ঢাকা ০৫:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ১৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন

অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আরও ছয়জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। এ নিয়ে মোট ২৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হলো। বুধবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে সাক্ষীরা তাদের জবানবন্দি দেন। তবে, আসামি পলাতক থাকায় তাদের জেরা করা সম্ভব হয়নি।

তাদের সাক্ষ্য শেষে আদালত আগামী ১৬ জুলাই মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষের আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। যেসব সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জের জেলা রেজিস্ট্রার মো. আব্দুল হাফিজ, চাঁদপুর হাজীগঞ্জের সাব-রেজিস্ট্রার এস এম মোস্তাফিজুর রহমান, নওগার মহাদেবপুরের সাব-রেজিস্ট্রার মো. রফিকুল ইসলাম, ভোলার চরফ্যাশনের সাব-রেজিস্ট্রার কাওসার খান, বন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আব্দুস সালাম এবং বাড্ডার সাব-রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর আলম।

গত ৮ মার্চ মামলার চার্জশিট আমলে নিয়ে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। এরপর ৩ মে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর। দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে বেনজীরের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে গত বছরের ৩০ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বেনজীর আহমেদ তার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদ ঘোষণা করেছিলেন। তবে, তদন্তে তার নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর এবং ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা মোট ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের ইঙ্গিত দেয়। বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে পাওয়া গেছে ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৮ টাকা। ব্যয় বাদে নিট সঞ্চয় দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৫ টাকা। ফলে, বেনজীর আহমেদ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে। তিনি এসব অর্থের অবৈধ উৎস, প্রকৃতি ও মালিকানা গোপন করে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং যৌথ মূলধনী প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ, স্থানান্তর ও রূপান্তর করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৭ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান নেবে ৭২৫ অফিসার, আবেদন করুন দ্রুত

অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ১৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন

আপডেট সময় : ০৪:১০:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আরও ছয়জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। এ নিয়ে মোট ২৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হলো। বুধবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে সাক্ষীরা তাদের জবানবন্দি দেন। তবে, আসামি পলাতক থাকায় তাদের জেরা করা সম্ভব হয়নি।

তাদের সাক্ষ্য শেষে আদালত আগামী ১৬ জুলাই মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষের আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। যেসব সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জের জেলা রেজিস্ট্রার মো. আব্দুল হাফিজ, চাঁদপুর হাজীগঞ্জের সাব-রেজিস্ট্রার এস এম মোস্তাফিজুর রহমান, নওগার মহাদেবপুরের সাব-রেজিস্ট্রার মো. রফিকুল ইসলাম, ভোলার চরফ্যাশনের সাব-রেজিস্ট্রার কাওসার খান, বন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আব্দুস সালাম এবং বাড্ডার সাব-রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর আলম।

গত ৮ মার্চ মামলার চার্জশিট আমলে নিয়ে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। এরপর ৩ মে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর। দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে বেনজীরের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে গত বছরের ৩০ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বেনজীর আহমেদ তার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদ ঘোষণা করেছিলেন। তবে, তদন্তে তার নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর এবং ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা মোট ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের ইঙ্গিত দেয়। বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে পাওয়া গেছে ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৮ টাকা। ব্যয় বাদে নিট সঞ্চয় দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৫ টাকা। ফলে, বেনজীর আহমেদ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে। তিনি এসব অর্থের অবৈধ উৎস, প্রকৃতি ও মালিকানা গোপন করে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং যৌথ মূলধনী প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ, স্থানান্তর ও রূপান্তর করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।