলি গোয়েন্দারা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ইরানের পরমাণু স্থাপনার মারাত্মক ক্ষতি হলেও তা পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি।

পত্রিকাটি উল্লেখ করেছে, ‘ওই দাবির পেছনে একটি ছোট সমস্যা ছিল। সেটি হলো, তথ্যটি সত্য ছিল না।’ স্যাটেলাইট ও ড্রোনের ছবি এবং গোপন তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ইরানের পরমাণু স্থাপনা পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি। তা সত্ত্বেও নেতানিয়াহুর কার্যালয় গোয়েন্দা সংস্থা ও সামরিক কর্মকর্তাদের ওপর চাপ অব্যাহত রাখে।

সেসময় একজন জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা কর্মকর্তা নথিতে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তার ঊর্ধ্বতনকে বলেন, ‘আমি এই নথিতে স্বাক্ষর করতে পারব না।’ তিনি যুক্তি দেন যে, ক্ষয়ক্ষতির পুরো তথ্য তাদের কাছে নেই এবং প্রমাণ ছাড়া এই দাবিতে স্বাক্ষর করলে তাদের নির্ভরযোগ্যতা নষ্ট হবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের পরমাণু শক্তি কমিশনের বিজ্ঞানীরাও এই দাবির বিরোধিতা করেন। কমিশনের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোশে এদ্রি জ্যেষ্ঠ পরমাণু বিজ্ঞানীদের কাছে খসড়াটি পাঠালে তারা এটিকে ‘গুরুতর বিকৃত’ খসড়া বলে প্রত্যাখ্যান করেন।

বিজ্ঞানীরা ফোরদো সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রটি চিরতরে অকেজো হয়ে যাওয়া এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বহু বছর পিছিয়ে যাওয়ার দাবিগুলো মানতে চাননি। পরবর্তীতে আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতা নথি তৈরি করা হয়। সেখানে বলা হয়, মার্কিন হামলায় ফোরদোর বড় ক্ষতি হয়েছে এবং পরমাণু কর্মসূচি পিছিয়ে গেছে। তবে কর্মসূচি পুরোপুরি শেষ হওয়ার কোনো দাবি করা হয়নি। চূড়ান্ত নথিতে বলা হয়, ইরান যেন তাদের হাতে থাকা সমৃদ্ধ পরমাণু উপাদান ব্যবহার করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।