ঢাকা ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মরণে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে মোমবাতি প্রজ্বলন ও দ্রোহের গান; ছাত্রশক্তির আয়োজনে স্মরণ করা হলো কুবির শিক্ষার্থীদের ভূমিকা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সূচনার প্রথম দিনের স্মরণে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শাখা ছাত্রশক্তি মোমবাতি প্রজ্বলন ও দ্রোহের গানের আয়োজন করেছে। এই কর্মসূচিতে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা জুলাই আন্দোলনে আহত ও অংশগ্রহণকারী সকল সংগ্রামীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

শনিবার প্রথম প্রহরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক ও এনসিপির নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট তরিকুল ইসলাম, জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক নাবিদ নওরোজ শাহ এবং জাতীয় ছাত্রশক্তির কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগঠক নাঈম ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।

অ্যাডভোকেট তরিকুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের উদ্যোগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু হলেও আন্দোলনকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার সাহস যুগিয়েছিল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। দুই বছর আগে ৪ জুলাই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কার আন্দোলন ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমর্থনে রাজপথে নেমেছিলেন।”

তিনি আরও বলেন, “১১ জুলাই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর প্রথম পুলিশের গুলি চালানো হয়। এতে শিক্ষার্থীরা আক্রান্ত হলেও তারা দমে যাননি, বরং এই ঘটনাই আন্দোলনকে আরও বেগবান করে। পরবর্তীতে ‘বাংলা ব্লক’সহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং আন্দোলনের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পায়।”

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা অঞ্চল তত্ত্বাবধায়ক নাবিদ নওরোজ শাহ বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক আন্দোলন ছিল না; এটি সারা দেশের ছাত্র-জনতাকে সম্পৃক্ত করেছিল। সেই আন্দোলনে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ৪ জুলাই কুবির শিক্ষার্থীরা কোটবাড়ী বিশ্বরোড অবরোধের মাধ্যমে আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। বিশেষ করে ১১ জুলাইয়ের ঘটনাকে স্মরণ করতেই হয়, যা ইতোমধ্যে ‘কুমিল্লা প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান অনস্বীকার্য।”

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৪ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অংশ হিসেবে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রথমে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে তারা কোটবাড়ী বিশ্বরোডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক প্রায় তিন ঘণ্টা অবরোধ করে আন্দোলনের সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পড়াশোনার পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ ব্যবসা: স্বাবলম্বী হওয়ার পথে জামালপুরের তরুণ সৌরভ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মরণে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে মোমবাতি প্রজ্বলন ও দ্রোহের গান; ছাত্রশক্তির আয়োজনে স্মরণ করা হলো কুবির শিক্ষার্থীদের ভূমিকা

আপডেট সময় : ০৯:৩৭:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সূচনার প্রথম দিনের স্মরণে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শাখা ছাত্রশক্তি মোমবাতি প্রজ্বলন ও দ্রোহের গানের আয়োজন করেছে। এই কর্মসূচিতে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা জুলাই আন্দোলনে আহত ও অংশগ্রহণকারী সকল সংগ্রামীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

শনিবার প্রথম প্রহরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক ও এনসিপির নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট তরিকুল ইসলাম, জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক নাবিদ নওরোজ শাহ এবং জাতীয় ছাত্রশক্তির কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগঠক নাঈম ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।

অ্যাডভোকেট তরিকুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের উদ্যোগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু হলেও আন্দোলনকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার সাহস যুগিয়েছিল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। দুই বছর আগে ৪ জুলাই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কার আন্দোলন ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমর্থনে রাজপথে নেমেছিলেন।”

তিনি আরও বলেন, “১১ জুলাই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর প্রথম পুলিশের গুলি চালানো হয়। এতে শিক্ষার্থীরা আক্রান্ত হলেও তারা দমে যাননি, বরং এই ঘটনাই আন্দোলনকে আরও বেগবান করে। পরবর্তীতে ‘বাংলা ব্লক’সহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং আন্দোলনের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পায়।”

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা অঞ্চল তত্ত্বাবধায়ক নাবিদ নওরোজ শাহ বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক আন্দোলন ছিল না; এটি সারা দেশের ছাত্র-জনতাকে সম্পৃক্ত করেছিল। সেই আন্দোলনে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ৪ জুলাই কুবির শিক্ষার্থীরা কোটবাড়ী বিশ্বরোড অবরোধের মাধ্যমে আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। বিশেষ করে ১১ জুলাইয়ের ঘটনাকে স্মরণ করতেই হয়, যা ইতোমধ্যে ‘কুমিল্লা প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান অনস্বীকার্য।”

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৪ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অংশ হিসেবে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রথমে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে তারা কোটবাড়ী বিশ্বরোডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক প্রায় তিন ঘণ্টা অবরোধ করে আন্দোলনের সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।