ঢাকা ১০:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

দুবাইতে আটক বেনজীরকে ফেরানো নিয়ে সরকারের প্রচেষ্টা ও অনিশ্চয়তা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১৫:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

বিতর্কিত ও সমালোচিত পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে আটকের পর তাকে দেশে ফেরানোর জন্য জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। গত ১২ জুন দুবাই পুলিশের ইন্টারপোল শাখা তাকে আটকের বিষয়টি বাংলাদেশ পুলিশকে অবহিত করে। এরপর ১৯ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ২৪৪ পৃষ্ঠার একটি ডকুমেন্ট দুবাই পুলিশের কাছে পাঠানো হয়, যেখানে বেনজীরের বিরুদ্ধে থাকা বিভিন্ন অভিযোগ ও মামলার তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে, ডকুমেন্ট পাঠানোর পর সরকার আশানুরূপ সাড়া পায়নি বলে জানা গেছে।

সূত্রমতে, দুবাই পুলিশের কাছে পাঠানো নথিপত্রে বেনজীরের বিস্তারিত জীবনবৃত্তান্ত, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ছয়টি মামলার বিবরণ, একটি চলমান সাক্ষ্যপ্রমাণ, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ, গুমের অভিযোগ, অর্থ পাচার, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, আদালতের বিভিন্ন আদেশ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও, তার বিরুদ্ধে সংগৃহীত নানা তথ্য-উপাত্ত এবং দুদকের তদন্ত চলাকালীন দেশত্যাগের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। বেনজীরের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ১৭টি, দুদকের ছয়টি এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তিনটি পরোয়ানার কথাও নথিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকার আশা করেছিল যে, বেনজীর সংক্রান্ত ২৪৪ পৃষ্ঠার নথিপত্র পাওয়ার পর দুবাই পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেবে। কিন্তু ১২ দিন অতিবাহিত হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বেনজীরকে দেশে ফেরানোর আশা ক্ষীণ হয়ে আসছে। তবে, তাকে ফিরিয়ে আনতে দুবাই পুলিশসহ বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে সরকার। পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া ও জনসংযোগ) এএইচএম শাহদাত হোসাইন জানিয়েছেন, বেনজীরের নথিপত্র পুলিশ সদর দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং তাকে ফেরানোর বাকি কাজ সরকারের ওপর নির্ভরশীল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, কূটনৈতিক চ্যানেলেও যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং বেনজীরকে ফেরানো সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি আরও জানান যে, দুবাই কর্তৃপক্ষকে বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে যে, মানবতাবিরোধী অপরাধসহ বহু মামলায় অভিযুক্ত বেনজীরকে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার (ইন্টারপোল) মাধ্যমে ধরা প্রয়োজন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাবেক আইজিপি বেনজীরকে দেশে ফেরানো নিয়ে অনিশ্চয়তা: দুবাই পুলিশের সাড়া নেই

দুবাইতে আটক বেনজীরকে ফেরানো নিয়ে সরকারের প্রচেষ্টা ও অনিশ্চয়তা

আপডেট সময় : ০৯:১৫:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

বিতর্কিত ও সমালোচিত পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে আটকের পর তাকে দেশে ফেরানোর জন্য জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। গত ১২ জুন দুবাই পুলিশের ইন্টারপোল শাখা তাকে আটকের বিষয়টি বাংলাদেশ পুলিশকে অবহিত করে। এরপর ১৯ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ২৪৪ পৃষ্ঠার একটি ডকুমেন্ট দুবাই পুলিশের কাছে পাঠানো হয়, যেখানে বেনজীরের বিরুদ্ধে থাকা বিভিন্ন অভিযোগ ও মামলার তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে, ডকুমেন্ট পাঠানোর পর সরকার আশানুরূপ সাড়া পায়নি বলে জানা গেছে।

সূত্রমতে, দুবাই পুলিশের কাছে পাঠানো নথিপত্রে বেনজীরের বিস্তারিত জীবনবৃত্তান্ত, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ছয়টি মামলার বিবরণ, একটি চলমান সাক্ষ্যপ্রমাণ, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ, গুমের অভিযোগ, অর্থ পাচার, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, আদালতের বিভিন্ন আদেশ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও, তার বিরুদ্ধে সংগৃহীত নানা তথ্য-উপাত্ত এবং দুদকের তদন্ত চলাকালীন দেশত্যাগের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। বেনজীরের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ১৭টি, দুদকের ছয়টি এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তিনটি পরোয়ানার কথাও নথিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকার আশা করেছিল যে, বেনজীর সংক্রান্ত ২৪৪ পৃষ্ঠার নথিপত্র পাওয়ার পর দুবাই পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেবে। কিন্তু ১২ দিন অতিবাহিত হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বেনজীরকে দেশে ফেরানোর আশা ক্ষীণ হয়ে আসছে। তবে, তাকে ফিরিয়ে আনতে দুবাই পুলিশসহ বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে সরকার। পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া ও জনসংযোগ) এএইচএম শাহদাত হোসাইন জানিয়েছেন, বেনজীরের নথিপত্র পুলিশ সদর দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং তাকে ফেরানোর বাকি কাজ সরকারের ওপর নির্ভরশীল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, কূটনৈতিক চ্যানেলেও যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং বেনজীরকে ফেরানো সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি আরও জানান যে, দুবাই কর্তৃপক্ষকে বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে যে, মানবতাবিরোধী অপরাধসহ বহু মামলায় অভিযুক্ত বেনজীরকে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার (ইন্টারপোল) মাধ্যমে ধরা প্রয়োজন।