ঢাকা ০৫:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপের নিচে ৪৮ ঘণ্টা থেকেও আশা হারাননি তরুণী

ভেনেজুয়েলায় সম্প্রতি আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা আটকে থাকার পরও ২৩ বছর বয়সী আন্দ্রেয়া ক্যানোনিকো আশা হারাননি। অবশেষে উদ্ধারকারীরা তাকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে, তার ভাই ও ফুফু এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শহর লা গুইরার লস কোরালেস এলাকার বাসিন্দা আন্দ্রেয়া বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, ‘আমি কখনো আশা হারাইনি।’ গত সপ্তাহে দেশটিতে রিখটার স্কেলে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে, তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

হাতে ব্যান্ডেজ বাঁধা আন্দ্রেয়া জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার সময় তিনি নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি নিজেকে বলেছিলাম, এখন একটি ভয়াবহ দুর্যোগের মধ্যে আছি। নিশ্চয়ই আবারও কম্পন হবে। আমি শান্ত থাকব, উদ্বিগ্ন হব না।’ প্রায় ছয় মিটার ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়লেও তিনি বসে থাকতে পেরেছিলেন। তার সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন সময় জানতে এবং কিছুটা আলো পেতে সহায়ক হয়েছিল।

আন্দ্রেয়া আরও জানান, তার চেয়ে কিছুটা উপরে আটকে থাকা এক ব্যক্তির সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করতে সক্ষম হন। ওই ব্যক্তি উদ্ধার হওয়ার পর উদ্ধারকর্মীদের জানান যে নিচে আরও একজন জীবিত রয়েছেন। আন্দ্রেয়া বলেন, ‘আমার ওপরে একটি ফাঁকা জায়গা ছিল, যেটি দিয়ে আমি ওপরে উঠতে পেরেছিলাম। এরপর উদ্ধারকারীরা যে পথ তৈরি করছিলেন সেখানে পৌঁছে ধীরে ধীরে ওপরে উঠি। তারা আমাকে টেনে তুললে আমি বেরিয়ে আসতে সক্ষম হই।’

এদিকে, একই এলাকায় ধ্বংসস্তূপের মধ্যে জীবিত মানুষের সন্ধানে নিরলসভাবে কাজ করছেন ২৬ বছর বয়সী সাবেক খনিশ্রমিক মোইসেস ফারামায়া। তিনি চিৎকার করে বলেন, ‘এখানে কেউ কি জীবিত আছেন?’ মোইসেস জানান, তিনি এখন পর্যন্ত লা গুইরায় ১৬ জনকে জীবিত এবং ২২টি লাশ উদ্ধার করেছেন। কর্তৃপক্ষ এলাকাটিকে ‘দুর্যোগ অঞ্চল’ ঘোষণা করেছে। মোইসেস তার খনিতে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে শুধু একটি গাঁইতি ও কোদাল ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৭ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান নেবে ৭২৫ অফিসার, আবেদন করুন দ্রুত

ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপের নিচে ৪৮ ঘণ্টা থেকেও আশা হারাননি তরুণী

আপডেট সময় : ০৪:১০:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

ভেনেজুয়েলায় সম্প্রতি আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা আটকে থাকার পরও ২৩ বছর বয়সী আন্দ্রেয়া ক্যানোনিকো আশা হারাননি। অবশেষে উদ্ধারকারীরা তাকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে, তার ভাই ও ফুফু এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শহর লা গুইরার লস কোরালেস এলাকার বাসিন্দা আন্দ্রেয়া বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, ‘আমি কখনো আশা হারাইনি।’ গত সপ্তাহে দেশটিতে রিখটার স্কেলে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে, তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

হাতে ব্যান্ডেজ বাঁধা আন্দ্রেয়া জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার সময় তিনি নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি নিজেকে বলেছিলাম, এখন একটি ভয়াবহ দুর্যোগের মধ্যে আছি। নিশ্চয়ই আবারও কম্পন হবে। আমি শান্ত থাকব, উদ্বিগ্ন হব না।’ প্রায় ছয় মিটার ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়লেও তিনি বসে থাকতে পেরেছিলেন। তার সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন সময় জানতে এবং কিছুটা আলো পেতে সহায়ক হয়েছিল।

আন্দ্রেয়া আরও জানান, তার চেয়ে কিছুটা উপরে আটকে থাকা এক ব্যক্তির সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করতে সক্ষম হন। ওই ব্যক্তি উদ্ধার হওয়ার পর উদ্ধারকর্মীদের জানান যে নিচে আরও একজন জীবিত রয়েছেন। আন্দ্রেয়া বলেন, ‘আমার ওপরে একটি ফাঁকা জায়গা ছিল, যেটি দিয়ে আমি ওপরে উঠতে পেরেছিলাম। এরপর উদ্ধারকারীরা যে পথ তৈরি করছিলেন সেখানে পৌঁছে ধীরে ধীরে ওপরে উঠি। তারা আমাকে টেনে তুললে আমি বেরিয়ে আসতে সক্ষম হই।’

এদিকে, একই এলাকায় ধ্বংসস্তূপের মধ্যে জীবিত মানুষের সন্ধানে নিরলসভাবে কাজ করছেন ২৬ বছর বয়সী সাবেক খনিশ্রমিক মোইসেস ফারামায়া। তিনি চিৎকার করে বলেন, ‘এখানে কেউ কি জীবিত আছেন?’ মোইসেস জানান, তিনি এখন পর্যন্ত লা গুইরায় ১৬ জনকে জীবিত এবং ২২টি লাশ উদ্ধার করেছেন। কর্তৃপক্ষ এলাকাটিকে ‘দুর্যোগ অঞ্চল’ ঘোষণা করেছে। মোইসেস তার খনিতে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে শুধু একটি গাঁইতি ও কোদাল ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন।