ঢাকা ১০:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

দীর্ঘদিনের বৈরিতা ভুলে কেন তুরস্কের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হচ্ছে ফ্রান্স?

দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক তিক্ততা কাটিয়ে তুরস্কের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক পুনর্গঠনের পথে হাঁটছে ফ্রান্স। ইউরোপের পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বিশেষ করে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে প্যারিস এখন আঙ্কারাকে তাদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য এক অপরিহার্য অংশীদার মনে করছে। সিরিয়া, আর্মেনিয়া এবং পূর্ব ভূমধ্যসাগর নিয়ে দুদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য থাকলেও বর্তমানে উভয় পক্ষই নমনীয় অবস্থান গ্রহণ করেছে।

সম্প্রতি কায়রোতে অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের আন্তরিক উপস্থিতি সম্পর্কের এই পরিবর্তনের বড় ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, রাশিয়ার সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্কের সাম্প্রতিক শীতলতাকে ফ্রান্স একটি ইতিবাচক সুযোগ হিসেবে দেখছে। বিশেষ করে আঙ্কারা কর্তৃক ইউক্রেনের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং মস্কোর ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্যারিসকে আশাবাদী করে তুলেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতেও দুই দেশের স্বার্থ এখন অনেক ক্ষেত্রে একবিন্দুতে মিলছে। সিরিয়া ও লেবানন ইস্যুতে ফ্রান্স ও তুরস্কের অভিন্ন অবস্থান এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রচেষ্টা দুদেশকে আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটনের ওপর ইউরোপের অতি-নির্ভরতা কমাতে ফ্রান্স এখন তুরস্ককে একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক মিত্র হিসেবে পাশে পেতে চায়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ধেয়ে আসছে সুপার টাইফুন ‘বাভি’, গুয়াম ও মারিয়ানায় জরুরি অবস্থা জারি

দীর্ঘদিনের বৈরিতা ভুলে কেন তুরস্কের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হচ্ছে ফ্রান্স?

আপডেট সময় : ০৯:০৫:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক তিক্ততা কাটিয়ে তুরস্কের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক পুনর্গঠনের পথে হাঁটছে ফ্রান্স। ইউরোপের পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বিশেষ করে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে প্যারিস এখন আঙ্কারাকে তাদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য এক অপরিহার্য অংশীদার মনে করছে। সিরিয়া, আর্মেনিয়া এবং পূর্ব ভূমধ্যসাগর নিয়ে দুদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য থাকলেও বর্তমানে উভয় পক্ষই নমনীয় অবস্থান গ্রহণ করেছে।

সম্প্রতি কায়রোতে অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের আন্তরিক উপস্থিতি সম্পর্কের এই পরিবর্তনের বড় ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, রাশিয়ার সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্কের সাম্প্রতিক শীতলতাকে ফ্রান্স একটি ইতিবাচক সুযোগ হিসেবে দেখছে। বিশেষ করে আঙ্কারা কর্তৃক ইউক্রেনের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং মস্কোর ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্যারিসকে আশাবাদী করে তুলেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতেও দুই দেশের স্বার্থ এখন অনেক ক্ষেত্রে একবিন্দুতে মিলছে। সিরিয়া ও লেবানন ইস্যুতে ফ্রান্স ও তুরস্কের অভিন্ন অবস্থান এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রচেষ্টা দুদেশকে আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটনের ওপর ইউরোপের অতি-নির্ভরতা কমাতে ফ্রান্স এখন তুরস্ককে একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক মিত্র হিসেবে পাশে পেতে চায়।