ঢাকা ০২:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬

৭ অক্টোবরের হামলা: হামাসকে বুঝতে ইসরায়েলের মারাত্মক গোয়েন্দা ব্যর্থতা, তদন্ত প্রতিবেদনে চাঞ্চল্য

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের অপ্রত্যাশিত হামলার পূর্বে ইসরায়েলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং ব্যর্থতা নিয়ে একটি সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এই প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য: তথ্যের অভাব নয়, বরং দীর্ঘদিনের ভুল ধারণা এবং হামাসকে কার্যকরভাবে দমন করা হয়েছে এমন আত্মতুষ্টিই ছিল ইসরায়েলের এই বড় ব্যর্থতার মূল কারণ।

ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম ‘কান’-এ অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল রনি নুমা এই তদন্তের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন। তিনি ‘জেরিকো ওয়াল’ নামে পরিচিত হামাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা নথি পর্যালোচনার দায়িত্বে থাকা কমিটির প্রধান। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১৬ সাল থেকেই ইসরায়েলি গোয়েন্দারা গাজা উপত্যকা ঘিরে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে ফেলার বিষয়ে হামাসের পরিকল্পনার তথ্য সংগ্রহ করছিল। এমনকি ২০১৯ এবং ২০২২ সালেও এই তথ্যের হালনাগাদ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছিল। তবে তদন্তকারীরা দেখেছেন, এত সতর্কবার্তা থাকা সত্ত্বেও সেগুলোকে বাস্তবায়নের জন্য কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘জেরিকো ওয়াল’ নথিপত্র সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছেছিল। কিন্তু এটিকে হামাসের কোনো বড় কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে না দেখে বিচ্ছিন্ন তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। এর ফলস্বরূপ, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বড় ধরনের কোনো হামলা চালানোর সামর্থ্য বা ইচ্ছা হামাসের নেই—এমন একটি বদ্ধমূল ধারণা তৈরি হয়।

মেজর জেনারেল রনি নুমা গোয়েন্দা সংস্থায় প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি জানান, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মনে করেছিল, আরবি ভাষা বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন নেই, স্বয়ংক্রিয় অনুবাদ প্রযুক্তিতেই সব কাজ হয়ে যাবে। নুমার মতে, এটি ছিল একটি মৌলিক বিশ্লেষণাত্মক ভুল, যা হামাসের মানসিকতা এবং পরিকল্পনা বোঝার সক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করে দিয়েছিল।

তদন্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপসংহার হলো, ইসরায়েলের এই ব্যর্থতা তথ্য সংগ্রহের নয়, বরং সংগৃহীত তথ্যের সঠিক বিশ্লেষণের। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরায়েলি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় হামাসকে দমনের মধ্যে রাখা গেছে—এমন একটি ধারণা গভীরভাবে গেঁথে গিয়েছিল। এমনকি তিনজন সেনাপ্রধান এবং একাধিক গোয়েন্দা কর্মকর্তার পরিবর্তনের পরও এই ধারণায় কোনো পরিবর্তন আসেনি। পুরোনো কৌশলগত চিন্তায় ‘আবদ্ধ’ থাকার কারণে ইসরায়েলি সামরিক নেতারা হামাসের বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি সম্পর্কে জানার পরও হুমকির প্রকৃত মাত্রা উপলব্ধি করতে পারেননি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফিলিস্তিনি মুক্তি আন্দোলনের অগ্রসেনানী মাহের ইউনুসের জীবনাবসান

৭ অক্টোবরের হামলা: হামাসকে বুঝতে ইসরায়েলের মারাত্মক গোয়েন্দা ব্যর্থতা, তদন্ত প্রতিবেদনে চাঞ্চল্য

আপডেট সময় : ০১:০৬:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের অপ্রত্যাশিত হামলার পূর্বে ইসরায়েলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং ব্যর্থতা নিয়ে একটি সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এই প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য: তথ্যের অভাব নয়, বরং দীর্ঘদিনের ভুল ধারণা এবং হামাসকে কার্যকরভাবে দমন করা হয়েছে এমন আত্মতুষ্টিই ছিল ইসরায়েলের এই বড় ব্যর্থতার মূল কারণ।

ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম ‘কান’-এ অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল রনি নুমা এই তদন্তের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন। তিনি ‘জেরিকো ওয়াল’ নামে পরিচিত হামাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা নথি পর্যালোচনার দায়িত্বে থাকা কমিটির প্রধান। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১৬ সাল থেকেই ইসরায়েলি গোয়েন্দারা গাজা উপত্যকা ঘিরে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে ফেলার বিষয়ে হামাসের পরিকল্পনার তথ্য সংগ্রহ করছিল। এমনকি ২০১৯ এবং ২০২২ সালেও এই তথ্যের হালনাগাদ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছিল। তবে তদন্তকারীরা দেখেছেন, এত সতর্কবার্তা থাকা সত্ত্বেও সেগুলোকে বাস্তবায়নের জন্য কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘জেরিকো ওয়াল’ নথিপত্র সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছেছিল। কিন্তু এটিকে হামাসের কোনো বড় কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে না দেখে বিচ্ছিন্ন তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। এর ফলস্বরূপ, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বড় ধরনের কোনো হামলা চালানোর সামর্থ্য বা ইচ্ছা হামাসের নেই—এমন একটি বদ্ধমূল ধারণা তৈরি হয়।

মেজর জেনারেল রনি নুমা গোয়েন্দা সংস্থায় প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি জানান, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মনে করেছিল, আরবি ভাষা বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন নেই, স্বয়ংক্রিয় অনুবাদ প্রযুক্তিতেই সব কাজ হয়ে যাবে। নুমার মতে, এটি ছিল একটি মৌলিক বিশ্লেষণাত্মক ভুল, যা হামাসের মানসিকতা এবং পরিকল্পনা বোঝার সক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করে দিয়েছিল।

তদন্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপসংহার হলো, ইসরায়েলের এই ব্যর্থতা তথ্য সংগ্রহের নয়, বরং সংগৃহীত তথ্যের সঠিক বিশ্লেষণের। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরায়েলি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় হামাসকে দমনের মধ্যে রাখা গেছে—এমন একটি ধারণা গভীরভাবে গেঁথে গিয়েছিল। এমনকি তিনজন সেনাপ্রধান এবং একাধিক গোয়েন্দা কর্মকর্তার পরিবর্তনের পরও এই ধারণায় কোনো পরিবর্তন আসেনি। পুরোনো কৌশলগত চিন্তায় ‘আবদ্ধ’ থাকার কারণে ইসরায়েলি সামরিক নেতারা হামাসের বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি সম্পর্কে জানার পরও হুমকির প্রকৃত মাত্রা উপলব্ধি করতে পারেননি।