ঢাকা ০২:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

রাষ্ট্রকাঠামোয় জেঁকে বসা ‘তদবির-সংস্কৃতি’ ও অধিকারবঞ্চিত নাগরিক

একটি আধুনিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইনের শাসনই শেষ কথা হওয়ার কথা থাকলেও বাংলাদেশের বাস্তবতায় ‘তদবির-সংস্কৃতি’ এক অমোঘ সত্য হিসেবে দাঁড়িয়েছে। যখন কোনো নাগরিক মনে করেন যে মেধা বা যোগ্যতা নয়, বরং সুপারিশ বা রাজনৈতিক পরিচয়ই সফলতার চাবিকাঠি, তখন রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। বছরের পর বছর ধরে এই অদৃশ্য ক্ষমতা কাঠামো সাধারণ মানুষের অধিকার হরণ করে চলেছে।

তদবির শব্দটির আভিধানিক অর্থ ইতিবাচক হলেও আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে এটি এখন প্রভাব খাটানো বা নিয়ম লঙ্ঘনের সমার্থক হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিয়োগ, বদলি, টেন্ডার থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক সেবা পেতেও মানুষ এখন প্রথমেই একজন ‘প্রভাবশালী’ ব্যক্তির খোঁজ করেন। এই অন্যায্য সংস্কৃতি কেবল প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে না, বরং সাধারণ মানুষের মাঝে রাষ্ট্র সম্পর্কে গভীর হতাশা ও আস্থার সংকট তৈরি করছে।

দীর্ঘদিনের জবাবদিহিতার অভাব এবং রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার ফলে এই সংস্কৃতি আজ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। এমনকি রাষ্ট্রের উচ্চপর্যায় থেকেও বিভিন্ন সময়ে এই ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। একটি বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণে এই তদবির-সংস্কৃতি উপড়ে ফেলা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় রাষ্ট্রের দৃশ্যমান উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর নিয়ে আল্টিমেটাম: ৫ আগস্টের মধ্যে না খুললে জনগণই খুলে দেবে

রাষ্ট্রকাঠামোয় জেঁকে বসা ‘তদবির-সংস্কৃতি’ ও অধিকারবঞ্চিত নাগরিক

আপডেট সময় : ১২:৪৮:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

একটি আধুনিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইনের শাসনই শেষ কথা হওয়ার কথা থাকলেও বাংলাদেশের বাস্তবতায় ‘তদবির-সংস্কৃতি’ এক অমোঘ সত্য হিসেবে দাঁড়িয়েছে। যখন কোনো নাগরিক মনে করেন যে মেধা বা যোগ্যতা নয়, বরং সুপারিশ বা রাজনৈতিক পরিচয়ই সফলতার চাবিকাঠি, তখন রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। বছরের পর বছর ধরে এই অদৃশ্য ক্ষমতা কাঠামো সাধারণ মানুষের অধিকার হরণ করে চলেছে।

তদবির শব্দটির আভিধানিক অর্থ ইতিবাচক হলেও আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে এটি এখন প্রভাব খাটানো বা নিয়ম লঙ্ঘনের সমার্থক হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিয়োগ, বদলি, টেন্ডার থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক সেবা পেতেও মানুষ এখন প্রথমেই একজন ‘প্রভাবশালী’ ব্যক্তির খোঁজ করেন। এই অন্যায্য সংস্কৃতি কেবল প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে না, বরং সাধারণ মানুষের মাঝে রাষ্ট্র সম্পর্কে গভীর হতাশা ও আস্থার সংকট তৈরি করছে।

দীর্ঘদিনের জবাবদিহিতার অভাব এবং রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার ফলে এই সংস্কৃতি আজ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। এমনকি রাষ্ট্রের উচ্চপর্যায় থেকেও বিভিন্ন সময়ে এই ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। একটি বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণে এই তদবির-সংস্কৃতি উপড়ে ফেলা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় রাষ্ট্রের দৃশ্যমান উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।